ঢাকা , মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

ভোলাহাটে রাতের অন্ধকারে প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে সরকারি পুকুর কেটে মাটি বিক্রির অভিযোগ, নেপথ্যে ইউপি সদস্য

রনি রজব:

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে রাতের অন্ধকারে সরকারি পুকুর কেটে অবৈধভাবে মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্র প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে গভীর রাতে এ কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। দিনের বেলায় প্রশাসনের অভিযানে মাটি কাটার এক্সাভেটর মেশিনের ব্যাটারি খুলে নেওয়ার পর থেকে রাতেই মাটি খনন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে বারবার এমন অবৈধ মাটি খননের অভিযোগ উঠলেও স্থানীয় প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, ভোলাহাট উপজেলার জামবাড়িয়া ইউনিয়নের আদমপুর এলাকায় একটি সরকারি পুকুর থেকে মাটি কেটে পাশের ইটভাটাগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক। স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই অবৈধভাবে মাটি খনন ও বিক্রির কাজ চলছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, ভোলাহাট উপজেলার জামবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. ইস্রাফিলের নেতৃত্বে মাটি খনন ও বিক্রির কার্যক্রম চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় আলেক ও আওয়ামী লীগ নেতা ইউসুফসহ একটি প্রভাবশালী মহল এতে জড়িত বলে স্থানীয়দের দাবি।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, আদমপুর এলাকার প্রায় ৫ একরের একটি সরকারি জলাশয় গত কয়েকদিন ধরে খনন করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের বাধার মুখে দিনের বেলার কাজ বন্ধ রেখে গত তিন দিন ধরে রাতের অন্ধকারে মাটি কেটে ইটভাটায় পরিবহন করা হচ্ছে। এতে লাখ লাখ টাকার মাটি বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা মেসবাউল আহমেদ, সিফাত আলীসহ কয়েকজন জানান, প্রথমে দিনের বেলায় মাটি কেটে ইটভাটায় নেওয়া হলেও স্থানীয়দের বাধার কারণে এখন রাতের অন্ধকারে কাজ চলছে। সরকারি পুকুরের মাটি বিক্রি করে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য করছে একটি চক্র। অথচ এতে ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন এলাকার হাজারো মানুষ।

 

তারা আরও জানান, মাটি পরিবহনের কারণে রাতভর শব্দে ঘুমাতে পারেন না স্থানীয়রা। পাশাপাশি কাঁচা মাটি পড়ে নষ্ট হচ্ছে পিচঢালা সড়ক। এ বিষয়ে একাধিকবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তারা। একবার এক্সাভেটরের ব্যাটারি খুলে নেওয়া হলেও পরবর্তীতে আর কোনো কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয় প্রশাসন ও এসিল্যান্ড অফিসকে ম্যানেজ করেই এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

 

তবে জামবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. ইস্রাফিল মুঠোফোনে মাটি খনন ও বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কথা বলতে চান এবং প্রতিবেদককে চা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানান।

 

জামবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফাজ উদ্দিন পানু মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ শোনার পর পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।

 

এ বিষয়ে ভোলাহাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ
error: Content is protected !!

ভোলাহাটে রাতের অন্ধকারে প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে সরকারি পুকুর কেটে মাটি বিক্রির অভিযোগ, নেপথ্যে ইউপি সদস্য

আপডেট টাইম : ০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
রনি রজব, ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি :

রনি রজব:

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে রাতের অন্ধকারে সরকারি পুকুর কেটে অবৈধভাবে মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্র প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে গভীর রাতে এ কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। দিনের বেলায় প্রশাসনের অভিযানে মাটি কাটার এক্সাভেটর মেশিনের ব্যাটারি খুলে নেওয়ার পর থেকে রাতেই মাটি খনন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে বারবার এমন অবৈধ মাটি খননের অভিযোগ উঠলেও স্থানীয় প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, ভোলাহাট উপজেলার জামবাড়িয়া ইউনিয়নের আদমপুর এলাকায় একটি সরকারি পুকুর থেকে মাটি কেটে পাশের ইটভাটাগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক। স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই অবৈধভাবে মাটি খনন ও বিক্রির কাজ চলছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, ভোলাহাট উপজেলার জামবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. ইস্রাফিলের নেতৃত্বে মাটি খনন ও বিক্রির কার্যক্রম চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় আলেক ও আওয়ামী লীগ নেতা ইউসুফসহ একটি প্রভাবশালী মহল এতে জড়িত বলে স্থানীয়দের দাবি।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, আদমপুর এলাকার প্রায় ৫ একরের একটি সরকারি জলাশয় গত কয়েকদিন ধরে খনন করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের বাধার মুখে দিনের বেলার কাজ বন্ধ রেখে গত তিন দিন ধরে রাতের অন্ধকারে মাটি কেটে ইটভাটায় পরিবহন করা হচ্ছে। এতে লাখ লাখ টাকার মাটি বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা মেসবাউল আহমেদ, সিফাত আলীসহ কয়েকজন জানান, প্রথমে দিনের বেলায় মাটি কেটে ইটভাটায় নেওয়া হলেও স্থানীয়দের বাধার কারণে এখন রাতের অন্ধকারে কাজ চলছে। সরকারি পুকুরের মাটি বিক্রি করে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য করছে একটি চক্র। অথচ এতে ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন এলাকার হাজারো মানুষ।

 

তারা আরও জানান, মাটি পরিবহনের কারণে রাতভর শব্দে ঘুমাতে পারেন না স্থানীয়রা। পাশাপাশি কাঁচা মাটি পড়ে নষ্ট হচ্ছে পিচঢালা সড়ক। এ বিষয়ে একাধিকবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তারা। একবার এক্সাভেটরের ব্যাটারি খুলে নেওয়া হলেও পরবর্তীতে আর কোনো কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয় প্রশাসন ও এসিল্যান্ড অফিসকে ম্যানেজ করেই এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

 

তবে জামবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. ইস্রাফিল মুঠোফোনে মাটি খনন ও বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কথা বলতে চান এবং প্রতিবেদককে চা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানান।

 

জামবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফাজ উদ্দিন পানু মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ শোনার পর পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।

 

এ বিষয়ে ভোলাহাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।