ঢাকা , শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে Logo নরসিংদীর শিবপুরে ২৬ মামলার আসামিসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার Logo খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে পালিত হবে আগামীকাল Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার Logo সকল রাজনৈক দল, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণী পেশার মানুষের সেবা করতে বিএনপি সরকার ওয়াদাবদ্ধ Logo সেনবাগে কাওমী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ঈদ উপহার বিতরণ করলেন লায়ন শাহাদাত হোসেন Logo সিংড়ায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১০ Logo কুষ্টিয়ায় মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে বসতঘরে আগুন Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত Logo ফরিদপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ: ভূ-রাজনৈতিক দাবার ছক – ইরান কি ভিন্ন পরিণতির পথে?

-আমানুল্লাহ ইসলাম নাইম; শিক্ষানবিশ আইনজীবী, ঢাকা জজ কোর্ট

আমানুল্লাহ ইসলাম নাইম

শিক্ষানবিশ আইনজীবী, ঢাকা জজ কোর্ট

 

একবিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকে এসে আজ মধ্যপ্রাচ্য এক মহাকাব্যিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে আমেরিকার ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ও ইসরায়েলের ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’ এর মাধ্যমে ইরানের অস্তিত্বে আঘাত করার রণকৌশল, অন্যদিকে আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর ইরানকে একটি ‘নিষ্ক্রিয় দ্বীপে’ পরিণত করার নীরব কূটনীতি—সব মিলিয়ে তেহরানের ভবিষ্যৎ আজ তিনটি চরম পরিণতির দোলাচলে ঘুরপাক খাচ্ছে। ইরান কি কিউবার মতো পঙ্গু কিন্তু নিয়ন্ত্রিত হবে, সিরিয়ার মতো গৃহযুদ্ধে চূর্ণ-বিচূর্ণ হবে, নাকি উত্তর কোরিয়ার মতো আরও বেশি আগ্রাসী ও পারমাণবিক শক্তিধর একটি সামরিক দুর্গে রূপান্তরিত হবে?

 

 

ইসরায়েল যখন ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটিয়ে দেশটিকে একটি অন্তহীন বিশৃঙ্খলার (সিরিয়া মডেল) দিকে ঠেলে দিতে চাইছে, আরব রাষ্ট্রগুলো তখন কৌশলী অবস্থানে। সৌদি আরব বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো ইরানের ডানা ছেঁটে তাকে বিচ্ছিন্ন ও দুর্বল (কিউবা মডেল) দেখতে চায় ঠিকই, কিন্তু তারা ইসরায়েলি একচ্ছত্র আধিপত্যের দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি সম্পর্কেও সমান সচেতন।

 

সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা লুকিয়ে আছে ইরানের অভ্যন্তরে। আইআরজিসি-র কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং মোজতবা খামেনীর সম্ভাব্য উত্তরাধিকার কি ইরানের রাষ্ট্রকাঠামোকে ভাঙন থেকে রক্ষা করবে, নাকি তীব্র বহিঃচাপ দেশটিকে একটি অপ্রতিরোধ্য এবং চরম বিপজ্জনক ‘গ্যারিসন স্টেটে’ (উত্তর কোরিয়া মডেল) পরিণত করবে?

 

এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে, আজকের মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কেবল সীমানা রক্ষার লড়াই নয়, বরং একটি নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার এক নির্মম পরীক্ষা—যেখানে প্রতিটি ভুল পদক্ষেপ পুরো বিশ্বকে এক অভাবনীয় সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে।

 

 

ইরানে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায়, ইসরাইল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে ক্রমশ উত্তেজনা বাড়ছে। ইরানের উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলার অর্থ হচ্ছে সবকিছু দ্রুত স্বাভাবিক হচ্ছে না। আরব উপসাগরীয় দেশগুলো ক্রমশ ইরানকে কার্যকরভাবে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার দিকে ঝুঁকছে, কিউবার মতো দুর্বল ও অনমনীয় কিন্তু নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্র হিসেবে।

 

অন্যদিকে, ইসরায়েল দেশটিকে পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিতে চায়, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে সামরিকভাবে এমনভাবে দুর্বল করে দিতে চায়, যতক্ষণ না এটি গৃহযুদ্ধকালীন সিরিয়ার মত হয়, যেখানে শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং এর আঞ্চলিক সক্ষমতা ধ্বংস হয়ে গেছে, জীবনযাত্রার মান তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

 

মতপার্থক্য সত্ত্বেও, উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংসের দিকে না ঠেলে দিয়ে তার শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করতে চায়। কাতার, ওমান এবং কুয়েত নীরবে যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তির জন্য চাপ দিচ্ছে; অন্যদিকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইন ইঙ্গিত দিয়েছে, যদি ইরানের সামরিক সক্ষমতার উপর দীর্ঘস্থায়ী সীমাবদ্ধতা তৈরি করতে পারে, তবে তারা সংঘাতের আরও বৃদ্ধি মেনে নিতে প্রস্তুত।

 

 

ইসরায়েলের হিসেব সম্পূর্ণ আলাদা: তারা চায় ইরানের শাসনব্যবস্থাকে রাষ্ট্রের ধ্বংসের পর্যায়ে দুর্বল করে দিতে সেটা বিশৃঙ্খলা, বিভাজন, বা একক শক্তি হিসেবে ইরানের পতন বা যাই হোক। কিছু ইসরায়েলি কৌশলবিদ এটাকেই আদর্শ পরিণতি হিসেবে দেখছেন।

 

তবে বাস্তবতা হচ্ছে, চাওয়াগুলোর কোনোটিই হয়তো আশানুরূপ ফলাফল দেবে না। ইরানের পরিণতি কিউবা বা সিরিয়ার মতো না হয়ে বরং উত্তর কোরিয়ার মতো হতে পারে—একটি সামরিক রাষ্ট্র যা কম বিপজ্জনক না হয়ে বরং আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে টিকে আছে। এই ত্রিমুখী পরিণতির সমাধান মূলত নির্ভর করছে সব পক্ষের ওপর, যাদের হিসাব-নিকাশ ভিন্ন এবং আত্মবিশ্বাস তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে।

 

 

ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সাথে যুদ্ধের জন্য উস্কানি দিয়ে আসছিল। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ বহু বছর ধরে পরিকল্পনাধীন একটি কৌশলগত পরিণতি, যা মার্কিন সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে শুরু হয়েছে।

 

ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সা’আর বলেছেন, এই যুদ্ধের লক্ষ্য হলো “দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের জন্য ইরানের থেকে অস্তিত্বের হুমকি দূর করা,” তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে “এর পরিণতি হিসেবে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনও হতে পারে।”

 

 

ইরানের কৌশলগত পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আরব জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক বিরোধিতা রয়েছে। কিন্তু ইসরায়েলি আধিপত্যের বিরোধিতাও সমানভাবে বিদ্যমান, এবং তা কাঠামোগত ও গভীরভাবে প্রোথিত। উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো ইসরায়েলের আধিপত্যকে তাদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা স্বার্থের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে দেখে।

 

 

ইরান শেষ পর্যন্ত কিউবার মিসাইল সংকটের মতো অবরোধ-নির্ভর পরিস্থিতির দিকে যাবে, নাকি সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের মতো ভাঙনের পথে যাবে তা মূলত অভ্যন্তরীণ সংহতির উপর নির্ভর করছে। বর্তমানে সেই সংহতি এখনো টিকে আছে।

 

ইরান রাষ্ট্র হিসেবে বলপ্রয়োগের ওপর প্রায় একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। মোজতবা খামেনীর সম্ভাব্য উত্তরাধিকার রাষ্ট্রের ক্ষমতাকে কেন্দ্রীভূত করে এবং আইআরজিসি-এর প্রভাবকে শক্তিশালী করে। তবে বড় অনিশ্চয়তা রয়েছে; এই কেন্দ্রীকরণ কি দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকবে, নাকি শীর্ষস্তরে দুর্বলতা বাড়াবে?

 

 

যদিও ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের কোনো সমীকরণ দীর্ঘস্থায়ী শান্তির বিকল্প হতে পারে না। একদিন হয়তো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো সংহতি গড়ে উঠবে, যেখানে সমরাস্ত্রের চেয়ে কূটনীতিই স্থিতিশীলতার মূল কারিগর হবে। যুদ্ধের এই দীর্ঘ ধ্বংসলীলা শেষে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এখন সময়ের দাবি।


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

error: Content is protected !!

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ: ভূ-রাজনৈতিক দাবার ছক – ইরান কি ভিন্ন পরিণতির পথে?

আপডেট টাইম : ১২:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক :

আমানুল্লাহ ইসলাম নাইম

শিক্ষানবিশ আইনজীবী, ঢাকা জজ কোর্ট

 

একবিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকে এসে আজ মধ্যপ্রাচ্য এক মহাকাব্যিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে আমেরিকার ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ও ইসরায়েলের ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’ এর মাধ্যমে ইরানের অস্তিত্বে আঘাত করার রণকৌশল, অন্যদিকে আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর ইরানকে একটি ‘নিষ্ক্রিয় দ্বীপে’ পরিণত করার নীরব কূটনীতি—সব মিলিয়ে তেহরানের ভবিষ্যৎ আজ তিনটি চরম পরিণতির দোলাচলে ঘুরপাক খাচ্ছে। ইরান কি কিউবার মতো পঙ্গু কিন্তু নিয়ন্ত্রিত হবে, সিরিয়ার মতো গৃহযুদ্ধে চূর্ণ-বিচূর্ণ হবে, নাকি উত্তর কোরিয়ার মতো আরও বেশি আগ্রাসী ও পারমাণবিক শক্তিধর একটি সামরিক দুর্গে রূপান্তরিত হবে?

 

 

ইসরায়েল যখন ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটিয়ে দেশটিকে একটি অন্তহীন বিশৃঙ্খলার (সিরিয়া মডেল) দিকে ঠেলে দিতে চাইছে, আরব রাষ্ট্রগুলো তখন কৌশলী অবস্থানে। সৌদি আরব বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো ইরানের ডানা ছেঁটে তাকে বিচ্ছিন্ন ও দুর্বল (কিউবা মডেল) দেখতে চায় ঠিকই, কিন্তু তারা ইসরায়েলি একচ্ছত্র আধিপত্যের দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি সম্পর্কেও সমান সচেতন।

 

সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা লুকিয়ে আছে ইরানের অভ্যন্তরে। আইআরজিসি-র কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং মোজতবা খামেনীর সম্ভাব্য উত্তরাধিকার কি ইরানের রাষ্ট্রকাঠামোকে ভাঙন থেকে রক্ষা করবে, নাকি তীব্র বহিঃচাপ দেশটিকে একটি অপ্রতিরোধ্য এবং চরম বিপজ্জনক ‘গ্যারিসন স্টেটে’ (উত্তর কোরিয়া মডেল) পরিণত করবে?

 

এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে, আজকের মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কেবল সীমানা রক্ষার লড়াই নয়, বরং একটি নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার এক নির্মম পরীক্ষা—যেখানে প্রতিটি ভুল পদক্ষেপ পুরো বিশ্বকে এক অভাবনীয় সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে।

 

 

ইরানে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায়, ইসরাইল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে ক্রমশ উত্তেজনা বাড়ছে। ইরানের উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলার অর্থ হচ্ছে সবকিছু দ্রুত স্বাভাবিক হচ্ছে না। আরব উপসাগরীয় দেশগুলো ক্রমশ ইরানকে কার্যকরভাবে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার দিকে ঝুঁকছে, কিউবার মতো দুর্বল ও অনমনীয় কিন্তু নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্র হিসেবে।

 

অন্যদিকে, ইসরায়েল দেশটিকে পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিতে চায়, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে সামরিকভাবে এমনভাবে দুর্বল করে দিতে চায়, যতক্ষণ না এটি গৃহযুদ্ধকালীন সিরিয়ার মত হয়, যেখানে শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং এর আঞ্চলিক সক্ষমতা ধ্বংস হয়ে গেছে, জীবনযাত্রার মান তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

 

মতপার্থক্য সত্ত্বেও, উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংসের দিকে না ঠেলে দিয়ে তার শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করতে চায়। কাতার, ওমান এবং কুয়েত নীরবে যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তির জন্য চাপ দিচ্ছে; অন্যদিকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইন ইঙ্গিত দিয়েছে, যদি ইরানের সামরিক সক্ষমতার উপর দীর্ঘস্থায়ী সীমাবদ্ধতা তৈরি করতে পারে, তবে তারা সংঘাতের আরও বৃদ্ধি মেনে নিতে প্রস্তুত।

 

 

ইসরায়েলের হিসেব সম্পূর্ণ আলাদা: তারা চায় ইরানের শাসনব্যবস্থাকে রাষ্ট্রের ধ্বংসের পর্যায়ে দুর্বল করে দিতে সেটা বিশৃঙ্খলা, বিভাজন, বা একক শক্তি হিসেবে ইরানের পতন বা যাই হোক। কিছু ইসরায়েলি কৌশলবিদ এটাকেই আদর্শ পরিণতি হিসেবে দেখছেন।

 

তবে বাস্তবতা হচ্ছে, চাওয়াগুলোর কোনোটিই হয়তো আশানুরূপ ফলাফল দেবে না। ইরানের পরিণতি কিউবা বা সিরিয়ার মতো না হয়ে বরং উত্তর কোরিয়ার মতো হতে পারে—একটি সামরিক রাষ্ট্র যা কম বিপজ্জনক না হয়ে বরং আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে টিকে আছে। এই ত্রিমুখী পরিণতির সমাধান মূলত নির্ভর করছে সব পক্ষের ওপর, যাদের হিসাব-নিকাশ ভিন্ন এবং আত্মবিশ্বাস তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে।

 

 

ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সাথে যুদ্ধের জন্য উস্কানি দিয়ে আসছিল। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ বহু বছর ধরে পরিকল্পনাধীন একটি কৌশলগত পরিণতি, যা মার্কিন সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে শুরু হয়েছে।

 

ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সা’আর বলেছেন, এই যুদ্ধের লক্ষ্য হলো “দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের জন্য ইরানের থেকে অস্তিত্বের হুমকি দূর করা,” তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে “এর পরিণতি হিসেবে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনও হতে পারে।”

 

 

ইরানের কৌশলগত পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আরব জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক বিরোধিতা রয়েছে। কিন্তু ইসরায়েলি আধিপত্যের বিরোধিতাও সমানভাবে বিদ্যমান, এবং তা কাঠামোগত ও গভীরভাবে প্রোথিত। উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো ইসরায়েলের আধিপত্যকে তাদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা স্বার্থের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে দেখে।

 

 

ইরান শেষ পর্যন্ত কিউবার মিসাইল সংকটের মতো অবরোধ-নির্ভর পরিস্থিতির দিকে যাবে, নাকি সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের মতো ভাঙনের পথে যাবে তা মূলত অভ্যন্তরীণ সংহতির উপর নির্ভর করছে। বর্তমানে সেই সংহতি এখনো টিকে আছে।

 

ইরান রাষ্ট্র হিসেবে বলপ্রয়োগের ওপর প্রায় একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। মোজতবা খামেনীর সম্ভাব্য উত্তরাধিকার রাষ্ট্রের ক্ষমতাকে কেন্দ্রীভূত করে এবং আইআরজিসি-এর প্রভাবকে শক্তিশালী করে। তবে বড় অনিশ্চয়তা রয়েছে; এই কেন্দ্রীকরণ কি দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকবে, নাকি শীর্ষস্তরে দুর্বলতা বাড়াবে?

 

 

যদিও ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের কোনো সমীকরণ দীর্ঘস্থায়ী শান্তির বিকল্প হতে পারে না। একদিন হয়তো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো সংহতি গড়ে উঠবে, যেখানে সমরাস্ত্রের চেয়ে কূটনীতিই স্থিতিশীলতার মূল কারিগর হবে। যুদ্ধের এই দীর্ঘ ধ্বংসলীলা শেষে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এখন সময়ের দাবি।


প্রিন্ট