ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ফরিদপুরে ট্রিপল মার্ডারঃ ১০ ঘণ্টায় গ্রেফতার প্রধান আসামি, উদ্ধার কোদাল Logo ফরিদপুরে ‘শ্মশান বন্ধু’ কানু সেন অনেকটাই সুস্থ Logo বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে Logo নরসিংদীর শিবপুরে ২৬ মামলার আসামিসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার Logo খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে পালিত হবে আগামীকাল Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার Logo সকল রাজনৈক দল, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণী পেশার মানুষের সেবা করতে বিএনপি সরকার ওয়াদাবদ্ধ Logo সেনবাগে কাওমী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ঈদ উপহার বিতরণ করলেন লায়ন শাহাদাত হোসেন Logo সিংড়ায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১০ Logo কুষ্টিয়ায় মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে বসতঘরে আগুন
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

ফরিদপুরে ট্রিপল মার্ডারঃ ১০ ঘণ্টায় গ্রেফতার প্রধান আসামি, উদ্ধার কোদাল

মানিক কুমার দাসঃ

 

ফরিদপুরে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডার মামলার প্রধান আসামিকে ঘটনার মাত্র ১০ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদালও উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন তথ্য জানান ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

 

তিনি বলেন ‌ ফরিদপুর সদর উপজেলার কোতয়ালী থানাধীন আলীয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামে গতকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। রিকশাচালক কাবুল হোসেন (৪৯) বাড়ি থেকে বের হয়ে খুশির বাজারের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে রিয়াজুল মোল্লার সঙ্গে দেখা হলে তারা একসঙ্গে হারুন মোল্লার বাড়ির সামনে পৌঁছান। এ সময় ঘরের ভেতর থেকে চিৎকার শুনে স্থানীয়দের নিয়ে তারা ভেতরে প্রবেশ করেন।

 

ঘরে ঢুকে তারা দেখতে পান, আকাশ মোল্লা (২৮) তার দাদি আমিনা বেগম (৮০) ও ফুপু রাহেলা বেগম (৫৫)-কে কোদাল দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করছে। কাবুল হোসেন বাধা দিলে তাকেও কোদাল দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই কাবুল হোসেন, আমিনা বেগম ও রাহেলা বেগম মারা যান।

 

এ ঘটনায় রিয়াজুল মোল্লা (৩৬) ও আর্জিনা বেগম (৪৫) গুরুতর আহত হন। তাদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

ঘটনার পরপরই আসামি পালিয়ে গেলে কোতয়ালী থানা পুলিশ, ডিবি ও র‍্যাবের যৌথ অভিযানে তার বসতবাড়ির অদূরে লিয়াকতের কলাবাগান এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত কোদাল উদ্ধার করা হয়।

 

পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে। স্থানীয়দের ধারণা, সে কিছুদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

 

এ ঘটনায় নিহত কাবুল হোসেনের স্ত্রী কোহিনুর বেগম বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার নম্বর ৭৯, তারিখ ২৮ এপ্রিল ২০২৬; ধারা ৩০২/৩২৬/৩০৭/৩৪ পেনাল কোড।

 

ফরিদপুর জেলা পুলিশ জানায়, দ্রুত পদক্ষেপের ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রধান আসামিকে গ্রেফতার ও আলামত উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

 

প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমির হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামসুল আজমসহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

বিশ্বাসপাড়া-ভাঙ্গারপাড়ায় নিজ অর্থায়নে রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ

error: Content is protected !!

ফরিদপুরে ট্রিপল মার্ডারঃ ১০ ঘণ্টায় গ্রেফতার প্রধান আসামি, উদ্ধার কোদাল

আপডেট টাইম : ৩ ঘন্টা আগে
মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি :

মানিক কুমার দাসঃ

 

ফরিদপুরে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডার মামলার প্রধান আসামিকে ঘটনার মাত্র ১০ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদালও উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন তথ্য জানান ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

 

তিনি বলেন ‌ ফরিদপুর সদর উপজেলার কোতয়ালী থানাধীন আলীয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামে গতকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। রিকশাচালক কাবুল হোসেন (৪৯) বাড়ি থেকে বের হয়ে খুশির বাজারের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে রিয়াজুল মোল্লার সঙ্গে দেখা হলে তারা একসঙ্গে হারুন মোল্লার বাড়ির সামনে পৌঁছান। এ সময় ঘরের ভেতর থেকে চিৎকার শুনে স্থানীয়দের নিয়ে তারা ভেতরে প্রবেশ করেন।

 

ঘরে ঢুকে তারা দেখতে পান, আকাশ মোল্লা (২৮) তার দাদি আমিনা বেগম (৮০) ও ফুপু রাহেলা বেগম (৫৫)-কে কোদাল দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করছে। কাবুল হোসেন বাধা দিলে তাকেও কোদাল দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই কাবুল হোসেন, আমিনা বেগম ও রাহেলা বেগম মারা যান।

 

এ ঘটনায় রিয়াজুল মোল্লা (৩৬) ও আর্জিনা বেগম (৪৫) গুরুতর আহত হন। তাদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

ঘটনার পরপরই আসামি পালিয়ে গেলে কোতয়ালী থানা পুলিশ, ডিবি ও র‍্যাবের যৌথ অভিযানে তার বসতবাড়ির অদূরে লিয়াকতের কলাবাগান এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত কোদাল উদ্ধার করা হয়।

 

পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে। স্থানীয়দের ধারণা, সে কিছুদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

 

এ ঘটনায় নিহত কাবুল হোসেনের স্ত্রী কোহিনুর বেগম বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার নম্বর ৭৯, তারিখ ২৮ এপ্রিল ২০২৬; ধারা ৩০২/৩২৬/৩০৭/৩৪ পেনাল কোড।

 

ফরিদপুর জেলা পুলিশ জানায়, দ্রুত পদক্ষেপের ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রধান আসামিকে গ্রেফতার ও আলামত উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

 

প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমির হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামসুল আজমসহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।


প্রিন্ট