ঢাকা , বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

বাংলাদেশের আকাশে রহস্যময় আলোর ঝলকানি ঘিরে যা জানা যাচ্ছে

রনি আহমেদ রাজুঃ

 

বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় শুক্রবার সন্ধ্যায় দেখা যাওয়া রহস্যময় আলোর ঝলক নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি কর্তৃপক্ষ। তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনগুলো বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি সম্ভাবনা সামনে আসছে।

 

সবচেয়ে আলোচিত সম্ভাবনাটি হলো বঙ্গোপসাগরে ভারতের কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা মহাকাশ-সম্পর্কিত পরীক্ষামূলক কার্যক্রম। ভারত ৬–৯ মে পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের বিশাল আকাশসীমাজুড়ে NOTAM (Notice to Airmen) জারি করেছিল, যা সাধারণত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বা সামরিক মহড়ার সময় করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এটিকে সম্ভাব্য অগ্নি সিরিজের দীর্ঘ-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, (The Times of India)।

 

বাংলাদেশ, পূর্ব ভারত ও বঙ্গোপসাগর উপকূলজুড়ে একই সময়ে আলোর রেখা দেখা যাওয়ার ঘটনাও এই ধারণাকে জোরদার করছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে আকাশে সর্পিল বা দীর্ঘ আলোকরেখা, ধোঁয়ার মতো ছড়িয়ে পড়া আলোর মেঘ এবং দ্রুতগতির উজ্জ্বল বস্তু দেখা গেছে যা উচ্চমাত্রার রকেট বা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সময় অনেক সময় দেখা যায়। বিভিন্ন ভারতীয় অনলাইন কমিউনিটি ও প্রত্যক্ষদর্শীর পোস্টেও এটিকে সম্ভাব্য মিসাইল টেস্ট বলে ধারণা করা হয়েছে, যদিও এগুলো আনুষ্ঠানিক সূত্র নয়, (Reddit)।

 

আরেকটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হলো স্পেস জেলিফিশ বা rocket exhaust plume phenomenon। সন্ধ্যা বা গোধূলির সময় কোনো রকেট উচ্চ বায়ুমণ্ডলে উঠলে তার জ্বালানির ধোঁয়া সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে বিশাল উজ্জ্বল আলোর মেঘ তৈরি করতে পারে। সম্প্রতি ফিলিপাইনে এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে আকাশে রহস্যময় আলোর ব্যাখ্যা হিসেবে রকেট উৎক্ষেপণকে দায়ী করেছিল দেশটির মহাকাশ সংস্থা,(GMA Network)।

 

এখন পর্যন্ত যা নিশ্চিতভাবে বলা যায় ঘটনাটি একাধিক জেলায় একই সময়ে দেখা গেছে। এটি কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ছিল এবং চলমান আলোর রেখার মতো দেখাচ্ছিল। একই সময়ে বঙ্গোপসাগরে ভারতের NOTAM সক্রিয় ছিল। তবে বাংলাদেশ বা ভারত কোনো দেশই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বলেনি যে এটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ছিল।

 

তাই বর্তমানে সবচেয়ে যৌক্তিক ধারণা হচ্ছে এটি কোনো উচ্চ-উচ্চতার রকেট/ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম বা মহাকাশ-সম্পর্কিত পরীক্ষার ফলে তৈরি হওয়া আলোকপ্রভাব। তবে চূড়ান্ত নিশ্চিত তথ্যের জন্য সরকারি বা বৈজ্ঞানিক সংস্থার আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষা করতে হবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেকি ধাঁচে শাড়ি পরে উৎসবের দিনগুলোয় যেভাবে সেজেছিলেন স্বস্তিকা মুখার্জি

error: Content is protected !!

বাংলাদেশের আকাশে রহস্যময় আলোর ঝলকানি ঘিরে যা জানা যাচ্ছে

আপডেট টাইম : ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
রনি আহমেদ রাজু, নিজস্ব প্রতিনিধি :

রনি আহমেদ রাজুঃ

 

বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় শুক্রবার সন্ধ্যায় দেখা যাওয়া রহস্যময় আলোর ঝলক নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি কর্তৃপক্ষ। তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনগুলো বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি সম্ভাবনা সামনে আসছে।

 

সবচেয়ে আলোচিত সম্ভাবনাটি হলো বঙ্গোপসাগরে ভারতের কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা মহাকাশ-সম্পর্কিত পরীক্ষামূলক কার্যক্রম। ভারত ৬–৯ মে পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের বিশাল আকাশসীমাজুড়ে NOTAM (Notice to Airmen) জারি করেছিল, যা সাধারণত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বা সামরিক মহড়ার সময় করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এটিকে সম্ভাব্য অগ্নি সিরিজের দীর্ঘ-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, (The Times of India)।

 

বাংলাদেশ, পূর্ব ভারত ও বঙ্গোপসাগর উপকূলজুড়ে একই সময়ে আলোর রেখা দেখা যাওয়ার ঘটনাও এই ধারণাকে জোরদার করছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে আকাশে সর্পিল বা দীর্ঘ আলোকরেখা, ধোঁয়ার মতো ছড়িয়ে পড়া আলোর মেঘ এবং দ্রুতগতির উজ্জ্বল বস্তু দেখা গেছে যা উচ্চমাত্রার রকেট বা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সময় অনেক সময় দেখা যায়। বিভিন্ন ভারতীয় অনলাইন কমিউনিটি ও প্রত্যক্ষদর্শীর পোস্টেও এটিকে সম্ভাব্য মিসাইল টেস্ট বলে ধারণা করা হয়েছে, যদিও এগুলো আনুষ্ঠানিক সূত্র নয়, (Reddit)।

 

আরেকটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হলো স্পেস জেলিফিশ বা rocket exhaust plume phenomenon। সন্ধ্যা বা গোধূলির সময় কোনো রকেট উচ্চ বায়ুমণ্ডলে উঠলে তার জ্বালানির ধোঁয়া সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে বিশাল উজ্জ্বল আলোর মেঘ তৈরি করতে পারে। সম্প্রতি ফিলিপাইনে এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে আকাশে রহস্যময় আলোর ব্যাখ্যা হিসেবে রকেট উৎক্ষেপণকে দায়ী করেছিল দেশটির মহাকাশ সংস্থা,(GMA Network)।

 

এখন পর্যন্ত যা নিশ্চিতভাবে বলা যায় ঘটনাটি একাধিক জেলায় একই সময়ে দেখা গেছে। এটি কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ছিল এবং চলমান আলোর রেখার মতো দেখাচ্ছিল। একই সময়ে বঙ্গোপসাগরে ভারতের NOTAM সক্রিয় ছিল। তবে বাংলাদেশ বা ভারত কোনো দেশই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বলেনি যে এটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ছিল।

 

তাই বর্তমানে সবচেয়ে যৌক্তিক ধারণা হচ্ছে এটি কোনো উচ্চ-উচ্চতার রকেট/ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম বা মহাকাশ-সম্পর্কিত পরীক্ষার ফলে তৈরি হওয়া আলোকপ্রভাব। তবে চূড়ান্ত নিশ্চিত তথ্যের জন্য সরকারি বা বৈজ্ঞানিক সংস্থার আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষা করতে হবে।