ঢাকা , সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

র‍্যালি, আলোচনা সভা, ঋণ বিতরণ ও গ্রামীণ উন্নয়নে গুরুত্বারোপ

সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

“উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সোমবার (৬ জুলাই) সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)-এর উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা, ঋণের চেক বিতরণ, গাছের চারা বিতরণ, সফল উদ্যোক্তাদের সম্মাননা এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

রাজশাহীর তানোরে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, সমবায়ভিত্তিক কার্যক্রম, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আত্মনির্ভরশীলতার মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। পরে পল্লী উন্নয়ন সমিতির সদস্যদের মধ্যে ঋণের চেক ও বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ এবং ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

 

রাজশাহীর বাঘায়ও জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, গ্রামের উন্নয়নই দেশের উন্নয়নের ভিত্তি। তিনি গ্রামীণ উন্নয়ন, সমবায়ভিত্তিক কর্মসূচি এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

ফরিদপুরের নগরকান্দায় উপজেলা প্রশাসন ও বিআরডিবির আয়োজনে আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন ও সমবায়ভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে পল্লী অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ চলছে। সভায় সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সমবায় সমিতির সদস্য ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

 

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, পল্লী উন্নয়ন দেশের সার্বিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

 

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় উপজেলা বিআরডিবির আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, “গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে।” পরে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের মধ্যে স্বল্প সুদে ২২ লাখ টাকার ঋণ সহায়তা এবং গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

 

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল উদ্যোক্তা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, ক্ষুদ্র ঋণ ব্যবস্থাপনা ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে অবদানের জন্য একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়।

 

সারাদেশে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সমবায়ভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত

error: Content is protected !!

র‍্যালি, আলোচনা সভা, ঋণ বিতরণ ও গ্রামীণ উন্নয়নে গুরুত্বারোপ

সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত

আপডেট টাইম : এক ঘন্টা আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

নিজস্ব প্রতিবেদক:

“উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সোমবার (৬ জুলাই) সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)-এর উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা, ঋণের চেক বিতরণ, গাছের চারা বিতরণ, সফল উদ্যোক্তাদের সম্মাননা এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

রাজশাহীর তানোরে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, সমবায়ভিত্তিক কার্যক্রম, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আত্মনির্ভরশীলতার মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। পরে পল্লী উন্নয়ন সমিতির সদস্যদের মধ্যে ঋণের চেক ও বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ এবং ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

 

রাজশাহীর বাঘায়ও জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, গ্রামের উন্নয়নই দেশের উন্নয়নের ভিত্তি। তিনি গ্রামীণ উন্নয়ন, সমবায়ভিত্তিক কর্মসূচি এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

ফরিদপুরের নগরকান্দায় উপজেলা প্রশাসন ও বিআরডিবির আয়োজনে আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন ও সমবায়ভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে পল্লী অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ চলছে। সভায় সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সমবায় সমিতির সদস্য ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

 

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, পল্লী উন্নয়ন দেশের সার্বিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

 

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় উপজেলা বিআরডিবির আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, “গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে।” পরে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের মধ্যে স্বল্প সুদে ২২ লাখ টাকার ঋণ সহায়তা এবং গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

 

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল উদ্যোক্তা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, ক্ষুদ্র ঋণ ব্যবস্থাপনা ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে অবদানের জন্য একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়।

 

সারাদেশে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সমবায়ভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।