এখলাস উদ্দীন:
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ৫ নম্বর গোগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ ফিরে পেলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হজরত আলী। নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ও সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালত ২০২১ সালের নির্বাচনের ফলাফল ও গেজেট বাতিল করে হজরত আলীকে ইউনিয়ন পরিষদের বৈধ চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
আদালতের সংক্ষিপ্ত রায়ে বলা হয়, ২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বর গোগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মো. মজিবুর রহমানকে বিজয়ী ঘোষণা করে যে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছিল, তা বাতিল করা হলো। একই সঙ্গে মামলার দরখাস্তকারী মো. হজরত আলীকে ৫ নম্বর গোগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের বৈধ চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। আদালতের আদেশের কপি নির্বাচন কমিশনে পাঠানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে গোগ্রাম ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন হজরত আলী। অপরদিকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন মজিবুর রহমান।
নির্বাচনে ইউনিয়নের ১০টি কেন্দ্রে মোট ১৯ হাজার ৮৮টি ভোট পড়ে। এর মধ্যে আনারস প্রতীকে হজরত আলী পান ৯ হাজার ৮০১ ভোট এবং নৌকা প্রতীকে মজিবুর রহমান পান ৯ হাজার ২৮৭ ভোট। ফলে প্রাপ্ত ভোটের হিসাবে হজরত আলী ৫১৪ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন।
তবে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হন হজরত আলী। তার অভিযোগ, ফরাদপুর সবুজ সংঘ ও পাবলিক লাইব্রেরি কেন্দ্রে আনারস প্রতীকে তিনি ১ হাজার ২৭০ ভোট এবং নৌকা প্রতীকে মজিবুর রহমান ৬৩৫ ভোট পেয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে ওই কেন্দ্রের ফলাফলে পরিবর্তন এনে হজরত আলীর ভোট ৯৭০ এবং মজিবুর রহমানের ভোট ৯৩৫ দেখানো হয়।
হজরত আলীর অভিযোগ, তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী ও উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মশিউর রহমানের যোগসাজশে ফলাফল পরিবর্তনের ঘটনা ঘটে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ফলাফল নিয়ে আপত্তি জানিয়ে হজরত আলী প্রথমে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। পরবর্তীতে হাইকোর্টের নির্দেশে বিষয়টি রাজশাহী নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে গড়ায়। দীর্ঘ শুনানি ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত হজরত আলীর পক্ষে রায় দেন।
রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করে হজরত আলীর আইনজীবী আব্দুল হামিদ বলেন, “কারচুপির মাধ্যমে জনগণের রায় ছিনতাই করা হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে হজরত আলীকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন।”
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব আশরাফুজ্জামান মল্লিক বলেন, “দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এলাকাবাসী অত্যন্ত আনন্দিত।”
চেয়ারম্যান পদ ফিরে পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় মো. হজরত আলী বলেন, “আমি এর আগেও জনগণের ভালোবাসায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলাম। ২০২১ সালে গভীর রাতে ফল পরিবর্তন করে আমাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আদালতের মাধ্যমে আমি আমার এবং জনগণের অধিকার ফিরে পেয়েছি। এই রায়ে আমি ও আমার ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ।”
দীর্ঘ পাঁচ বছর পর আদালতের রায়ে গোগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদ নিয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এখন আদালতের আদেশের পর নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী কার্যক্রমের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব 
এখলাস উদ্দীন, গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি 

























