ঢাকা , রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

কুষ্টিয়া বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষঃ ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণ

মোঃ জিয়াউর রহমানঃ

 

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ চলাকালে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি করে পরপর ৪টি ককটেল বিস্ফোরণ ও কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করা হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

 

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের হোসেনাবাদ বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

আহতরা হলেন, মন্ডল গ্রুপের প্রধান ওয়াসিম মন্ডল ও তুষার মন্ডল (সুমন) এবং সরদার গ্রুপের প্রধান লিটন সরদার ও কামাল সরদার। তাদের মধ্যে তিনজনই গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হোসেনাবাদ এলাকায় মন্ডল ও সরদার পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধ মীমাংসার জন্য কয়েক দফা সালিশ-বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

পরিস্থিতির অবনতি হলে স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লার ছোট ভাই ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শামীম মোল্লা গত বৃহস্পতিবার দুই পক্ষকে নিয়ে সালিশ-বৈঠকে বসেন।

 

তবে ওই বৈঠকেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সন্ধ্যায় হোসেনাবাদ বাজারে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

 

স্থানীয়দের ভাষ্য, এ সময় দুই পক্ষের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে পরপর ৪টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে এবং কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে। সংঘর্ষে আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

 

সেখানে চিকিৎসক তুষার মন্ডল (সুমন) এবং লিটন সরদার ও কামাল সরদারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়ায় রেফার্ড করেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে সংঘর্ষের কারণে প্রাগপুর-ভেড়ামারা প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সংঘর্ষের পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

 

উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শামীম মোল্লা বলেন, তারা সবাই আমাদের দলের লোকজন। তাদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল।।

 

গত বৃহস্পতিবার আমি দুই পক্ষকে নিয়ে বসেছিলাম। তবে সালিশ বৈঠকে পুরোপুরি সমাধান হয়নি। আজ শুনেছি, তারা দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়েছে এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন।

 

দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা কে বলেন, হোসেনাবাদ বাজারে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে।

বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনায় জড়িতদের এখনো আটক করা সম্ভব হয়নি। তারা সবাই পলাতক রয়েছে। আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছি।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পরিচালক আতিক সজলের ‘ডা: আপদ’ নাটক, একদিনেই ১০ লাখ প্লাস ভিউ

error: Content is protected !!

কুষ্টিয়া বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষঃ ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণ

আপডেট টাইম : ১২ ঘন্টা আগে
মোঃ জিয়াউর রহমান, দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি :

মোঃ জিয়াউর রহমানঃ

 

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ চলাকালে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি করে পরপর ৪টি ককটেল বিস্ফোরণ ও কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করা হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

 

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের হোসেনাবাদ বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

আহতরা হলেন, মন্ডল গ্রুপের প্রধান ওয়াসিম মন্ডল ও তুষার মন্ডল (সুমন) এবং সরদার গ্রুপের প্রধান লিটন সরদার ও কামাল সরদার। তাদের মধ্যে তিনজনই গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হোসেনাবাদ এলাকায় মন্ডল ও সরদার পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধ মীমাংসার জন্য কয়েক দফা সালিশ-বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

পরিস্থিতির অবনতি হলে স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লার ছোট ভাই ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শামীম মোল্লা গত বৃহস্পতিবার দুই পক্ষকে নিয়ে সালিশ-বৈঠকে বসেন।

 

তবে ওই বৈঠকেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সন্ধ্যায় হোসেনাবাদ বাজারে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

 

স্থানীয়দের ভাষ্য, এ সময় দুই পক্ষের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে পরপর ৪টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে এবং কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে। সংঘর্ষে আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

 

সেখানে চিকিৎসক তুষার মন্ডল (সুমন) এবং লিটন সরদার ও কামাল সরদারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়ায় রেফার্ড করেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে সংঘর্ষের কারণে প্রাগপুর-ভেড়ামারা প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সংঘর্ষের পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

 

উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শামীম মোল্লা বলেন, তারা সবাই আমাদের দলের লোকজন। তাদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল।।

 

গত বৃহস্পতিবার আমি দুই পক্ষকে নিয়ে বসেছিলাম। তবে সালিশ বৈঠকে পুরোপুরি সমাধান হয়নি। আজ শুনেছি, তারা দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়েছে এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন।

 

দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা কে বলেন, হোসেনাবাদ বাজারে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে।

বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনায় জড়িতদের এখনো আটক করা সম্ভব হয়নি। তারা সবাই পলাতক রয়েছে। আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছি।