জাতীয় ডেস্ক: সকল ধর্মের মানুষের জন্য সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে একটি জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সম্প্রতি শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে বঙ্গভবনে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ধর্ম যার যার হলেও রাষ্ট্র সকলের এবং নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার সবার সমান। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই দেশের মাটি ও বাতাসে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সবাই সমানভাবে বসবাস করছে এবং সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে সমান অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রদান করেছে।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান যুদ্ধ ও সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্ব যখন অশান্তিতে জর্জরিত, তখন বাংলাদেশের মানুষের শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব উদযাপন করা একটি বড় অর্জন। এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিই আমাদের মূল শক্তি ও অস্তিত্বের প্রতীক, যা যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, মাঝে মাঝে গুজব ও অপপ্রচারের মাধ্যমে সমাজে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হয় এবং এসব অপশক্তির বিরুদ্ধে সকলকে আপসহীন ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে দেশের তরুণ প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় এবং মানবিকতার পক্ষে সবসময় সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দেশ হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, হাজার বছর ধরে এ ভূখণ্ডে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন বজায় রেখে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সকল গণতান্ত্রিক সংগ্রামে সব ধর্মের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণই আমাদের জাতীয় ঐক্যের মূল ভিত্তি গড়ে তুলেছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, ধর্ম, বর্ণ বা গোষ্ঠীগত পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক বৈষম্য কিংবা নিপীড়নের শিকার হবেন তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সকল মানুষ যেন নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারে, সেজন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, পূজা উদ্যাপন পরিষদ এবং মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং রাষ্ট্রপতিও অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম ছাড়াও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী এবং সরকারের উচ্চপদস্থ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। পরিশেষে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সকলের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণের আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন 
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : 





















