বাদশাহ মিয়া:
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বামনডাঙ্গা থেকে বাঘাদিয়া সড়কের পাশে লাগানো চাম্বল ও রেইনট্রি গাছগুলো এখন মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব গাছের কারণে মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছে ৩২টি পরিবার। রাস্তার পাশে লাগানো গাছ ভেঙে পড়ে প্রায় পাঁচ বছর ধরে দুর্ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি ঝড়-বৃষ্টির কারণে আতঙ্কে রয়েছে রাস্তার পাশের বাসিন্দারা এবং এ সড়কে চলাচলকারী পথচারী ও যানবাহনের চালকরা।
জানা গেছে, এলজিইডির নিয়ন্ত্রণাধীন বামনডাঙ্গা থেকে বাঘাদিয়া সড়কের দুই পাশে ২০০৩ সালে একটি সমিতির মাধ্যমে কয়েক হাজার চাম্বল ও রেইনট্রি গাছ লাগানো হয়। দীর্ঘদিন আগে রোপণ করা এসব গাছ বর্তমানে অতিরিক্ত লম্বা হয়ে গেছে এবং অনেক গাছ ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বা মৃতপ্রায় অবস্থায় রয়েছে। সমিতির পক্ষ থেকে গাছ কাটার কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় সেগুলো এখন ঝুঁকিপূর্ণ ও মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সামান্য বাতাসেই গাছ ও ডালপালা ভেঙে পড়ছে। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে দুই গ্রামের অন্তত ৩২টি পরিবার। একই সঙ্গে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সড়কটি ব্যবহার করছেন যানবাহন চালক ও পথচারীরা।
ওই সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী অটোরিকশা চালক করিম বলেন, “আমরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করি। কয়েকদিন আগে ঝড়ে একটি গাছের ডাল ভেঙে আমার ওপর পড়ে। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যাই।”
বামনডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা জুলহাস শেখ বলেন, “আমার নতুন ঘরের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে। অল্পের জন্য আমার স্ত্রী ও মেয়ে রক্ষা পায়। এতে প্রায় ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”
গোহালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, “গাছগুলো এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার গাছ কর্তন সংক্রান্ত আইন ও নীতিমালা করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিলে আমরা সহযোগিতা করব।”
মুকসুদপুর উপজেলা প্রকৌশলী বিএম মাহমুদুল হাসান বলেন, “গাছগুলো এখন ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবির বলেন, “ভুক্তভোগীদের আবেদন পেয়েছি। আবেদনটি উপজেলা বন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি 
বাদশাহ মিয়া, মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি 



















