ঢাকা , বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

দৌলতপুরে জোড়া লাগা যমজ দুই বোনের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

ইসমাইল হোসেন বাবু:

 

জন্মের পর থেকেই বুক থেকে পেট পর্যন্ত একে অপরের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত যমজ দুই বোন। একজন কাঁদলে অন্যজনও কেঁদে ওঠে, একজন সামান্য নড়াচড়া করলেই ব্যথায় কুঁকড়ে যায় আরেকজন। পৃথিবীর আলো দেখার পর থেকে যেন আলাদা কোনো অস্তিত্বই নেই জয়নব ও উম্মে কুলসুম নামে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকা দুই শিশুর।

 

অথচ আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের আলাদা করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু সেই সম্ভাবনা জয়নব ও উম্মে কুলসুমের বাবা-মায়ের কাছে এখনো স্বপ্ন ও কল্পনাতীত। দরিদ্র পরিবার হওয়ায় সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নই সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের সীমান্তসংলগ্ন বিলগাথুয়া মধ্যপাড়া গ্রামের নাহিদ হাসান (২৬)-এর স্ত্রী সানজিদা ইয়াছমিন মুক্তা (২২) গত ৪ মে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জোড়া লাগা যমজ কন্যাশিশুর জন্ম দেন। পরবর্তীতে তাদের নাম রাখা হয় জয়নব ও উম্মে কুলসুম।

 

এমন যমজ সন্তান জন্মের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশু দুটিকে আলাদা করার জন্য একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, নিয়মিত চিকিৎসা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রাখা প্রয়োজন। জন্মের তিন মাস পূর্ণ হলে আবার ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শও দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে এলেও দারিদ্র্য ও চরম আর্থিক সংকটের কারণে শিশু দুটিকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠেনি অসহায় পরিবারটির।

 

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় চার বছর আগে একই এলাকার মামুন হোসেনের ছেলে নাহিদ হাসানের সঙ্গে একই গ্রামের মখলেছুর রহমানের মেয়ে সানজিদা ইয়াছমিন মুক্তার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনের দুই বছর পর তাদের ঘরে জন্ম নেয় নোমান নামে এক ছেলে, যার বর্তমান বয়স দুই বছর। এরপর দ্বিতীয়বার গর্ভধারণের সময় আল্ট্রাসনোগ্রামে ধরা পড়ে, গর্ভে থাকা যমজ সন্তান দুটি একে অপরের সঙ্গে জোড়া লাগানো অবস্থায় রয়েছে।

 

সিজারিয়ান অপারেশন সম্ভব না হওয়ায় প্রথমে কুষ্টিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেও ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় পরে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হলে সেখানেই জন্ম হয় জোড়া লাগা যমজ শিশুর।

 

একসময় রাজধানীর একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন শিশুদের বাবা নাহিদ হাসান। বর্তমানে তিনি এলাকার একটি স্থানীয় দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন। মাসে মাত্র ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা আয়ে কোনোমতে চলে পাঁচ সদস্যের সংসার। এরই মধ্যে যমজ সন্তানদের দুধ, ওষুধ ও চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে ধার-দেনায় জর্জরিত হয়ে পড়েছেন তিনি।

 

জানতে চাইলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাহিদ হাসান বলেন, “ডাক্তাররা আশা দিয়েছেন, আমার মেয়েদের আলাদা করা সম্ভব। কিন্তু সেই চিকিৎসার খরচ বহন করার সামর্থ্য আমার নেই। এখন তাদের দুধ কেনার টাকাই জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সিজারিয়ান অপারেশনের জন্যও অনেক ঋণ করতে হয়েছে। ওদের আলাদাভাবে কোলে নেওয়া যায় না। একজন একটু নড়লেই অন্যজন কষ্ট পায়। নিয়মিত ঢাকায় যেতে হবে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে, কিন্তু যাতায়াতের খরচই জোগাড় করতে পারছি না।”

 

শিশুদের দাদি নার্গিছ পারভীন বলেন, “দুই শিশুর জন্য প্রতিদিন দেড় থেকে দুই প্যাকেট তরল দুধ লাগে। সেই দুধ কেনার টাকাও আমাদের হাতে থাকে না। বৌমার সিজারের জন্য অনেক টাকা ধার করেছি। এখন সরকার, সমাজের বিত্তবান মানুষ ও মানবিক সংগঠনগুলো এগিয়ে এলে হয়তো আমার নাতনিরা নতুন জীবন পাবে।”

 

স্থানীয় চিকিৎসকদের মতে, জোড়া লাগা যমজ শিশু জন্ম নেওয়া অত্যন্ত বিরল একটি জন্মগত অবস্থা। তবে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের আলাদা করার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি, উন্নত চিকিৎসা সুবিধা এবং অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রাখা প্রয়োজন।

 

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালাম বলেন, “শিশু দুটিকে আলাদা করতে অনেক অর্থের প্রয়োজন, যেটা দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। তাই সমাজের বিত্তবান ও সরকারের সুদৃষ্টি পেলে যমজ বোনদের আলাদা করা সম্ভব হবে।”

 

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, “চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাদের দ্রুত পরবর্তী চিকিৎসা জরুরি। যথাসময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে থাকলে শিশু দুটির চিকিৎসার সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হবে।”

 

এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, “প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া গ্রামে বিরল যমজ শিশুর জন্মের বিষয়টি শুনেছি। পরিবারটি সমাজসেবা কার্যালয়ে আবেদন করলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনুকূলে সমাজসেবা অধিদপ্তরের রোগী কল্যাণ সমিতির মাধ্যমে সহযোগিতা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি উপজেলা সমাজকল্যাণ পরিষদের মাধ্যমেও আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।”

 

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য গুহ বলেন, “যমজ শিশুর চিকিৎসায় উপজেলা সমাজসেবা দপ্তরের মাধ্যমে দ্রুত আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়েও আমরা কাজ করছি।”

 

দৈন্যতা যাদের নিত্যদিনের সঙ্গী, সেই পরিবারের স্বপ্ন—‘জয়নব ও উম্মে কুলসুম’ একদিন আলাদা হয়ে স্বাভাবিক জীবন পাবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের পথ রুদ্ধ হয়ে আছে দারিদ্র্যের কারণে। সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা না গেলে ক্ষীণ হয়ে যেতে পারে দুই নিষ্পাপ শিশুর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সম্ভাবনা। তাই সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান, মানবিক ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর আন্তরিক সহযোগিতাই হতে পারে জয়নব ও উম্মে কুলসুমের নতুন জীবনের আশার আলো।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

দাদুরিয়া বিল সড়কে মৃত্যুফাঁদে পরিণত শুকনো গাছ, অপসারণের দাবি

error: Content is protected !!

দৌলতপুরে জোড়া লাগা যমজ দুই বোনের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

আপডেট টাইম : ১০:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার :

ইসমাইল হোসেন বাবু:

 

জন্মের পর থেকেই বুক থেকে পেট পর্যন্ত একে অপরের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত যমজ দুই বোন। একজন কাঁদলে অন্যজনও কেঁদে ওঠে, একজন সামান্য নড়াচড়া করলেই ব্যথায় কুঁকড়ে যায় আরেকজন। পৃথিবীর আলো দেখার পর থেকে যেন আলাদা কোনো অস্তিত্বই নেই জয়নব ও উম্মে কুলসুম নামে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকা দুই শিশুর।

 

অথচ আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের আলাদা করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু সেই সম্ভাবনা জয়নব ও উম্মে কুলসুমের বাবা-মায়ের কাছে এখনো স্বপ্ন ও কল্পনাতীত। দরিদ্র পরিবার হওয়ায় সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নই সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের সীমান্তসংলগ্ন বিলগাথুয়া মধ্যপাড়া গ্রামের নাহিদ হাসান (২৬)-এর স্ত্রী সানজিদা ইয়াছমিন মুক্তা (২২) গত ৪ মে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জোড়া লাগা যমজ কন্যাশিশুর জন্ম দেন। পরবর্তীতে তাদের নাম রাখা হয় জয়নব ও উম্মে কুলসুম।

 

এমন যমজ সন্তান জন্মের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশু দুটিকে আলাদা করার জন্য একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, নিয়মিত চিকিৎসা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রাখা প্রয়োজন। জন্মের তিন মাস পূর্ণ হলে আবার ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শও দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে এলেও দারিদ্র্য ও চরম আর্থিক সংকটের কারণে শিশু দুটিকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠেনি অসহায় পরিবারটির।

 

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় চার বছর আগে একই এলাকার মামুন হোসেনের ছেলে নাহিদ হাসানের সঙ্গে একই গ্রামের মখলেছুর রহমানের মেয়ে সানজিদা ইয়াছমিন মুক্তার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনের দুই বছর পর তাদের ঘরে জন্ম নেয় নোমান নামে এক ছেলে, যার বর্তমান বয়স দুই বছর। এরপর দ্বিতীয়বার গর্ভধারণের সময় আল্ট্রাসনোগ্রামে ধরা পড়ে, গর্ভে থাকা যমজ সন্তান দুটি একে অপরের সঙ্গে জোড়া লাগানো অবস্থায় রয়েছে।

 

সিজারিয়ান অপারেশন সম্ভব না হওয়ায় প্রথমে কুষ্টিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেও ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় পরে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হলে সেখানেই জন্ম হয় জোড়া লাগা যমজ শিশুর।

 

একসময় রাজধানীর একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন শিশুদের বাবা নাহিদ হাসান। বর্তমানে তিনি এলাকার একটি স্থানীয় দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন। মাসে মাত্র ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা আয়ে কোনোমতে চলে পাঁচ সদস্যের সংসার। এরই মধ্যে যমজ সন্তানদের দুধ, ওষুধ ও চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে ধার-দেনায় জর্জরিত হয়ে পড়েছেন তিনি।

 

জানতে চাইলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাহিদ হাসান বলেন, “ডাক্তাররা আশা দিয়েছেন, আমার মেয়েদের আলাদা করা সম্ভব। কিন্তু সেই চিকিৎসার খরচ বহন করার সামর্থ্য আমার নেই। এখন তাদের দুধ কেনার টাকাই জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সিজারিয়ান অপারেশনের জন্যও অনেক ঋণ করতে হয়েছে। ওদের আলাদাভাবে কোলে নেওয়া যায় না। একজন একটু নড়লেই অন্যজন কষ্ট পায়। নিয়মিত ঢাকায় যেতে হবে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে, কিন্তু যাতায়াতের খরচই জোগাড় করতে পারছি না।”

 

শিশুদের দাদি নার্গিছ পারভীন বলেন, “দুই শিশুর জন্য প্রতিদিন দেড় থেকে দুই প্যাকেট তরল দুধ লাগে। সেই দুধ কেনার টাকাও আমাদের হাতে থাকে না। বৌমার সিজারের জন্য অনেক টাকা ধার করেছি। এখন সরকার, সমাজের বিত্তবান মানুষ ও মানবিক সংগঠনগুলো এগিয়ে এলে হয়তো আমার নাতনিরা নতুন জীবন পাবে।”

 

স্থানীয় চিকিৎসকদের মতে, জোড়া লাগা যমজ শিশু জন্ম নেওয়া অত্যন্ত বিরল একটি জন্মগত অবস্থা। তবে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের আলাদা করার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি, উন্নত চিকিৎসা সুবিধা এবং অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রাখা প্রয়োজন।

 

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালাম বলেন, “শিশু দুটিকে আলাদা করতে অনেক অর্থের প্রয়োজন, যেটা দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। তাই সমাজের বিত্তবান ও সরকারের সুদৃষ্টি পেলে যমজ বোনদের আলাদা করা সম্ভব হবে।”

 

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, “চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাদের দ্রুত পরবর্তী চিকিৎসা জরুরি। যথাসময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে থাকলে শিশু দুটির চিকিৎসার সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হবে।”

 

এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, “প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া গ্রামে বিরল যমজ শিশুর জন্মের বিষয়টি শুনেছি। পরিবারটি সমাজসেবা কার্যালয়ে আবেদন করলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনুকূলে সমাজসেবা অধিদপ্তরের রোগী কল্যাণ সমিতির মাধ্যমে সহযোগিতা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি উপজেলা সমাজকল্যাণ পরিষদের মাধ্যমেও আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।”

 

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য গুহ বলেন, “যমজ শিশুর চিকিৎসায় উপজেলা সমাজসেবা দপ্তরের মাধ্যমে দ্রুত আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়েও আমরা কাজ করছি।”

 

দৈন্যতা যাদের নিত্যদিনের সঙ্গী, সেই পরিবারের স্বপ্ন—‘জয়নব ও উম্মে কুলসুম’ একদিন আলাদা হয়ে স্বাভাবিক জীবন পাবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের পথ রুদ্ধ হয়ে আছে দারিদ্র্যের কারণে। সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা না গেলে ক্ষীণ হয়ে যেতে পারে দুই নিষ্পাপ শিশুর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সম্ভাবনা। তাই সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান, মানবিক ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর আন্তরিক সহযোগিতাই হতে পারে জয়নব ও উম্মে কুলসুমের নতুন জীবনের আশার আলো।