রাশিদুল ইসলাম রাশেদ:
নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদীর রাইটার চর এলাকায় নদীর কিনারায় একটি মাছ ধরার নৌকা থেকে গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের দাবি, পদ্মার চরাঞ্চল সীমান্তবর্তী হওয়ায় অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো এলাকায় সক্রিয় রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন ২০২৬) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার পদ্মা নদীর রাইটার চর এলাকায় নদীর কিনারায় শ্যালো ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার নৌকায় থাকা ওই ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ব্যক্তির নাম মো. সাহাবুল ইসলাম (৪৫)। তিনি পাবনার ঈশ্বরদীর সাঁড়া গোপালপুর গ্রামের মো. ইউনুছ প্রামানিকের ছেলে। আহত মো. রবিউল ইসলাম (৩৭) পাবনার ঈশ্বরদী সাঁড়া চানমাড়ী গোরস্থান এলাকার মো. আব্দুল হক মোল্লার ছেলে।
লালপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আহত রবিউল ইসলামের ভাষ্যমতে, সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে চর এলাকা থেকে মোটরসাইকেলে করে আসা ৫-৬ জন অজ্ঞাতনামা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী নদীর কিনারার কাছাকাছি অবস্থান নিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।
গুলিতে মাছ ধরার নৌকায় থাকা সাহাবুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তার ডান কাঁধের ওপরের অংশে গুলি লাগে এবং বাহুর একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার থুতনির নিচেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
এ সময় সঙ্গে থাকা জেলে রবিউল ইসলাম আতঙ্কিত হয়ে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে দূরে সরে যান। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে সামান্য আঘাত লাগে।
খবর পেয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম, লক্ষীকুন্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই (নি.) মো. সেলিম মিয়াসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিকেল ৩টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করেন। এ সময় একটি কালো রঙের শ্যালো ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার নৌকা জব্দ করা হয়।
আহত রবিউল ইসলাম জানান, দুই দিন আগে তারা নিজ নিজ বাড়ি থেকে এসে ওই নৌকায় মাছ ধরছিলেন। হামলার সময় জড়িত কাউকে তিনি চিনতে পারেননি।
এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ বলেন, “ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে কাজ চলছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”
স্থানীয়রা জানান, পদ্মার চরের নাটোরের লালপুর, রাজশাহীর বাঘা, পাবনার ঈশ্বরদী ও কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তবর্তী চরাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা রয়েছে। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও বালুমহাল কেন্দ্রিক বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রায়ই সহিংসতার ঘটনা ঘটছে।
উল্লেখ্য, গত ৯ জুন ২০২৬ বিকেলে উপজেলার চর জাজিরা এলাকায় একটি স্পিডবোটের ভেতর থেকে মো. আজিজুল হক ঝড়ু (৩৫) নামে এক ব্যক্তির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ধারণা করছে, বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে ওই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর পদ্মার চরাঞ্চলে গোলাগুলিতে দুই ব্যক্তি নিহত হন। পরবর্তীতে আরও কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, পদ্মার চরাঞ্চলে সক্রিয় একাধিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, দেশীয় অস্ত্র, মাদক ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। ‘অপারেশন ফাস্ট লাইট’ অভিযানে বিভিন্ন সময়ে ২০৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি 
রাশিদুল ইসলাম রাশেদ, লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি 




















