ঢাকা , শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

সদরপুরে হোটেলে ‘নকল ডিম’ বিক্রির অভিযোগ: জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা, তদন্তের দাবি

নুরুল ইসলাম:

 

ফরিদপুরের সদরপুরে স্বনামধন্য ‘মমিন হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট’-এ নকল (প্লাস্টিকের) ডিম বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উক্ত হোটেলে নাস্তা করতে আসা একাধিক গ্রাহকের প্লেটে সন্দেহজনক ডিম দেখতে পাওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে মমিন হোটেলে কয়েকজন গ্রাহক ডিম দিয়ে নাস্তা করার সময় ডিমের অস্বাভাবিক টেক্সচার ও গন্ধ পেয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে তারা দাবি করেন, ডিমটি সাধারণ হাঁস-মুরগির ডিম নয়; বরং কৃত্রিমভাবে তৈরি।

 

এ বিষয়ে হোটেলের কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করা হয়। ডিম কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং কার মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছে— এ বিষয়ে জানতে চাইলে হোটেল কর্তৃপক্ষও স্পষ্ট বক্তব্য দেয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।

 

স্বাস্থ্য আইন অনুযায়ী শাস্তির বিধান

নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এবং ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ভেজাল বা কৃত্রিম খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুত ও বিক্রয় দণ্ডনীয় অপরাধ।

 

নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী:
মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো কৃত্রিম বা রাসায়নিক পদার্থ খাদ্যদ্রব্যে ব্যবহার করলে বা জেনে-শুনে বিক্রয় করলে অনূর্ধ্ব ৫ বছর কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে শাস্তি দ্বিগুণ হতে পারে।

 

ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী:
খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণ বা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো দ্রব্য মিশ্রিত খাদ্য বিক্রি করলে অনূর্ধ্ব ৩ বছর কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে।

 

জনসচেতনতায় করণীয়

স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে ডিমগুলোর প্রকৃত অবস্থা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ

স্থানীয়দের মতে, একটি স্বনামধন্য হোটেলে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বস্তরে বাংলা ভাষা শুদ্ধ বানানে ও শুদ্ধ উচ্চারণে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

error: Content is protected !!

সদরপুরে হোটেলে ‘নকল ডিম’ বিক্রির অভিযোগ: জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা, তদন্তের দাবি

আপডেট টাইম : ০৫:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
মোঃ নুরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার :

নুরুল ইসলাম:

 

ফরিদপুরের সদরপুরে স্বনামধন্য ‘মমিন হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট’-এ নকল (প্লাস্টিকের) ডিম বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উক্ত হোটেলে নাস্তা করতে আসা একাধিক গ্রাহকের প্লেটে সন্দেহজনক ডিম দেখতে পাওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে মমিন হোটেলে কয়েকজন গ্রাহক ডিম দিয়ে নাস্তা করার সময় ডিমের অস্বাভাবিক টেক্সচার ও গন্ধ পেয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে তারা দাবি করেন, ডিমটি সাধারণ হাঁস-মুরগির ডিম নয়; বরং কৃত্রিমভাবে তৈরি।

 

এ বিষয়ে হোটেলের কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করা হয়। ডিম কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং কার মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছে— এ বিষয়ে জানতে চাইলে হোটেল কর্তৃপক্ষও স্পষ্ট বক্তব্য দেয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।

 

স্বাস্থ্য আইন অনুযায়ী শাস্তির বিধান

নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এবং ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ভেজাল বা কৃত্রিম খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুত ও বিক্রয় দণ্ডনীয় অপরাধ।

 

নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী:
মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো কৃত্রিম বা রাসায়নিক পদার্থ খাদ্যদ্রব্যে ব্যবহার করলে বা জেনে-শুনে বিক্রয় করলে অনূর্ধ্ব ৫ বছর কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে শাস্তি দ্বিগুণ হতে পারে।

 

ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী:
খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণ বা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো দ্রব্য মিশ্রিত খাদ্য বিক্রি করলে অনূর্ধ্ব ৩ বছর কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে।

 

জনসচেতনতায় করণীয়

স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে ডিমগুলোর প্রকৃত অবস্থা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ

স্থানীয়দের মতে, একটি স্বনামধন্য হোটেলে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।