ঢাকা , সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

সদরপুরে হোটেলে ‘নকল ডিম’ বিক্রির অভিযোগ: জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা, তদন্তের দাবি

নুরুল ইসলাম:

 

ফরিদপুরের সদরপুরে স্বনামধন্য ‘মমিন হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট’-এ নকল (প্লাস্টিকের) ডিম বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উক্ত হোটেলে নাস্তা করতে আসা একাধিক গ্রাহকের প্লেটে সন্দেহজনক ডিম দেখতে পাওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে মমিন হোটেলে কয়েকজন গ্রাহক ডিম দিয়ে নাস্তা করার সময় ডিমের অস্বাভাবিক টেক্সচার ও গন্ধ পেয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে তারা দাবি করেন, ডিমটি সাধারণ হাঁস-মুরগির ডিম নয়; বরং কৃত্রিমভাবে তৈরি।

 

এ বিষয়ে হোটেলের কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করা হয়। ডিম কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং কার মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছে— এ বিষয়ে জানতে চাইলে হোটেল কর্তৃপক্ষও স্পষ্ট বক্তব্য দেয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।

 

স্বাস্থ্য আইন অনুযায়ী শাস্তির বিধান

নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এবং ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ভেজাল বা কৃত্রিম খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুত ও বিক্রয় দণ্ডনীয় অপরাধ।

 

নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী:
মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো কৃত্রিম বা রাসায়নিক পদার্থ খাদ্যদ্রব্যে ব্যবহার করলে বা জেনে-শুনে বিক্রয় করলে অনূর্ধ্ব ৫ বছর কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে শাস্তি দ্বিগুণ হতে পারে।

 

ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী:
খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণ বা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো দ্রব্য মিশ্রিত খাদ্য বিক্রি করলে অনূর্ধ্ব ৩ বছর কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে।

 

জনসচেতনতায় করণীয়

স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে ডিমগুলোর প্রকৃত অবস্থা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ

স্থানীয়দের মতে, একটি স্বনামধন্য হোটেলে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আদালতের নির্দেশের পরও বিরোধপূর্ণ বাড়িতে বসবাস

error: Content is protected !!

সদরপুরে হোটেলে ‘নকল ডিম’ বিক্রির অভিযোগ: জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা, তদন্তের দাবি

আপডেট টাইম : ০৫:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
মোঃ নুরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার :

নুরুল ইসলাম:

 

ফরিদপুরের সদরপুরে স্বনামধন্য ‘মমিন হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট’-এ নকল (প্লাস্টিকের) ডিম বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উক্ত হোটেলে নাস্তা করতে আসা একাধিক গ্রাহকের প্লেটে সন্দেহজনক ডিম দেখতে পাওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে মমিন হোটেলে কয়েকজন গ্রাহক ডিম দিয়ে নাস্তা করার সময় ডিমের অস্বাভাবিক টেক্সচার ও গন্ধ পেয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে তারা দাবি করেন, ডিমটি সাধারণ হাঁস-মুরগির ডিম নয়; বরং কৃত্রিমভাবে তৈরি।

 

এ বিষয়ে হোটেলের কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করা হয়। ডিম কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং কার মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছে— এ বিষয়ে জানতে চাইলে হোটেল কর্তৃপক্ষও স্পষ্ট বক্তব্য দেয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।

 

স্বাস্থ্য আইন অনুযায়ী শাস্তির বিধান

নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এবং ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ভেজাল বা কৃত্রিম খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুত ও বিক্রয় দণ্ডনীয় অপরাধ।

 

নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী:
মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো কৃত্রিম বা রাসায়নিক পদার্থ খাদ্যদ্রব্যে ব্যবহার করলে বা জেনে-শুনে বিক্রয় করলে অনূর্ধ্ব ৫ বছর কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে শাস্তি দ্বিগুণ হতে পারে।

 

ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী:
খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণ বা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো দ্রব্য মিশ্রিত খাদ্য বিক্রি করলে অনূর্ধ্ব ৩ বছর কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে।

 

জনসচেতনতায় করণীয়

স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে ডিমগুলোর প্রকৃত অবস্থা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ

স্থানীয়দের মতে, একটি স্বনামধন্য হোটেলে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।