রনি আহমেদ রাজু:
পানির অপর নাম জীবন—কথাটি কেবল বিশুদ্ধ পানির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কিন্তু মাগুরায় বিশুদ্ধ পানির নামে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এবং মেয়াদোত্তীর্ণ জার ও বোতলে পানি উৎপাদন ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
মাগুরার শালিখা উপজেলার সীমাখালী বাজারে অবস্থিত আলভী ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টে মানবচক্ষুর আড়ালে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কেমিস্ট ছাড়াই পানি উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ২০২৫ সালে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাওয়া বোতল পরিষ্কার করে পুনরায় ব্যবহারের প্রস্তুতি চলছে। এক কর্মীকে টিউবওয়েলের পাশে মেঝেতে হুইল পাউডার ব্যবহার করে বোতল পরিষ্কার করতে দেখা যায়।
অভিযোগ রয়েছে, কেমিস্ট ছাড়াই উৎপাদিত এসব পানি মেয়াদোত্তীর্ণ অথবা লাইসেন্সবিহীন জার ও বোতলে ভরে মাগুরা জেলার বিভিন্ন এলাকায় এবং যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলাতেও সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে না বুঝেই তারা এসব পানি কিনে পান করছেন। তারা প্রশাসনের নজরদারি বৃদ্ধি এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে আলভী ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মালিক আলিম সরদার ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করে বলেন, বোতলের মেয়াদ থাকার বিষয়টি আগে জানতাম না। কেউ কখনও আমাকে এ বিষয়ে বলেনি। আগে সতর্ক করা হলে হয়তো ব্যবসা বন্ধ করে দিতাম।
এ সময় তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে প্রতিবেদকের হাতে টাকা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
বিষয়টি নিয়ে শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে জরিমানাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি 
রনি আহমেদ রাজু, নিজস্ব প্রতিনিধি 




















