মোঃ নুরুল ইসলাম:
ফরিদপুরের সদরপুরে মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় সাহেব বেপারী নামের এক সৌদি আরব গমনেচ্ছু যুবককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী উজ্জ্বল আকন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। হামলার পর ভুক্তভোগীর সঙ্গে থাকা সৌদি আরব যাওয়ার জন্য জমানো নগদ ৩ লাখ টাকা, দুটি দামি মোবাইল ফোন এবং একটি মোটরসাইকেলও ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
পারিবারিক ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী সাহেব বেপারী সৌদি আরব যাওয়ার উদ্দেশ্যে টাকা জমা দিতে নিজ বাড়ি থেকে রওনা হন। পথিমধ্যে স্থানীয় শাহজাহান মেম্বারের বাড়ির সামনে পাকা রাস্তায় পৌঁছালে তিনি অতর্কিত হামলার শিকার হন।
জানা গেছে, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে মাদক সম্রাট উজ্জ্বলের দুই সহযোগীকে আটক করে সদরপুর থানা পুলিশ। কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী উজ্জ্বল সন্দেহ করে যে, সাহেব বেপারীই পুলিশকে তথ্য দিয়ে তার সহযোগীদের ধরিয়ে দিয়েছেন। এ ঘটনার জের ধরে উজ্জ্বল আকন (৩০), তার সহযোগী ইকবাল আকন (২৮), আজিজুল আকন (২৫) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন রামদা, চাইনিজ কুড়াল ও চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সাহেব বেপারীর ওপর হামলা চালায়।
একপর্যায়ে উজ্জ্বল হত্যার উদ্দেশ্যে সাহেব বেপারীর মাথা লক্ষ্য করে ধারালো চাপাতি দিয়ে কোপ দেয়। এতে তিনি গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে হামলাকারীরা সাহেবের কাছে থাকা নগদ ৩ লাখ টাকা, একটি আইফোন, একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন এবং একটি এইচ-হান্ড্রেড মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
সাহেব বেপারীর আর্তচিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মাথার ক্ষতস্থানে ৬টি সেলাই দিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আহত সাহেব বেপারী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “উজ্জ্বল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের রামরাজত্ব কায়েম করেছে। তার এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে বা বাধা দিলে তাকে রাতের আধারে মারধর করা হয় এবং খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হয়।”
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, হামলার পরও ক্ষান্ত হয়নি উজ্জ্বল ও তার সহযোগীরা। বর্তমানে বিভিন্ন মাধ্যমে সাহেব ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ফলে পুরো পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, উজ্জ্বলের সন্ত্রাসী ও মাদক নেটওয়ার্কের কারণে এলাকার সাধারণ মানুষ তটস্থ। তার ক্ষমতার দাপটের সামনে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দ্রুত তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল। সদরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুল আল মামুন শাহ জানান, “এই বিষয়ে আমরা এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

নগরকান্দায় ৯৫০ পিচ ইয়াবাসহ আটক ১ 
মোঃ নুরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার 




















