মানিক কুমার দাসঃ
ফরিদপুরে শিশু আইরিন হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, তিন আসামী গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সকাল ১১ টায় ফরিদপুরের কোতয়ালী থানায় এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয। এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন তথ্য প্রদান করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( সদর সার্কেল) মোহাম্মদ আজমির হোসেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, আব্দুল্লাহ বিশ্বাস ( ওসি তদন্ত) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাসুদ রানা সহ ফরিদপুরের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ। এ সময় সাংবাদিকদের জানানো হয়।
ফরিদপুরের কোতয়ালি থানাধীন গেরদা ইউনিয়নে শিশু আইরিন আক্তার বিনা ওরফে কবিতা (৭) হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।গত ৩০ এপ্রিল কোতয়ালী থানায় মামলা নং-৮৪ (জিআর নং-৩২৯/২৬) পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় দায়ের করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মোঃ মাসুদ আলম।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত শিশু আইরিন স্থানীয় বোকাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় সে। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে না পেয়ে ২৫ এপ্রিল কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৯২২) করেন তার বাবা বাকা মিয়া বিশ্বাস।
এরপর ৩০ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাখুন্ডা এলাকায় একটি কলাবাগান থেকে শিশুটির পচাগলা লাশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা লাশ শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
ঘটনার পর কোতয়ালী থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে তদন্ত শুরু হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ। পরে অভিযান চালিয়ে ইসরাফিল মৃধা (২৪), শেখ আমিন (১৯) ও নাছিমা বেগম (৪৫)-কে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, ইসরাফিল মৃধা চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এতে ব্যর্থ হয়ে শিশুটি বিষয়টি পরিবারকে জানাবে বলে আশঙ্কায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গোপন করার জন্য পাশের একটি বাড়ির বাথরুমের সেফটি ট্যাংকে রাখা হয়।
পরে নাছিমা বেগম বিষয়টি জানতে পেরে তার ছেলে শেখ আমিন ও অপর ছেলে রহমানকে লাশ সরিয়ে ফেলতে বলেন। তারা ট্যাংক থেকে লাশ তুলে একটি প্লাস্টিকের ড্রামে করে বাখুন্ডা কমিউনিটি ক্লিনিকের পূর্ব পাশে রেললাইন সংলগ্ন কলাবাগানে ফেলে রেখে যায়। এ সময় বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়ে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
প্রিন্ট

ফরিদপুরে ট্রিপল মার্ডারঃ ১০ ঘণ্টায় গ্রেফতার প্রধান আসামি, উদ্ধার কোদাল 
মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি 














