ঢাকা , শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

সালথায় চাঁদাবাজি মামলার আসামীকে খুজে পাচ্ছে না পুলিশ

পুলিশের সামনে সালথায় বিএনপির আনন্দ মিছিলের চাঁদাবাজি মামলার প্রধান আসামি !

সম্প্রতি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) শামা ওবায়েদের পদ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করায় ফরিদপুরের সালথায় আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ আনন্দ মিছিলে উপজেলাটির জয়ঝাপের ইমামবাড়ি এলাকার একটি হত্যাকে পুঁজি করে চাঁদাবাজি ও লুটপাট মামলার প্রধান আসামি এবং উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাশার আজাদকে সামনের সারিতে দেখা গেছে।

 

এছাড়া উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি ফজলুল মতিন বাদশা মিয়ার ভাতিজা ও স্থানীয় আ’লীগ নেতা কামরুল ইসলাম মজনুকেও একই আনন্দ মিছিলে দেখা যায়। মজনুও চাঁদাবাজি মামলার ৪ নম্বর আসামি। এভাবে প্রকাশ্যে থানার সামনে ঘণ্টাব্যাপী আনন্দ মিছিল করলেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার কিংবা আটক করতে দেখা যায়নি। এভাবে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি মামলার আসামি আনন্দ মিছিল করতে দেখে হতভাগ হয়েছেন স্থানীয়রা। পুলিশ আনন্দ মিছিলের আশেপাশেই ছিলেন বলে কয়েকজন বিএনপি নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়।

 

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) বিকেলে সালথা উপজেলা বিএনপি ও তার সকল অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে এ আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

 

আনন্দ মিছিলটি সালথা উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরের সামনে থেকে শুরু হয়ে বাইপাস সড়ক হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সালথা পাশ দিয়ে কাউলি কাউলিকান্দা স্কুল মাঠে এসে শেষ হয়।

 

আনন্দ মিছিলে সালথা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী এমদাদ আলী খসরু, চাঁদাবাজি মামলার ১ নম্বর আসামি ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাশার আজাদ, উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি ফজলুল মতিন বাদশা মিয়ার ভাতিজা ও স্থানীয় আ’লীগ নেতা এবং চাঁদাবাজি মামলার আসামি কামরুল ইসলাম মজনু, প্রচার সম্পাদক মো. নাসির মাতুব্বর, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম সহ বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের কয়েকশত নেতাকর্মী।

 

সালথা থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই সমীত মজুমদারের সামনে থাকা চাঁদাবাজি মামলার আসামিরা এই ব্যাপারে কথা হলে তিনি বলেন মিছিল থেকে আসামি গ্রেফতার করা আমাদের কাজ না।

 

এব্যাপারে জানতে চাইলে চাঁদাবাজি মামলার আসামি ও স্থানীয় আ’লীগ নেতা কামরুল ইসলাম মজনু বলেন, আমার নামে সালথা থানায় চাঁদাবাজি মামলা হয়েছে বিষয়টা আমার জানা নেই।

 

চাঁদাবাজির মামলার আসামি হয়েও আনন্দ মিছিলে যোগদানের বিষয়ে জানতে চাইলে সালথা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাশার আজাদ মিছিলে উপস্থিত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমি নির্দোষ। শত্রুতা করে আমাকে মামলার আসামী করা হয়েছে। তবে আনি থানা বা উপজেলার সামনে নয়, আমার ইউনিয়নের মধ্যে কাউলিকান্দায় সালথা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদারের নেতৃত্বে মিছিল হয় এবং আমি সেই মিছিলে সিদ্দিক ভাইয়ের পাশেই ছিলাম।

 

 

এব্যাপারে সালথা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, কোন চাঁদাবাজি মামলার আসামি আনন্দ মিছিল ছিল কি না আমার জানা নেই। তবে দলকে ভালোবেসে যদি কোন মামলার আসামিও আনন্দ মিছিলের যোগ দেয় তাহলে আমরা তাকে নিষেধ করতে পারি না।

 

এব্যাপারে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতাউর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। থানায় এমন কোন অভিযোগও কেউ করেননি।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়া পুলিশের সফল অভিযানে অস্ত্র, গুলি ও ম্যাগজিনসহ যুবক আটক

error: Content is protected !!

সালথায় চাঁদাবাজি মামলার আসামীকে খুজে পাচ্ছে না পুলিশ

পুলিশের সামনে সালথায় বিএনপির আনন্দ মিছিলের চাঁদাবাজি মামলার প্রধান আসামি !

আপডেট টাইম : ০৯:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০২৪
বিশেষ প্রতিনিধি :

সম্প্রতি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) শামা ওবায়েদের পদ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করায় ফরিদপুরের সালথায় আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ আনন্দ মিছিলে উপজেলাটির জয়ঝাপের ইমামবাড়ি এলাকার একটি হত্যাকে পুঁজি করে চাঁদাবাজি ও লুটপাট মামলার প্রধান আসামি এবং উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাশার আজাদকে সামনের সারিতে দেখা গেছে।

 

এছাড়া উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি ফজলুল মতিন বাদশা মিয়ার ভাতিজা ও স্থানীয় আ’লীগ নেতা কামরুল ইসলাম মজনুকেও একই আনন্দ মিছিলে দেখা যায়। মজনুও চাঁদাবাজি মামলার ৪ নম্বর আসামি। এভাবে প্রকাশ্যে থানার সামনে ঘণ্টাব্যাপী আনন্দ মিছিল করলেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার কিংবা আটক করতে দেখা যায়নি। এভাবে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি মামলার আসামি আনন্দ মিছিল করতে দেখে হতভাগ হয়েছেন স্থানীয়রা। পুলিশ আনন্দ মিছিলের আশেপাশেই ছিলেন বলে কয়েকজন বিএনপি নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়।

 

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) বিকেলে সালথা উপজেলা বিএনপি ও তার সকল অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে এ আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

 

আনন্দ মিছিলটি সালথা উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরের সামনে থেকে শুরু হয়ে বাইপাস সড়ক হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সালথা পাশ দিয়ে কাউলি কাউলিকান্দা স্কুল মাঠে এসে শেষ হয়।

 

আনন্দ মিছিলে সালথা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী এমদাদ আলী খসরু, চাঁদাবাজি মামলার ১ নম্বর আসামি ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাশার আজাদ, উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি ফজলুল মতিন বাদশা মিয়ার ভাতিজা ও স্থানীয় আ’লীগ নেতা এবং চাঁদাবাজি মামলার আসামি কামরুল ইসলাম মজনু, প্রচার সম্পাদক মো. নাসির মাতুব্বর, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম সহ বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের কয়েকশত নেতাকর্মী।

 

সালথা থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই সমীত মজুমদারের সামনে থাকা চাঁদাবাজি মামলার আসামিরা এই ব্যাপারে কথা হলে তিনি বলেন মিছিল থেকে আসামি গ্রেফতার করা আমাদের কাজ না।

 

এব্যাপারে জানতে চাইলে চাঁদাবাজি মামলার আসামি ও স্থানীয় আ’লীগ নেতা কামরুল ইসলাম মজনু বলেন, আমার নামে সালথা থানায় চাঁদাবাজি মামলা হয়েছে বিষয়টা আমার জানা নেই।

 

চাঁদাবাজির মামলার আসামি হয়েও আনন্দ মিছিলে যোগদানের বিষয়ে জানতে চাইলে সালথা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাশার আজাদ মিছিলে উপস্থিত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমি নির্দোষ। শত্রুতা করে আমাকে মামলার আসামী করা হয়েছে। তবে আনি থানা বা উপজেলার সামনে নয়, আমার ইউনিয়নের মধ্যে কাউলিকান্দায় সালথা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদারের নেতৃত্বে মিছিল হয় এবং আমি সেই মিছিলে সিদ্দিক ভাইয়ের পাশেই ছিলাম।

 

 

এব্যাপারে সালথা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, কোন চাঁদাবাজি মামলার আসামি আনন্দ মিছিল ছিল কি না আমার জানা নেই। তবে দলকে ভালোবেসে যদি কোন মামলার আসামিও আনন্দ মিছিলের যোগ দেয় তাহলে আমরা তাকে নিষেধ করতে পারি না।

 

এব্যাপারে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতাউর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। থানায় এমন কোন অভিযোগও কেউ করেননি।