ঢাকা , শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

ফরিদপুরে পেঁয়াজ চাষীদের মাথায় হাত, বিক্রির টাকায় উঠছেনা উৎপাদন খরচ

নুরুল ইসলামঃ

পেঁয়াজের রাজধানী খ্যাত জেলা ফরিদপুর। চলতি বছরে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এই জেলায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে পেঁয়াজের দাম কম হওয়ায় কৃষকেরা হতাশ। পেঁয়াজ উৎপাদনে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা ফরিদপুর। এ জেলায় ৯টি উপজেলাই পেঁয়াজের আবাদ হয়, তার মধ্যে ভাঙ্গা, নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় পেঁয়াজের চাষাবাদ বেশি হয়।

এ জেলায় পেঁয়াজের বাজারমূল্য নিয়ে চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচের তুলনায় অর্ধেকেরও কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন হাজার হাজার চাষি।

বাজারে প্রতি মণ পেঁয়াজ প্রকারভেদে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হলেও উৎপাদন খরচ পড়েছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা। ফলে কৃষকদের মাথায় হাত পড়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, সার, ডিজেল, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি কয়েকগুণ বেড়ে গেলেও পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না তারা। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, মাছ, মাংস, ডিম ও সবজির দাম বৃদ্ধি পেলেও পেঁয়াজের দাম দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমুখী রয়েছে। এতে আগামী মৌসুমে অনেক কৃষক পেঁয়াজ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের কৃষক তৈয়াব মুন্সি (৪৭) বলেন, বীজ, সার, শ্রমিক ও সেচ খরচ যোগ করলে লাভ তো দূরের কথা, মূলধনই উঠছে না। এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে এখন এক কেজি গরুর মাংসও কেনা যায় না। এভাবে চলতে থাকলে আমরা চাষাবাদ ছেড়ে দিতে বাধ্য হব।
অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষ করেছেন। তারা এখন কিস্তি পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। সরকার যদি দ্রুত কোনো উদ্যোগ না নেয়, তাহলে কৃষকদের বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পেঁয়াজ যেহেতু পচনশীল শস্য, তাই সরকার যদি আমাদের এলাকায় পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য এয়ার ফ্লো মেশিন এর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করে দিত তাহলে এলাকার পেঁয়াজ চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হতো না।

ভাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোল্লা মো. মামুন জানান, চলতি বছরে পেঁয়াজ চাষের জন্য আবহাওয়া খুবই অনুকুলে থাকায় উপজেলায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। এবছর উপজেলায় ৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৬০ হাজার মেট্রিক টন। উৎপাদন ভালো হওয়ায় পেঁয়াজের দাম তুলনামূলক কম। কৃষকের মজুদকৃত পেঁয়াজ শেষ হলে আস্তে আস্তে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাবে।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান বলেন বলেন, ফরিদপুরে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয় এবং কৃষকরা ভালো ফলনও পান। কিন্তু বাজারমূল্য নির্ধারণের বিষয়টি কৃষি বিভাগের হাতে নেই। আমরা কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকি। সরকার কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করছে। তবে, আমরা পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ১ হাজার ৪৩০টি এয়ার ফ্লো মেশিন পেঁয়াজ চাষিদের সরবরাহ করেছি। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ৭০০ টি বিতরণ করা হয়েছে। তবে, এ বছরে আড়াই হাজার এয়ার ফ্লো মেশিন সরবরাহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়া পুলিশের সফল অভিযানে অস্ত্র, গুলি ও ম্যাগজিনসহ যুবক আটক

error: Content is protected !!

ফরিদপুরে পেঁয়াজ চাষীদের মাথায় হাত, বিক্রির টাকায় উঠছেনা উৎপাদন খরচ

আপডেট টাইম : ৮ ঘন্টা আগে
নুরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার :

নুরুল ইসলামঃ

পেঁয়াজের রাজধানী খ্যাত জেলা ফরিদপুর। চলতি বছরে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এই জেলায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে পেঁয়াজের দাম কম হওয়ায় কৃষকেরা হতাশ। পেঁয়াজ উৎপাদনে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা ফরিদপুর। এ জেলায় ৯টি উপজেলাই পেঁয়াজের আবাদ হয়, তার মধ্যে ভাঙ্গা, নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় পেঁয়াজের চাষাবাদ বেশি হয়।

এ জেলায় পেঁয়াজের বাজারমূল্য নিয়ে চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচের তুলনায় অর্ধেকেরও কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন হাজার হাজার চাষি।

বাজারে প্রতি মণ পেঁয়াজ প্রকারভেদে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হলেও উৎপাদন খরচ পড়েছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা। ফলে কৃষকদের মাথায় হাত পড়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, সার, ডিজেল, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি কয়েকগুণ বেড়ে গেলেও পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না তারা। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, মাছ, মাংস, ডিম ও সবজির দাম বৃদ্ধি পেলেও পেঁয়াজের দাম দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমুখী রয়েছে। এতে আগামী মৌসুমে অনেক কৃষক পেঁয়াজ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের কৃষক তৈয়াব মুন্সি (৪৭) বলেন, বীজ, সার, শ্রমিক ও সেচ খরচ যোগ করলে লাভ তো দূরের কথা, মূলধনই উঠছে না। এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে এখন এক কেজি গরুর মাংসও কেনা যায় না। এভাবে চলতে থাকলে আমরা চাষাবাদ ছেড়ে দিতে বাধ্য হব।
অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষ করেছেন। তারা এখন কিস্তি পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। সরকার যদি দ্রুত কোনো উদ্যোগ না নেয়, তাহলে কৃষকদের বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পেঁয়াজ যেহেতু পচনশীল শস্য, তাই সরকার যদি আমাদের এলাকায় পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য এয়ার ফ্লো মেশিন এর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করে দিত তাহলে এলাকার পেঁয়াজ চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হতো না।

ভাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোল্লা মো. মামুন জানান, চলতি বছরে পেঁয়াজ চাষের জন্য আবহাওয়া খুবই অনুকুলে থাকায় উপজেলায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। এবছর উপজেলায় ৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৬০ হাজার মেট্রিক টন। উৎপাদন ভালো হওয়ায় পেঁয়াজের দাম তুলনামূলক কম। কৃষকের মজুদকৃত পেঁয়াজ শেষ হলে আস্তে আস্তে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাবে।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান বলেন বলেন, ফরিদপুরে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয় এবং কৃষকরা ভালো ফলনও পান। কিন্তু বাজারমূল্য নির্ধারণের বিষয়টি কৃষি বিভাগের হাতে নেই। আমরা কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকি। সরকার কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করছে। তবে, আমরা পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ১ হাজার ৪৩০টি এয়ার ফ্লো মেশিন পেঁয়াজ চাষিদের সরবরাহ করেছি। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ৭০০ টি বিতরণ করা হয়েছে। তবে, এ বছরে আড়াই হাজার এয়ার ফ্লো মেশিন সরবরাহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।