ঢাকা , শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

পটিয়ায় ১১ দলের প্রার্থী ইয়াকুব”কে নিয়ে বিপাকে জোটঃ মনোয়নপত্র বাতিলই কারণ

প্রদীপ্ত চক্রবর্তীঃ

 

আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠাতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার লক্ষ্য জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশ নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের আসন বন্টন সম্পন্ন হয়েছে। আসন বিন্যাস অনুযায়ী চট্টগ্রাম ১২ পটিয়া আসনটি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এলডিপিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে । এ আসনে এলডিপির প্রার্থী হলেন দক্ষিণ জেলা এলডিপির সভাপতি এম.ইয়াকুব আলী ।

 

দল ও জোট থেকে মনোনয়ন পেলেও ইতিমধ্যে ঋণ খেলাপির অভিযোগে প্রার্থীতা বাতিল হওয়ায় পটিয়া আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থিতা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এই নিয়ে গত কাল গন মাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এম. ইয়াকুব আলী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) রিপোর্টের অজুহাতে মনোনয়ন বাতিল করা হলেও উক্ত রিপোর্টের ওপর হাইকোর্টের সুস্পষ্ট স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশনের এক কমিশনার কর্তৃক তা প্রকাশ্যে অগ্রাহ্য করা নজিরবিহীন, ভয়াবহ দৃষ্টান্ত, সংবিধান, বিচার বিভাগ ও গণতন্ত্রকে একসঙ্গে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো।

 

তিনি জানান, গত ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন দাখিলের পর গত ৩ জানুয়ারি রিটার্নিং অফিসার বেআইনিভাবে তার মনোনয়ন বাতিল করেন। এর পরপরই তিনি হাইকোর্টে রিট করলে গত ৬ জানুয়ারি আদালত সিআইবি রিপোর্টের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। এরপর আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ৭ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর আপিল দায়ের করা হলে কমিশন ধার্য্যকৃত গত ১৩ জানুয়ারি শুনানিতে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানের মাছউদ একতরফাভাবে তার আপিল খারিজ করেন ।

 

তিনি অভিযোগ করেন, তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, অথচ বাস্তবতা ভিন্ন। মোট প্রায় ২১ কোটি ৮০ লাখ টাকার ঋণের অধিকাংশই নিয়মিত, বাকি অংশ বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাবগত জটিলতা ও মামলা হাইকোর্টের স্থগিতাদেশাধীন। এমনকি সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি।

তিনি সতর্ক করে বলেন, জুলাই বিপ্লবে শহীদের রক্তে রঞ্জিত বাংলাদেশে যদি নির্বাচন কমিশন বিচার বিভাগের আদেশ অমান্য করে, তাহলে এই নির্বাচন কোনোভাবেই সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

 

এম. এয়াকুব আলী জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের আদেশের সইমুরী নকল সংগ্রহ করে তিনি আগামী ১৮ জানুয়ারি পুনরায় মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করবেন এবং এই সংবিধানবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাবেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়া পুলিশের সফল অভিযানে অস্ত্র, গুলি ও ম্যাগজিনসহ যুবক আটক

error: Content is protected !!

পটিয়ায় ১১ দলের প্রার্থী ইয়াকুব”কে নিয়ে বিপাকে জোটঃ মনোয়নপত্র বাতিলই কারণ

আপডেট টাইম : ০২:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
প্রদীপ্ত চক্রবর্তী, পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি :

প্রদীপ্ত চক্রবর্তীঃ

 

আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠাতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার লক্ষ্য জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশ নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের আসন বন্টন সম্পন্ন হয়েছে। আসন বিন্যাস অনুযায়ী চট্টগ্রাম ১২ পটিয়া আসনটি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এলডিপিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে । এ আসনে এলডিপির প্রার্থী হলেন দক্ষিণ জেলা এলডিপির সভাপতি এম.ইয়াকুব আলী ।

 

দল ও জোট থেকে মনোনয়ন পেলেও ইতিমধ্যে ঋণ খেলাপির অভিযোগে প্রার্থীতা বাতিল হওয়ায় পটিয়া আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থিতা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এই নিয়ে গত কাল গন মাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এম. ইয়াকুব আলী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) রিপোর্টের অজুহাতে মনোনয়ন বাতিল করা হলেও উক্ত রিপোর্টের ওপর হাইকোর্টের সুস্পষ্ট স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশনের এক কমিশনার কর্তৃক তা প্রকাশ্যে অগ্রাহ্য করা নজিরবিহীন, ভয়াবহ দৃষ্টান্ত, সংবিধান, বিচার বিভাগ ও গণতন্ত্রকে একসঙ্গে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো।

 

তিনি জানান, গত ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন দাখিলের পর গত ৩ জানুয়ারি রিটার্নিং অফিসার বেআইনিভাবে তার মনোনয়ন বাতিল করেন। এর পরপরই তিনি হাইকোর্টে রিট করলে গত ৬ জানুয়ারি আদালত সিআইবি রিপোর্টের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। এরপর আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ৭ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর আপিল দায়ের করা হলে কমিশন ধার্য্যকৃত গত ১৩ জানুয়ারি শুনানিতে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানের মাছউদ একতরফাভাবে তার আপিল খারিজ করেন ।

 

তিনি অভিযোগ করেন, তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, অথচ বাস্তবতা ভিন্ন। মোট প্রায় ২১ কোটি ৮০ লাখ টাকার ঋণের অধিকাংশই নিয়মিত, বাকি অংশ বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাবগত জটিলতা ও মামলা হাইকোর্টের স্থগিতাদেশাধীন। এমনকি সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি।

তিনি সতর্ক করে বলেন, জুলাই বিপ্লবে শহীদের রক্তে রঞ্জিত বাংলাদেশে যদি নির্বাচন কমিশন বিচার বিভাগের আদেশ অমান্য করে, তাহলে এই নির্বাচন কোনোভাবেই সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

 

এম. এয়াকুব আলী জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের আদেশের সইমুরী নকল সংগ্রহ করে তিনি আগামী ১৮ জানুয়ারি পুনরায় মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করবেন এবং এই সংবিধানবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাবেন।