ঢাকা , রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

দৌলতপুরে তিনটি ফিলিং স্টেশনে তেল নাই, কার্যত বন্ধ

ইসমাইল হােসেন বাবুঃ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তিনটি ফিলিং স্টেশনে তেল না থাকায় সেগুলো কার্যতবন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে করে যানবাহন চলাচল নিয়ে সাধারণ মানুষ পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।এদিকে জ্বালানি তেল না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বিভিন্ন যানবাহন চালকরা। দ্রুত এর সমস্যার সমাধানের দাবি করেছেন তারা।

 

সংশ্লিষ্ট স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে একটি অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অধিক মুনাফার আশায় জ্বালানি তেল মজুত করছে, এমন অভিযোগ উঠেছে। এরফলে জ্বালানি তেলের তীব্রসংকট সৃষ্টি হয়েছে।

 

দৌলতপুরে খােজনিয়ে জানা গেছে গতকাল মঙ্গলবার রাত ৭টা থেকে তেলশূন্য হয়ে পড়েছে। এই কারণে উপজেলার তিনটি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে তারাগুনিয়ার মেসার্স সাগর ফিলিং স্টেশন, আল্লারদর্গার মেসার্স রফিক ফিলিং স্টেশন এবং খলিশাকুন্ডির মেসার্স হাফিজ ফিলিং স্টেশন গতকাল রাত থেকেই বন্ধ করে দিয়েছে মালিক পক্ষ। প্রতিটি তেল পাম্পেই নোটিশ টানিয়ে জানানো হয়েছে, তেল নাই। প্রাপ্তি সাপেক্ষে বিতরণ করা হবে।

 

এই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আরও পাঁচটি জ্বালানি এজেন্সি রয়েছে। এরমধ্যে, মথুরাপুরে হাসিব, হোসেনাবাদের রিপেল, দৌলতপুর সেন্টার মোড়ে মজনু ও মিরাজ এবং আল্লারদর্গায় কামাল উল্লেখযোগ্য। তবে মঙ্গলবার রাত৯টার দিকে শুধুমাত্র দৌলতপুর সেন্টার মোড়ের মিরাজ এর এজেন্সি থেকে নির্ধারিত মূল্যে গ্রাহকদের লাইন দিয়ে তেল সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। বাকিগুলোতে তেল না থাকার অযুহাত দেখিয়ে বন্ধ রাখতে দেখা গেছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব এজেন্সির কাছে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে। তবে তারা তা খোলা বাজারে সরবরাহ না করে বেশি দামে বিক্রি করছেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতি লিটার পেট্রোল ১৪০থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

 

এদিকে অবৈধভাবে মজুদকরা তেল পাচারকালে বিজিবিরতল্লাশিতে প্রায় ২০০ লিটার তেল জব্দ করা হয়।

 

এ বিষয়ে তারাগুনিয়ার সাগর ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী মো. নজরুল ইসলামের ছেলে শাওন বিশ্বাস জানান, গত ৮ মার্চ সন্ধ্যার দিকে আমাদের পাম্পে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যায়। এর আগে ৪ মার্চ বুধবার খুলনার মেঘনাডিপো থেকে আমরা ৯ হাজার লিটার ডিজেল এবং ৪ হাজার ৫০০ লিটার অকটেন পেয়েছিলাম। তা এখন সব শেষ।

 

অপরদিকে খলিশাকুন্ডি’র হাফিজ ফিলিং স্টেশনের কয়েকজনকর্মচারীর সঙ্গে কথা বললে তারাও একই ধরনের তথ্য দেন। তারা জানান, পাম্পে পেট্রোল শেষ হয়ে গেছে। তাদের অকটেন বিক্রির অনুমোদন নেই। তবে সামান্য কিছু ডিজেল থাকায় সেটি সারাদিন অল্প অল্প করে বিক্রি করা হচ্ছে।

 

মোটরসাইকেল চালক আবজাল হােসেন বলেন, আমরা বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করি। সারাক্ষণ মোটরসাইকেল নিয়ে কাজ করতে হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে দৌলতপুর ফিলিং স্টেশন গুলোতে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। আজ সকাল থেকে ও বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ঘুরে ঘুরে দেখলাম কোথাও তেল নাই। স্টেশনগুলো বন্ধ রেখেছে মালিকরা। তেল না পাওয়ায় আমাদের কাজ একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে।

 

প্রাইভেটকার চালক নুর ইসলাম বলেন, আমার গাড়ি গ্যাস কনভার্সন না করা থাকায় জ্বালানি তেল অক্টেন কিংবা পেট্রোল দিয়েই চলতে হয়। আজ সকাল থেকে বিভিন্ন পাম্পে গিয়ে তেলের জন্য ঘুরেও কোথাও পাওয়া গেল না। এখন গাড়িতে সামান্য তেল আছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হওয়া দরকার।

 

এদিকে সীমান্ত এলাকায় জ্বালানি তেলের পাচার রোধে কঠোর নজরদারিতে রয়েছে বিজিবি। সীমান্তজুড়ে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহভাজন যানবাহন ও চলাচলের ওপর তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

 

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, কিছু এজেন্সির কাছে তেল মজুদ রয়েছে, এমন অভিযোগ আমরা পেয়েছি। কেউ যদি তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে দৌলতপুর উপজেলার পরিবহন ব্যবস্থা ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় ফিলিং স্টেশন মালিক ও সাধারণ গ্রাহকরা।

 

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভাতিজাদের হামলায় চাচা নিহত, আহত মৎস্যজীবী দলের নেতা

error: Content is protected !!

দৌলতপুরে তিনটি ফিলিং স্টেশনে তেল নাই, কার্যত বন্ধ

আপডেট টাইম : ০৭:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার :

ইসমাইল হােসেন বাবুঃ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তিনটি ফিলিং স্টেশনে তেল না থাকায় সেগুলো কার্যতবন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে করে যানবাহন চলাচল নিয়ে সাধারণ মানুষ পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।এদিকে জ্বালানি তেল না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বিভিন্ন যানবাহন চালকরা। দ্রুত এর সমস্যার সমাধানের দাবি করেছেন তারা।

 

সংশ্লিষ্ট স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে একটি অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অধিক মুনাফার আশায় জ্বালানি তেল মজুত করছে, এমন অভিযোগ উঠেছে। এরফলে জ্বালানি তেলের তীব্রসংকট সৃষ্টি হয়েছে।

 

দৌলতপুরে খােজনিয়ে জানা গেছে গতকাল মঙ্গলবার রাত ৭টা থেকে তেলশূন্য হয়ে পড়েছে। এই কারণে উপজেলার তিনটি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে তারাগুনিয়ার মেসার্স সাগর ফিলিং স্টেশন, আল্লারদর্গার মেসার্স রফিক ফিলিং স্টেশন এবং খলিশাকুন্ডির মেসার্স হাফিজ ফিলিং স্টেশন গতকাল রাত থেকেই বন্ধ করে দিয়েছে মালিক পক্ষ। প্রতিটি তেল পাম্পেই নোটিশ টানিয়ে জানানো হয়েছে, তেল নাই। প্রাপ্তি সাপেক্ষে বিতরণ করা হবে।

 

এই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আরও পাঁচটি জ্বালানি এজেন্সি রয়েছে। এরমধ্যে, মথুরাপুরে হাসিব, হোসেনাবাদের রিপেল, দৌলতপুর সেন্টার মোড়ে মজনু ও মিরাজ এবং আল্লারদর্গায় কামাল উল্লেখযোগ্য। তবে মঙ্গলবার রাত৯টার দিকে শুধুমাত্র দৌলতপুর সেন্টার মোড়ের মিরাজ এর এজেন্সি থেকে নির্ধারিত মূল্যে গ্রাহকদের লাইন দিয়ে তেল সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। বাকিগুলোতে তেল না থাকার অযুহাত দেখিয়ে বন্ধ রাখতে দেখা গেছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব এজেন্সির কাছে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে। তবে তারা তা খোলা বাজারে সরবরাহ না করে বেশি দামে বিক্রি করছেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতি লিটার পেট্রোল ১৪০থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

 

এদিকে অবৈধভাবে মজুদকরা তেল পাচারকালে বিজিবিরতল্লাশিতে প্রায় ২০০ লিটার তেল জব্দ করা হয়।

 

এ বিষয়ে তারাগুনিয়ার সাগর ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী মো. নজরুল ইসলামের ছেলে শাওন বিশ্বাস জানান, গত ৮ মার্চ সন্ধ্যার দিকে আমাদের পাম্পে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যায়। এর আগে ৪ মার্চ বুধবার খুলনার মেঘনাডিপো থেকে আমরা ৯ হাজার লিটার ডিজেল এবং ৪ হাজার ৫০০ লিটার অকটেন পেয়েছিলাম। তা এখন সব শেষ।

 

অপরদিকে খলিশাকুন্ডি’র হাফিজ ফিলিং স্টেশনের কয়েকজনকর্মচারীর সঙ্গে কথা বললে তারাও একই ধরনের তথ্য দেন। তারা জানান, পাম্পে পেট্রোল শেষ হয়ে গেছে। তাদের অকটেন বিক্রির অনুমোদন নেই। তবে সামান্য কিছু ডিজেল থাকায় সেটি সারাদিন অল্প অল্প করে বিক্রি করা হচ্ছে।

 

মোটরসাইকেল চালক আবজাল হােসেন বলেন, আমরা বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করি। সারাক্ষণ মোটরসাইকেল নিয়ে কাজ করতে হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে দৌলতপুর ফিলিং স্টেশন গুলোতে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। আজ সকাল থেকে ও বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ঘুরে ঘুরে দেখলাম কোথাও তেল নাই। স্টেশনগুলো বন্ধ রেখেছে মালিকরা। তেল না পাওয়ায় আমাদের কাজ একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে।

 

প্রাইভেটকার চালক নুর ইসলাম বলেন, আমার গাড়ি গ্যাস কনভার্সন না করা থাকায় জ্বালানি তেল অক্টেন কিংবা পেট্রোল দিয়েই চলতে হয়। আজ সকাল থেকে বিভিন্ন পাম্পে গিয়ে তেলের জন্য ঘুরেও কোথাও পাওয়া গেল না। এখন গাড়িতে সামান্য তেল আছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হওয়া দরকার।

 

এদিকে সীমান্ত এলাকায় জ্বালানি তেলের পাচার রোধে কঠোর নজরদারিতে রয়েছে বিজিবি। সীমান্তজুড়ে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহভাজন যানবাহন ও চলাচলের ওপর তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

 

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, কিছু এজেন্সির কাছে তেল মজুদ রয়েছে, এমন অভিযোগ আমরা পেয়েছি। কেউ যদি তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে দৌলতপুর উপজেলার পরিবহন ব্যবস্থা ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় ফিলিং স্টেশন মালিক ও সাধারণ গ্রাহকরা।