ঢাকা , বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

চাকরিচ্যুতির ৩৯ বছর পর সব পাওনা বুঝে পাচ্ছেন সেই ওবায়দুল

বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ওবায়দুল আলম আকন। ছবি-সংগৃহীত

১৯৮২ সালে চাকরি হারানো পটুয়াখালীর বাউফলের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ওবায়দুল আলম আকনের পক্ষেই সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছেন সুপ্রিমকোর্ট।

সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পুনর্বিবেচনা চেয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আবেদন সোমবার খারিজ করে দিয়েছে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির ভার্চুয়াল আপিল বেঞ্চ।

ফলে চাকরি হারানোর ৪৩ বছর পর সে সময়ের পাট সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এই কর্মী বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাসহ সমুদয় পাওনা পেতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

আদালতে মো. ওবায়দুল আলম আকনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী নোমান হোসাইন তালুকদার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্তি অ্যাটর্নি জেনারেল এসকে মোরশেদ।

নোমান গণমাধ্যমকে বলেন, আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের রিভিউ আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাসহ যাবতীয় পাওনা বুঝিয়ে দিতে প্রথমে হাইকোর্ট ও পরে আপিল বিভাগ যে রায় দিয়েছিলেন সেটিই বহাল আছে।

এখন ওবায়দুল আলম আকনকে অবসর পর্যন্ত তার চাকরির সব পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে বলে জানান তিনি।

আড়াই টাকা বেশি মূল্যে সরকারি পাট বীজ বিক্রির অভিযোগে ১৯৮২ সালের ১৫ এপ্রিল তৎকালীন পাট সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাক্তন পাট সম্প্রসারণ সহকারী মো. ওবায়দুল আলম আকনকে গ্রেফতার করা হয়।

এই অভিযোগে ওই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর তাকে চাকরিচ্যুত করার পাশাপাশি দুই মাস জেল ও এক হাজার টাকা জরিমানা করে সামরিক আদালত। সাজা অনুযায়ী তিনি জেল খাটেন এবং জরিমানার টাকা পরিশোধ করেন।

এরপর চাকরি বা চাকরির পাওনা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করেননি আকন। কিন্তু ২০১০ সালের পর ২০১১ সালে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করা হলে মো. ওবায়দুল আলম আকন চাকরির পাওনা বুঝে পাওয়ার পথ খুঁজে পান।

আদালতের সাজা ও চাকুরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ২০১২ সালে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন আকন।

সে রিট আবেদনে চাকুরিচ্যুতি থেকে অবসর পর্যন্ত যাতীয় সুযোগ-সুবিধাসহ বেতনভাতা পেতে আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়।

এ রিটের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে ২০১৭ সালের ২০ নভেম্বর হাইকোর্ট রায় দেয়। রায়ে সামরিক আদালতের সাজা অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট।

সেই সঙ্গে আবেদনকারী মো. ওবায়দুল আলম আকনকে তার চাকরি জীবনের অবসর পর্যন্ত বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাসহ যাবতীয় পাওনা দিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তথা কৃষি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়।

১৯৭৪ সালে পাট সম্প্রসারণ সহকারী পদে যোগ দেন মো. ওবায়দুল আলম  আকন। চাকরির সময়কাল অনুযায়ী ২০১২ সালে তার অবসরে যাওয়ার কথা ছিল।

হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আপিল করলে ২০২০ সালের ৮ মার্চ আপিল বিভাগ রায় দেয়।

রায়ে বেতন-ভাতা সংক্রান্ত অংশ বহাল রেখে সামরিক আদালতের সাজা অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্টের রায়ের অংশটি বাদ দেওয়া হয়।

গত বছর এ রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে ফের আবেদন করে কৃষি সম্প্রসারণ অদিদপ্তর। এ আবেদনের শুনানির পর তা খারিজ করে রায় দিল সর্বোচ্চ আদালত।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লায় দুই শিশুকে সড়কের পাশে রেখে যাওয়ার অভিযোগ

error: Content is protected !!

চাকরিচ্যুতির ৩৯ বছর পর সব পাওনা বুঝে পাচ্ছেন সেই ওবায়দুল

আপডেট টাইম : ০৪:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুন ২০২১
ডেস্ক রিপোর্টঃ :

১৯৮২ সালে চাকরি হারানো পটুয়াখালীর বাউফলের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ওবায়দুল আলম আকনের পক্ষেই সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছেন সুপ্রিমকোর্ট।

সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পুনর্বিবেচনা চেয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আবেদন সোমবার খারিজ করে দিয়েছে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির ভার্চুয়াল আপিল বেঞ্চ।

ফলে চাকরি হারানোর ৪৩ বছর পর সে সময়ের পাট সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এই কর্মী বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাসহ সমুদয় পাওনা পেতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

আদালতে মো. ওবায়দুল আলম আকনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী নোমান হোসাইন তালুকদার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্তি অ্যাটর্নি জেনারেল এসকে মোরশেদ।

নোমান গণমাধ্যমকে বলেন, আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের রিভিউ আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাসহ যাবতীয় পাওনা বুঝিয়ে দিতে প্রথমে হাইকোর্ট ও পরে আপিল বিভাগ যে রায় দিয়েছিলেন সেটিই বহাল আছে।

এখন ওবায়দুল আলম আকনকে অবসর পর্যন্ত তার চাকরির সব পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে বলে জানান তিনি।

আড়াই টাকা বেশি মূল্যে সরকারি পাট বীজ বিক্রির অভিযোগে ১৯৮২ সালের ১৫ এপ্রিল তৎকালীন পাট সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাক্তন পাট সম্প্রসারণ সহকারী মো. ওবায়দুল আলম আকনকে গ্রেফতার করা হয়।

এই অভিযোগে ওই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর তাকে চাকরিচ্যুত করার পাশাপাশি দুই মাস জেল ও এক হাজার টাকা জরিমানা করে সামরিক আদালত। সাজা অনুযায়ী তিনি জেল খাটেন এবং জরিমানার টাকা পরিশোধ করেন।

এরপর চাকরি বা চাকরির পাওনা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করেননি আকন। কিন্তু ২০১০ সালের পর ২০১১ সালে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করা হলে মো. ওবায়দুল আলম আকন চাকরির পাওনা বুঝে পাওয়ার পথ খুঁজে পান।

আদালতের সাজা ও চাকুরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ২০১২ সালে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন আকন।

সে রিট আবেদনে চাকুরিচ্যুতি থেকে অবসর পর্যন্ত যাতীয় সুযোগ-সুবিধাসহ বেতনভাতা পেতে আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়।

এ রিটের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে ২০১৭ সালের ২০ নভেম্বর হাইকোর্ট রায় দেয়। রায়ে সামরিক আদালতের সাজা অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট।

সেই সঙ্গে আবেদনকারী মো. ওবায়দুল আলম আকনকে তার চাকরি জীবনের অবসর পর্যন্ত বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাসহ যাবতীয় পাওনা দিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তথা কৃষি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়।

১৯৭৪ সালে পাট সম্প্রসারণ সহকারী পদে যোগ দেন মো. ওবায়দুল আলম  আকন। চাকরির সময়কাল অনুযায়ী ২০১২ সালে তার অবসরে যাওয়ার কথা ছিল।

হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আপিল করলে ২০২০ সালের ৮ মার্চ আপিল বিভাগ রায় দেয়।

রায়ে বেতন-ভাতা সংক্রান্ত অংশ বহাল রেখে সামরিক আদালতের সাজা অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্টের রায়ের অংশটি বাদ দেওয়া হয়।

গত বছর এ রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে ফের আবেদন করে কৃষি সম্প্রসারণ অদিদপ্তর। এ আবেদনের শুনানির পর তা খারিজ করে রায় দিল সর্বোচ্চ আদালত।