ঢাকা , শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

কুষ্টিয়ায় পেট্রোল পাম্পে হঠাৎ ভিড়, তেল কিনতে দীর্ঘ লাইন

ইসমাইল হােসেন বাবুঃ

ধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়ায় জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে। এই কারণে সরকারের নিয়ম অনুযায়ী পেট্রোল পাম্পে মােটর সাইকেল প্রতি দুই লিটার করে তেল নিতে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

 

ভবিষ্যতে সংকট হতে পারে এমন আশঙ্কায় অনেকেই গাড়ির ট্যাংক পূর্ণ করে নিতে চাচ্ছে। এই নিয়ে পেট্রোল পাম্প ষ্টেশন গুলােত ষ্টাফদের সাথে হচ্ছে বাকবিতন্ড। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় পাম্প গুলোতে ক্রেতার চাপ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। পেট্রোল পাম্পে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

 

সােমবার (৯ মার্চ) জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে ক্রেতারা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করছেন। অনেকেই বেশি পরিমাণ তেল নিতে এলেও কম তেল নিয়েই ফিরে যাচ্ছেন। অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন পাম্প মালিকরা।

ভেড়ামারা বার মাইল মিজান ফিলিং ষ্টেশনের মালিক মিজান বলেন, ‌আমরা খুলনার নোয়াপাড়া ডিপো থেকে তেল সংগ্রহ করি। বর্তমানে জ্বালানি তেল বিক্রিতে কোটা সিস্টেম চালু হয়েছে। আগে দৈনিক তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার লিটার তেল বিক্রি হতো। এখন চাহিদা বেড়ে ১০-১২ হাজার লিটার বিক্রি হচ্ছে।

 

কুষ্টিয়া শহরের আরোকটি তেলপাম্প মেসার্স কুতুব উদ্দীন পেট্রোলিয়াম। এ স্টেশনের ক্যাশিয়ার মনজের আলী বলেন, আগে যেখানে দৈনিক প্রায় পাঁচ হাজার লিটার ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি হতো, এখন তা বেড়ে প্রায় ১২ হাজার লিটারে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ ক্রেতাদের ২ লিটারের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। তবে কৃষকদের ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা রাখা হয়েছে।

 

ভেড়ামারা শহরের খালেক ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার একরাম হােসেন বলেন, আগে দৈনিক পাঁচ হাজার লিটার তেল বিক্রি হতো, এখন প্রায় ১০ হাজার লিটার বিক্রি হচ্ছে। ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় আমরা ক্রেতাদের প্রয়োজনমতো দিতে পারছি না।

 

দৌলতপুর উপজেলার আল্লারদর্গ দফাদার ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার কমিরুল ইসলাম। তিনি জানান, হঠাৎ করে ক্রেতাদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে কষ্ট হচ্ছে। আগে দৈনিক তিন থেকে চার হাজার লিটার বিক্রি হলেও এখন তা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ডিজেল তেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

 

পাম্প মালিকরা বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেলের দাম বাড়তে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনে মজুত করছেন। এভাবে চলতে থাকলে দেশে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তারা।

 

এ বিষয়ে ভেড়ামারা উপজেলার নির্বাহী অফিসাস মাে: রফিকুল ইসলাম বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সরবরাহও স্বাভাবিক আছে। গুজব বা আতঙ্কে অপ্রয়োজনীয় ভাবে তেল কেনা বা মজুত করার দরকার নেই।

 

তিনি আরও বলেন, কেউ যদি অবৈধভাবে তেল মজুত করেন বা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করার চেষ্টা করেন, তাহলে প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভাতিজাদের হামলায় চাচা নিহত, আহত মৎস্যজীবী দলের নেতা

error: Content is protected !!

কুষ্টিয়ায় পেট্রোল পাম্পে হঠাৎ ভিড়, তেল কিনতে দীর্ঘ লাইন

আপডেট টাইম : ০৪:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
ইসমাইল হােসেন বাবু, সিনিয়র ষ্টাফ রিপাের্টার :

ইসমাইল হােসেন বাবুঃ

ধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়ায় জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে। এই কারণে সরকারের নিয়ম অনুযায়ী পেট্রোল পাম্পে মােটর সাইকেল প্রতি দুই লিটার করে তেল নিতে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

 

ভবিষ্যতে সংকট হতে পারে এমন আশঙ্কায় অনেকেই গাড়ির ট্যাংক পূর্ণ করে নিতে চাচ্ছে। এই নিয়ে পেট্রোল পাম্প ষ্টেশন গুলােত ষ্টাফদের সাথে হচ্ছে বাকবিতন্ড। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় পাম্প গুলোতে ক্রেতার চাপ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। পেট্রোল পাম্পে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

 

সােমবার (৯ মার্চ) জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে ক্রেতারা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করছেন। অনেকেই বেশি পরিমাণ তেল নিতে এলেও কম তেল নিয়েই ফিরে যাচ্ছেন। অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন পাম্প মালিকরা।

ভেড়ামারা বার মাইল মিজান ফিলিং ষ্টেশনের মালিক মিজান বলেন, ‌আমরা খুলনার নোয়াপাড়া ডিপো থেকে তেল সংগ্রহ করি। বর্তমানে জ্বালানি তেল বিক্রিতে কোটা সিস্টেম চালু হয়েছে। আগে দৈনিক তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার লিটার তেল বিক্রি হতো। এখন চাহিদা বেড়ে ১০-১২ হাজার লিটার বিক্রি হচ্ছে।

 

কুষ্টিয়া শহরের আরোকটি তেলপাম্প মেসার্স কুতুব উদ্দীন পেট্রোলিয়াম। এ স্টেশনের ক্যাশিয়ার মনজের আলী বলেন, আগে যেখানে দৈনিক প্রায় পাঁচ হাজার লিটার ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি হতো, এখন তা বেড়ে প্রায় ১২ হাজার লিটারে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ ক্রেতাদের ২ লিটারের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। তবে কৃষকদের ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা রাখা হয়েছে।

 

ভেড়ামারা শহরের খালেক ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার একরাম হােসেন বলেন, আগে দৈনিক পাঁচ হাজার লিটার তেল বিক্রি হতো, এখন প্রায় ১০ হাজার লিটার বিক্রি হচ্ছে। ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় আমরা ক্রেতাদের প্রয়োজনমতো দিতে পারছি না।

 

দৌলতপুর উপজেলার আল্লারদর্গ দফাদার ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার কমিরুল ইসলাম। তিনি জানান, হঠাৎ করে ক্রেতাদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে কষ্ট হচ্ছে। আগে দৈনিক তিন থেকে চার হাজার লিটার বিক্রি হলেও এখন তা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ডিজেল তেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

 

পাম্প মালিকরা বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেলের দাম বাড়তে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনে মজুত করছেন। এভাবে চলতে থাকলে দেশে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তারা।

 

এ বিষয়ে ভেড়ামারা উপজেলার নির্বাহী অফিসাস মাে: রফিকুল ইসলাম বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সরবরাহও স্বাভাবিক আছে। গুজব বা আতঙ্কে অপ্রয়োজনীয় ভাবে তেল কেনা বা মজুত করার দরকার নেই।

 

তিনি আরও বলেন, কেউ যদি অবৈধভাবে তেল মজুত করেন বা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করার চেষ্টা করেন, তাহলে প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।