ঢাকা , শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

কালিয়াকৈরে আগুনে পুড়ে ছাই অসহায় হযরত আলির একমাত্র বসতঘর, সহযোগিতার আশায় পরিবার

মাহবুবুর রহমান সোহেলঃ

 

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে হতদরিদ্র দিনমজুর হযরত আলির একমাত্র আশ্রয়স্থল। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট আগুনে মুহূর্তের মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে তার দীর্ঘদিনের সংগ্রামে গড়ে তোলা আধাপাকা টিনশেড বসতঘর। এতে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তিনি ও তার পরিবার।

 

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ১ নম্বর ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাদুল্লাপুর গ্রামে। বুধবার (২১ জানুয়ারি ২০২৬) দিবাগত গভীর রাতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে পুড়ে ঘরের ভেতরে থাকা প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়ে যায়।

 

ক্ষতিগ্রস্ত হযরত আলি জানান, তিনি হাঁটুভাঙা এলাকার একটি ইটভাটায় দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলে অবস্থান করছিলেন। ভোরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বাড়িতে ফিরে এসে দেখেন—তার একমাত্র ঘরটি আগুনে পুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চোখের সামনে সব শেষ হয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

 

তিনি আরও জানান, সৌভাগ্যক্রমে ঘটনার সময় তার স্ত্রী ও সন্তানরা আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁই হারিয়ে বর্তমানে পরিবারটি চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে।

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হঠাৎ ঘরটিতে আগুন দেখতে পান এলাকাবাসী। দ্রুত আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুনের তীব্রতায় অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো ঘরটি পুড়ে যায়। বহু চেষ্টা করেও ভেতর থেকে কোনো জিনিসপত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

 

এ বিষয়ে ১ নম্বর ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক চার লাখ টাকা। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারি অনুদান পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফখরোল হোসেন বলেন, আগুনে ঘর পুড়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারি সহায়তার আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

এদিকে সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া হযরত আলি ও তার পরিবার নতুন করে মাথা গোঁজার ঠাঁই ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়া পুলিশের সফল অভিযানে অস্ত্র, গুলি ও ম্যাগজিনসহ যুবক আটক

error: Content is protected !!

কালিয়াকৈরে আগুনে পুড়ে ছাই অসহায় হযরত আলির একমাত্র বসতঘর, সহযোগিতার আশায় পরিবার

আপডেট টাইম : ০৭:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
মাহবুবুর রহমান সোহেল, বিশেষ প্রতিনিধি :

মাহবুবুর রহমান সোহেলঃ

 

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে হতদরিদ্র দিনমজুর হযরত আলির একমাত্র আশ্রয়স্থল। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট আগুনে মুহূর্তের মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে তার দীর্ঘদিনের সংগ্রামে গড়ে তোলা আধাপাকা টিনশেড বসতঘর। এতে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তিনি ও তার পরিবার।

 

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ১ নম্বর ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাদুল্লাপুর গ্রামে। বুধবার (২১ জানুয়ারি ২০২৬) দিবাগত গভীর রাতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে পুড়ে ঘরের ভেতরে থাকা প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়ে যায়।

 

ক্ষতিগ্রস্ত হযরত আলি জানান, তিনি হাঁটুভাঙা এলাকার একটি ইটভাটায় দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলে অবস্থান করছিলেন। ভোরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বাড়িতে ফিরে এসে দেখেন—তার একমাত্র ঘরটি আগুনে পুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চোখের সামনে সব শেষ হয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

 

তিনি আরও জানান, সৌভাগ্যক্রমে ঘটনার সময় তার স্ত্রী ও সন্তানরা আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁই হারিয়ে বর্তমানে পরিবারটি চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে।

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হঠাৎ ঘরটিতে আগুন দেখতে পান এলাকাবাসী। দ্রুত আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুনের তীব্রতায় অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো ঘরটি পুড়ে যায়। বহু চেষ্টা করেও ভেতর থেকে কোনো জিনিসপত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

 

এ বিষয়ে ১ নম্বর ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক চার লাখ টাকা। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারি অনুদান পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফখরোল হোসেন বলেন, আগুনে ঘর পুড়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারি সহায়তার আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

এদিকে সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া হযরত আলি ও তার পরিবার নতুন করে মাথা গোঁজার ঠাঁই ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।