ঢাকা , শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

ইবি শিক্ষক খুনের ঘটনায় দুই শিক্ষকসহ ৪ জনের নামে মামলা

ইসমাইল হােসেন বাবুঃ

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের কারণ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। এটি কেবল বদলিজনিত ক্ষোভ নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে, তা উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।

 

আজ বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) সকালে নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান বাদী হয়ে ঘাতক কর্মচারী ফজলুর রহমান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যান বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিষ্টার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার, এবং সহকারী অধ্যাপক মোঃ হাবিবুর রহমানের নামে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন নিহতের স্বামী মোঃ ইমতিয়াজ সুলতান।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মাসুদ রানা জানান, আজ বৃহস্পতিবার সকালে নিহত আসমা সাদিয়া রুনার স্বামী মোঃ ইমতিয়াজ সুলতান ৪ জনকে আসামী করে একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন। মামলাটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

ময়নাতদন্তে নিহতের শরীরে নৃশংসতার ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আসমা সাদিয়ার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ২০টিরও বেশি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিশেষ করে গলার নিচে সজোরে আঘাতের ফলে সৃষ্ট গভীর ক্ষতকেই মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। ধস্তাধস্তির সময় বাঁচার চেষ্টায় তার হাতেও আঘাত লেগেছে। চিকিৎসকদের মতে, আঘাতের ধরন দেখে মনে হয়েছে এটি চরম ক্ষোভ ও আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ।

 

এদিকে, আজ সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে নিহত আসমা সাদিয়া রুনার ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এসময় এই ন্যাক্কার জনক হত্যাকান্ডের কঠোর বিচার চেয়েছেন নিহতের সহকর্মী ও স্বজনরা। আজ বৃহস্পতিবার বাদ যোহর কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জানাজা শেষে কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হবে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

 

নিহত আসমা সাদিয়া রুনা কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ মোড়ে বসবাস করতেন। তিনি তিন মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের জননী। এছাড়াও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির সমাজ কল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

 

এর আগে, গতকাল বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে ক্যাম্পের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে নিজ অফিস কক্ষে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ অফিসে গলা কেটে হত্যা করে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমান। পরে তিনি নিজেও ঐ কক্ষেই নিজ গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। ফজলুর বর্তমানে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

উল্লেখ্য, বুধবার বিকেল ৪টার দিকে আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরিকাঘাত করেন ফজলুর রহমান। পরে নিজেও গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। গুরুতর অবস্থায় দু’জনকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে আসমা সাদিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমান চিকিৎসাধীন।

 

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ও নিহতের পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে কেন এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চালাচ্ছে প্রশাসন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভাতিজাদের হামলায় চাচা নিহত, আহত মৎস্যজীবী দলের নেতা

error: Content is protected !!

ইবি শিক্ষক খুনের ঘটনায় দুই শিক্ষকসহ ৪ জনের নামে মামলা

আপডেট টাইম : ০৫:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
ইসমাইল হােসেন বাবু, সিনিয়র ষ্টাফ রিপাের্টার :

ইসমাইল হােসেন বাবুঃ

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের কারণ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। এটি কেবল বদলিজনিত ক্ষোভ নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে, তা উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।

 

আজ বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) সকালে নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান বাদী হয়ে ঘাতক কর্মচারী ফজলুর রহমান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যান বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিষ্টার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার, এবং সহকারী অধ্যাপক মোঃ হাবিবুর রহমানের নামে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন নিহতের স্বামী মোঃ ইমতিয়াজ সুলতান।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মাসুদ রানা জানান, আজ বৃহস্পতিবার সকালে নিহত আসমা সাদিয়া রুনার স্বামী মোঃ ইমতিয়াজ সুলতান ৪ জনকে আসামী করে একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন। মামলাটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

ময়নাতদন্তে নিহতের শরীরে নৃশংসতার ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আসমা সাদিয়ার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ২০টিরও বেশি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিশেষ করে গলার নিচে সজোরে আঘাতের ফলে সৃষ্ট গভীর ক্ষতকেই মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। ধস্তাধস্তির সময় বাঁচার চেষ্টায় তার হাতেও আঘাত লেগেছে। চিকিৎসকদের মতে, আঘাতের ধরন দেখে মনে হয়েছে এটি চরম ক্ষোভ ও আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ।

 

এদিকে, আজ সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে নিহত আসমা সাদিয়া রুনার ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এসময় এই ন্যাক্কার জনক হত্যাকান্ডের কঠোর বিচার চেয়েছেন নিহতের সহকর্মী ও স্বজনরা। আজ বৃহস্পতিবার বাদ যোহর কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জানাজা শেষে কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হবে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

 

নিহত আসমা সাদিয়া রুনা কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ মোড়ে বসবাস করতেন। তিনি তিন মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের জননী। এছাড়াও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির সমাজ কল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

 

এর আগে, গতকাল বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে ক্যাম্পের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে নিজ অফিস কক্ষে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ অফিসে গলা কেটে হত্যা করে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমান। পরে তিনি নিজেও ঐ কক্ষেই নিজ গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। ফজলুর বর্তমানে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

উল্লেখ্য, বুধবার বিকেল ৪টার দিকে আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরিকাঘাত করেন ফজলুর রহমান। পরে নিজেও গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। গুরুতর অবস্থায় দু’জনকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে আসমা সাদিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমান চিকিৎসাধীন।

 

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ও নিহতের পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে কেন এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চালাচ্ছে প্রশাসন।