ঢাকা , সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত Logo সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি Logo নগরকান্দায় ৯৫০ পিচ ইয়াবাসহ আটক ১
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

অবৈধ অটোরিকশার স্বর্গরাজ্য গাজীপুর: প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে চাঁদাবাজি

মোঃ আরমান হোসেনঃ

 

গাজীপুরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক কেন্দ্রিক এলাকায় এসব যানবাহনকে ‘বৈধতা’ দেওয়ার নামে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

অবৈধ অটোরিকশাকে বৈধ বানিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রতিটি অটোরিকশা মালিকের কাছ থেকে ২৫০০/৩০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে বলে জানা যায়।

 

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশে হলুদ রঙের পোশাক পরিহিত কয়েকজন তরুণ এক হাতে লাঠি ও অন্য হাতে লাইট নিয়ে যানজট নিয়ন্ত্রণের নামে অবস্থান করছেন।

 

তবে তারা কেউই ট্রাফিক পুলিশ বা সরকারি কোনো সংস্থার সদস্য নন। নিজেদের ‘ভলেন্টিয়ার’ পরিচয় দিয়ে তারা মহাসড়কে কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশ ইলেকট্রিক ব্যাটারি ও মোটরচালিত অটোরিকশা অটোবাইক সার্ভিস লিঃ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে গাজীপুর জেলা ও মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোতে যানজট নিরসনের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

 

অভিযোগ রয়েছে, এই সংগঠনের মাধ্যমে অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিকদের কাছ থেকে ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকার বিনিময়ে তথাকথিত ‘ইনকর্পোরেশন সার্টিফিকেট’ দেওয়া হচ্ছে, যা দেখিয়ে তারা অটোরিকশাকে বৈধ দাবি করছেন।

 

আনোয়ার নামে এক অটোরিকশা চালক বলেন, আমগো অটোরিকশার সামনে দাঁড়াইলে ১০/২০ টাকা দিতে হয়, না দিলে পুলিশ রে দিয়া ধরাইয়া দেয়। এহন আমরা কি করমু। আরো জানতে চাইলে বলেন, এর বেশি কিছু কইতে পারমু না তাইলে ঝামেলা আছে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, মজিবর রানার আন্ডারে তারা মহাসড়কে কাজ করে প্রতি অটোরিকশা থেকে ১০-২০ টাকা করে নেয়, টাকা না দিলে পুলিশ রে দিয়া ধরাইয়া দেয়।

 

মহাসড়কে ট্রাফিক পুলিশের সহযোগী হিসেবে কাজ করতে হলুদ রঙের পোশাক নিতে মজিবুর রানাকে ৩০০ টাকা করে দিতে হয়। এই জায়গাই কোনো বেতন নাই, ৫ আগষ্টের পরে থেকে ক্ষমতা ও জোরের মধ্যে আদিল টাকা গুলো কালেকশন করে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও একজন বলেন, মজিবর রানার কাছ থেকে ২৫০০ টাকা দিয়ে কার্ড কিনে উপরে যা বেচতে পারি তা আমার থাকবো।

 

এদিকে গাজীপুর মহানগর ও মহাসড়কজুড়ে অবৈধ অটোরিকশার দৌরাত্ম্যে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

 

গাজীপুর জেলা ও মহানগরের আনাচে- কানাচে এসব যানবাহনের অবাধ চলাচলের কারণে প্রায়ই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট ও দুর্ঘটনা। অধিকাংশ অটোরিকশার চালকই শিশু- কিশোর বা অনভিজ্ঞ তরুণ, যারা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছেন এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছেন।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, এত বেশি অটোরিকশার চলাচলের কারণে জরুরি যানবাহন পর্যন্ত আটকে পড়ছে। তারা অবিলম্বে অবৈধ অটোরিকশার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, এসব অবৈধ অটোরিকশা শহর ও গ্রামের বিভিন্ন গ্যারেজে তৈরি হচ্ছে। কিছু অসাধু চক্র অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে চার্জ ব্যবসা পরিচালনা করছে, যার ফলে বিদ্যুৎ চুরি ও সরকারের রাজস্ব ক্ষতির ঘটনাও ঘটছে।

 

এবিষয়ে ঘটনা অস্বীকার করে মজিবুর রানা বলেন, বিআরটির মাধ্যমে লাইসেন্স দিবো, এটা আমরা দেই না। প্রতিবেদককে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন।

 

ঘটনা স্বীকার করে অভিযুক্ত আদিল বলেন, কারো কাছ থেকে জোড় করে টাকা নেই না, যারা ভালোবাইসা টাকা দেয় তাদের কাছ থেইকা নেই। তিনশো টাকার বিনিময়ে একটি পোশাক দেয় তারা। ট্রাফিক বিভাগ, ডিসি অফিসের অনুমোদন নিয়ে মজিবুর রানা আমাদের দায়িত্ব দিছে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় হারিয়ে যাওয়া দাঁড়িয়াবান্ধা খেলা ঘিরে উৎসবের আমেজ

error: Content is protected !!

অবৈধ অটোরিকশার স্বর্গরাজ্য গাজীপুর: প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে চাঁদাবাজি

আপডেট টাইম : ০৫:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
মোঃ আরমান হোসেন, গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি :

মোঃ আরমান হোসেনঃ

 

গাজীপুরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক কেন্দ্রিক এলাকায় এসব যানবাহনকে ‘বৈধতা’ দেওয়ার নামে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

অবৈধ অটোরিকশাকে বৈধ বানিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রতিটি অটোরিকশা মালিকের কাছ থেকে ২৫০০/৩০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে বলে জানা যায়।

 

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশে হলুদ রঙের পোশাক পরিহিত কয়েকজন তরুণ এক হাতে লাঠি ও অন্য হাতে লাইট নিয়ে যানজট নিয়ন্ত্রণের নামে অবস্থান করছেন।

 

তবে তারা কেউই ট্রাফিক পুলিশ বা সরকারি কোনো সংস্থার সদস্য নন। নিজেদের ‘ভলেন্টিয়ার’ পরিচয় দিয়ে তারা মহাসড়কে কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশ ইলেকট্রিক ব্যাটারি ও মোটরচালিত অটোরিকশা অটোবাইক সার্ভিস লিঃ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে গাজীপুর জেলা ও মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোতে যানজট নিরসনের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

 

অভিযোগ রয়েছে, এই সংগঠনের মাধ্যমে অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিকদের কাছ থেকে ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকার বিনিময়ে তথাকথিত ‘ইনকর্পোরেশন সার্টিফিকেট’ দেওয়া হচ্ছে, যা দেখিয়ে তারা অটোরিকশাকে বৈধ দাবি করছেন।

 

আনোয়ার নামে এক অটোরিকশা চালক বলেন, আমগো অটোরিকশার সামনে দাঁড়াইলে ১০/২০ টাকা দিতে হয়, না দিলে পুলিশ রে দিয়া ধরাইয়া দেয়। এহন আমরা কি করমু। আরো জানতে চাইলে বলেন, এর বেশি কিছু কইতে পারমু না তাইলে ঝামেলা আছে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, মজিবর রানার আন্ডারে তারা মহাসড়কে কাজ করে প্রতি অটোরিকশা থেকে ১০-২০ টাকা করে নেয়, টাকা না দিলে পুলিশ রে দিয়া ধরাইয়া দেয়।

 

মহাসড়কে ট্রাফিক পুলিশের সহযোগী হিসেবে কাজ করতে হলুদ রঙের পোশাক নিতে মজিবুর রানাকে ৩০০ টাকা করে দিতে হয়। এই জায়গাই কোনো বেতন নাই, ৫ আগষ্টের পরে থেকে ক্ষমতা ও জোরের মধ্যে আদিল টাকা গুলো কালেকশন করে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও একজন বলেন, মজিবর রানার কাছ থেকে ২৫০০ টাকা দিয়ে কার্ড কিনে উপরে যা বেচতে পারি তা আমার থাকবো।

 

এদিকে গাজীপুর মহানগর ও মহাসড়কজুড়ে অবৈধ অটোরিকশার দৌরাত্ম্যে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

 

গাজীপুর জেলা ও মহানগরের আনাচে- কানাচে এসব যানবাহনের অবাধ চলাচলের কারণে প্রায়ই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট ও দুর্ঘটনা। অধিকাংশ অটোরিকশার চালকই শিশু- কিশোর বা অনভিজ্ঞ তরুণ, যারা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছেন এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছেন।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, এত বেশি অটোরিকশার চলাচলের কারণে জরুরি যানবাহন পর্যন্ত আটকে পড়ছে। তারা অবিলম্বে অবৈধ অটোরিকশার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, এসব অবৈধ অটোরিকশা শহর ও গ্রামের বিভিন্ন গ্যারেজে তৈরি হচ্ছে। কিছু অসাধু চক্র অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে চার্জ ব্যবসা পরিচালনা করছে, যার ফলে বিদ্যুৎ চুরি ও সরকারের রাজস্ব ক্ষতির ঘটনাও ঘটছে।

 

এবিষয়ে ঘটনা অস্বীকার করে মজিবুর রানা বলেন, বিআরটির মাধ্যমে লাইসেন্স দিবো, এটা আমরা দেই না। প্রতিবেদককে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন।

 

ঘটনা স্বীকার করে অভিযুক্ত আদিল বলেন, কারো কাছ থেকে জোড় করে টাকা নেই না, যারা ভালোবাইসা টাকা দেয় তাদের কাছ থেইকা নেই। তিনশো টাকার বিনিময়ে একটি পোশাক দেয় তারা। ট্রাফিক বিভাগ, ডিসি অফিসের অনুমোদন নিয়ে মজিবুর রানা আমাদের দায়িত্ব দিছে।