ঢাকা , বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

৫ ঘণ্টায় গুনে আব্দুল হামিদ দানিশ মন্দ মাজারে মিলল দেড় লাখ

আব্দুল হামিদ মিঞাঃ

 

৫ ঘণ্টায় গুনে হজরত আব্দুল হামিদ দানিশ মন্দ (রহ.) মাজারে প্রায় দেড় লাখ টাকা পাওয়া গেছে| মাজারের তালা খুলে টানা ৫ ঘণ্টা গণনা শেষে টাকাগুলো পাওয়া যায়|

 

মাজার কমিটি সূত্র জানায়, বৃহসপতিবার(৩০-০৪-২০২৬) দুপুরে মাজারের ভেতর থেকে টাকা সংগ্রহ করে দুপুর আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত গণনা করা হয়| এতে সবচেয়ে ১০ টাকার নোট বেশি পাওয়া গেছে | নোট ও কয়েনের হিসাবে- ১০০০ টাকার নোট ৩টি, ৫০০ টাকার নোট ৩২টি, ২০০ টাকার নোট ৩৮টি, ১০০ টাকার নোট ৪৩১টি,৫০ টাকার নোট ৬২৪টি, ২০ টাকার নোট ৪৮০টি, ১০ টাকার নোট ৩৩০০টি, ৫ টাকার নোট ৩৪০টি, ২ টাকার নোট ১০০টি , ৫ টাকার কয়েন ৩০০টি | সর্বমোট ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯০০ টাকা|

ওয়াকফ এস্টেট উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম (রইশ) জানান, “বৃহসতিবার দুপুর আড়াইটায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওয়াকফ কমিটির সহ সভাপতির প্রতিনিধি ও আমার প্রতিনিধির উপস্থিতিতে মাজারের তালা খুলে টাকাগুলো সংগ্রহ করা হয় এবং তাদের মাধ্যমে গণনা শেষে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯০০ টাকা পাওয়া গেছে| পুরো টাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও আমার মাধ্যমে ব্যাংকে জমা দেওয়া হবে|

তিনি আরো জানান, সংগৃহীত অর্থ মাজারের রক্ষণাবেক্ষণ, এতিমদের সহায়তা এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি হিসেবে ব্যয় করা হয়| নিয়মিত হিসাব নিরীক্ষার মাধ্যমে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়|

 

তিনি আরও জানান, দেড় মাস আগে মাজারের ভেতর থেকে ৭১ হাজার ৫৩ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং দানবাক্স থেকে পাওয়া গেছে ৫৭ হাজার ৪১ টাকা| তবে বৃহস্পতিবার দান বাক্স খোলা হয়নি|

 

গণনার সময় উপস্থিত ভক্ত রেজাউল করিম বলেন, টাকাটা ভালো কাজে লাগলেই হলো|

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, মাজারের ভেতরে টাকার স্তূপ উপচে পড়ে আছে| বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছিলেন স্থানীয়রা| তার আগেই প্রশাসন ও কমিটি যৌথভাবে গণনার উদ্যোগ নেয় |

সুত্র জানায়,মাজারটি বাঘা হজরত শাহ দৌলা (রহ.) ওয়াকফ এস্টেটের অধীনে পরিচালিত| মাজার এলাকায় আরও পাঁচটি দানবাক্স রয়েছে| দানবাক্স ও মাজারের ভেতরের টাকা উত্তোলনের জন্য যৌথ হিসাবের ব্যবস্থা রয়েছে| এর চাবি থাকে কমিটির সহসভাপতি ও সদস্য সচিবের কাছে| ফলে এককভাবে কেউ ইচ্ছামতো তা খুলতে পারেন না|

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওয়াকফ কমিটির সহ সভাপতি শাম্মী আক্তার বলেন, “মাজারের আয়-ব্যয়ে  সচ্ছতা আনতে কমিটিকে নিয়মিত গণনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে| ওয়াকফ প্রশাসনের নিয়ম মেনে সব টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা হবে| শিগগিরই আবার দানবাক্স খোলা হবে|’ ‘মাজারের আয়-ব্যয় সচ্ছভাবে পরিচালিত হয়| এখন থেকে প্রতি মাসে একবার করে বাক্স খুলে হিসাব করা হবে| প্রতি মাসের হিসাব আমাদের দপ্তরে দিতে হবে|”

স্থানীয়দের মতে, ধর্মীয় ভক্তি ও আস্থার কেন্দ্র হিসেবে এই মাজার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এখানকার দানের অর্থ সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় এর গুরুত্ব আরও বেড়েছে|

 

উল্লেখ্য, হজরত আব্দুল হামিদ দানিশ মন্দ (রহ.) ও তাঁর পিতা হজরত শাহ মোয়াজ্জেম (রহ.) এই অঞ্চলের প্রখ্যাত সুফি সাধক ছিলেন| প্রায় পাঁচ শতাব্দী আগে তারা ইসলাম প্রচার ও মানবসেবায় আত্মনিয়োগ করেন| বর্তমানে তাদের মাজার বাঘার অন্যতম ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত|

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মুকসুদপুরে যুবদলের প্রতিবাদ মিছিল

error: Content is protected !!

৫ ঘণ্টায় গুনে আব্দুল হামিদ দানিশ মন্দ মাজারে মিলল দেড় লাখ

আপডেট টাইম : ০৯:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
আব্দুল হামিদ মিঞা, বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি :

আব্দুল হামিদ মিঞাঃ

 

৫ ঘণ্টায় গুনে হজরত আব্দুল হামিদ দানিশ মন্দ (রহ.) মাজারে প্রায় দেড় লাখ টাকা পাওয়া গেছে| মাজারের তালা খুলে টানা ৫ ঘণ্টা গণনা শেষে টাকাগুলো পাওয়া যায়|

 

মাজার কমিটি সূত্র জানায়, বৃহসপতিবার(৩০-০৪-২০২৬) দুপুরে মাজারের ভেতর থেকে টাকা সংগ্রহ করে দুপুর আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত গণনা করা হয়| এতে সবচেয়ে ১০ টাকার নোট বেশি পাওয়া গেছে | নোট ও কয়েনের হিসাবে- ১০০০ টাকার নোট ৩টি, ৫০০ টাকার নোট ৩২টি, ২০০ টাকার নোট ৩৮টি, ১০০ টাকার নোট ৪৩১টি,৫০ টাকার নোট ৬২৪টি, ২০ টাকার নোট ৪৮০টি, ১০ টাকার নোট ৩৩০০টি, ৫ টাকার নোট ৩৪০টি, ২ টাকার নোট ১০০টি , ৫ টাকার কয়েন ৩০০টি | সর্বমোট ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯০০ টাকা|

ওয়াকফ এস্টেট উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম (রইশ) জানান, “বৃহসতিবার দুপুর আড়াইটায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওয়াকফ কমিটির সহ সভাপতির প্রতিনিধি ও আমার প্রতিনিধির উপস্থিতিতে মাজারের তালা খুলে টাকাগুলো সংগ্রহ করা হয় এবং তাদের মাধ্যমে গণনা শেষে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯০০ টাকা পাওয়া গেছে| পুরো টাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও আমার মাধ্যমে ব্যাংকে জমা দেওয়া হবে|

তিনি আরো জানান, সংগৃহীত অর্থ মাজারের রক্ষণাবেক্ষণ, এতিমদের সহায়তা এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি হিসেবে ব্যয় করা হয়| নিয়মিত হিসাব নিরীক্ষার মাধ্যমে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়|

 

তিনি আরও জানান, দেড় মাস আগে মাজারের ভেতর থেকে ৭১ হাজার ৫৩ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং দানবাক্স থেকে পাওয়া গেছে ৫৭ হাজার ৪১ টাকা| তবে বৃহস্পতিবার দান বাক্স খোলা হয়নি|

 

গণনার সময় উপস্থিত ভক্ত রেজাউল করিম বলেন, টাকাটা ভালো কাজে লাগলেই হলো|

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, মাজারের ভেতরে টাকার স্তূপ উপচে পড়ে আছে| বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছিলেন স্থানীয়রা| তার আগেই প্রশাসন ও কমিটি যৌথভাবে গণনার উদ্যোগ নেয় |

সুত্র জানায়,মাজারটি বাঘা হজরত শাহ দৌলা (রহ.) ওয়াকফ এস্টেটের অধীনে পরিচালিত| মাজার এলাকায় আরও পাঁচটি দানবাক্স রয়েছে| দানবাক্স ও মাজারের ভেতরের টাকা উত্তোলনের জন্য যৌথ হিসাবের ব্যবস্থা রয়েছে| এর চাবি থাকে কমিটির সহসভাপতি ও সদস্য সচিবের কাছে| ফলে এককভাবে কেউ ইচ্ছামতো তা খুলতে পারেন না|

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওয়াকফ কমিটির সহ সভাপতি শাম্মী আক্তার বলেন, “মাজারের আয়-ব্যয়ে  সচ্ছতা আনতে কমিটিকে নিয়মিত গণনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে| ওয়াকফ প্রশাসনের নিয়ম মেনে সব টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা হবে| শিগগিরই আবার দানবাক্স খোলা হবে|’ ‘মাজারের আয়-ব্যয় সচ্ছভাবে পরিচালিত হয়| এখন থেকে প্রতি মাসে একবার করে বাক্স খুলে হিসাব করা হবে| প্রতি মাসের হিসাব আমাদের দপ্তরে দিতে হবে|”

স্থানীয়দের মতে, ধর্মীয় ভক্তি ও আস্থার কেন্দ্র হিসেবে এই মাজার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এখানকার দানের অর্থ সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় এর গুরুত্ব আরও বেড়েছে|

 

উল্লেখ্য, হজরত আব্দুল হামিদ দানিশ মন্দ (রহ.) ও তাঁর পিতা হজরত শাহ মোয়াজ্জেম (রহ.) এই অঞ্চলের প্রখ্যাত সুফি সাধক ছিলেন| প্রায় পাঁচ শতাব্দী আগে তারা ইসলাম প্রচার ও মানবসেবায় আত্মনিয়োগ করেন| বর্তমানে তাদের মাজার বাঘার অন্যতম ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত|