আব্দুল হামিদ মিঞা:
রাজশাহীর বাঘায় পবিত্র ঈদ উপলক্ষে মেলার জন্য ওয়াকফ্ এস্টেটের মাঠ ইজারা নিতে উন্মুক্ত ডাকে ৩০ মিনিটেই জমা পড়েছে ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার বিডি। উন্মুক্ত এই ডাকে পুরুষদের পাশাপাশি একজন নারীও অংশ নেন। মাজার পরিচালনা কমিটি এ উন্মুক্ত ডাকের আয়োজন করে।
বৃহস্পতিবার (০৫-০৩-২০২৬) দুপুর ২টায় মাজার প্রাঙ্গণে ডাক অনুষ্ঠিত হয়। ১০ লাখ টাকা বিডি জমা দিয়ে বিএনপি দলের এক নারীসহ মোট ৭৫ জন ডাকে অংশ নেন। ৭৩ নম্বর সিরিয়ালে ছিলেন ওই নারী, যিনি ১২ লাখ ৩০ হাজার টাকা ডাক দেন।
সর্বোচ্চ ডাকদাতা উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম (সিরিয়াল নম্বর-৩২) ১২ লাখ ৭০ হাজার টাকায় ১৪ দিনের জন্য ওয়াকফ্ এস্টেটের মাঠ ইজারা পান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ডাক দেন রবিউল ইসলাম—১২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ ডাক দেন মিজানুর রহমান সুমন—১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
গত বছর একই মাঠ ১২ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছিলেন শফিকুল ইসলাম। তখন ৮ লাখ টাকা বিডি জমা দিয়ে ৬৮ জন অংশ নিয়েছিলেন এবং মেলার অনুমতি ছিল ৭ দিনের। এবার অনুমতি দেওয়া হয়েছে ১৪ দিনের এবং ১০ লাখ টাকা বিডি নিয়ে ১৯টি শর্তে মাঠ ইজারা দেওয়া হয়েছে।
শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—ডাকের সমুদয় অর্থ নগদ প্রদান, আইনশৃঙ্খলা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। এছাড়া যাত্রা, নাচ, গান, পুতুলনাচ, জুয়া খেলা, লটারি, অশ্লীল সিডি ও অসামাজিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মেলায় আগত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতি ফুট (দৈর্ঘ্য-প্রস্থের গড়) ১০০ টাকার বেশি এবং আসবাবপত্র ক্রেতাদের কাছ থেকে শতকরা ৫ টাকার বেশি খাজনা আদায় করা যাবে না।
গত বছরের আগের বছর সর্বোচ্চ ২৭ লাখ ৪০ হাজার টাকায় ইজারা নিয়েছিলেন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মামুন হোসেন। সে সময় ৮ লাখ টাকা বিডি জমা দিয়ে ২০ জন অংশ নিয়েছিলেন এবং মেলার অনুমতি ছিল ১৪ দিনের।
এবারের ডাক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাজার পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী আক্তার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাবিহা সুলতানা ডলি, সদস্য সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম (মোতাওয়াল্লী), সদস্য ও অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেরাজুল হক, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম, কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের কর্মকর্তা মনসুর আলী, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার মনোয়ারুল ইসলামসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
তবে অভিযোগ রয়েছে, শর্ত ভঙ্গ হলেও অনেক সময় কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয় না। ইজারাদার শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি শর্ত মেনেই ইজারা নিয়েছেন এবং ধর্মীয় মেলার শৃঙ্খলা বজায় রাখবেন।
জানা যায়, রাজশাহীর বাঘা উপজেলা সদরে প্রতিবছর ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলার জন্য মাঠ ইজারা দেয় মাজার পরিচালনা কমিটি এবং বিধি অনুযায়ী আয়ের একটি অংশ বাঘা পৌরসভা পেয়ে থাকে।
মাজার কমিটির সদস্য সচিব ও ওয়াকফ্ এস্টেটের মোতাওয়াল্লী খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, প্রায় ৫০০ বছর ধরে আব্বাসীয় বংশের হযরত শাহ মোয়াজ্জেম ওরফে শাহদৌলা (রহ.) এবং তার পুত্র হযরত আব্দুল হামিদ দানিশমন্দ (রহ.)-এর ওফাত দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর আরবি শাওয়াল মাসের ৩ তারিখে ওরস অনুষ্ঠিত হয়। ওই ওরস উপলক্ষেই এই মেলার আয়োজন করা হয়।
মাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবং সহ-সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী আক্তার বলেন, ধর্মীয় চেতনায় আঘাত হানতে পারে এমন বিষয়গুলোও শর্তের তালিকায় রাখা হয়েছে। কোনো শর্ত ভঙ্গ করা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি 
আব্দুল হামিদ মিঞা, বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি 





















