ঢাকা , শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

কবরের ফুলগাছ চুরি, পুরো গ্রামে ফুলগাছ লাগিয়ে চোরকে অভিনব জবাব যুবকের

মোঃ নুরুল ইসলাম:

 

দাদি ও বাবার কবরের পাশে শখ করে লাগানো তিনটি ফুলগাছ চুরি হয়ে যায়। কিন্তু সেই ঘটনায় ক্ষোভ, প্রতিশোধ কিংবা অভিযোগের পথ না বেছে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেন ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের যুবক হাওলাদার শামীম আহমেদ। চোরকে শিক্ষা দিতে এবং এলাকায় ফুলগাছ চুরির প্রবণতা কমাতে তিনি পুরো গ্রামজুড়ে ১ হাজার ৫০০টি ফুলগাছ রোপণ করেছেন।

 

জানা যায়, কয়েক মাস আগে নিজের দাদি ও বাবার কবরের পাশে হাসনাহেনা, কামিনী ও শিউলী ফুলের তিনটি চারা রোপণ করেন শামীম। নিয়মিত পরিচর্যায় গাছগুলো বড় হতে থাকে। এর মধ্যে একটি গাছে ফুলও ফোটে। কিন্তু ফুল ফোটার পরদিন সকালে কবরস্থানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, ফুটন্ত গাছসহ তিনটি ফুলগাছই চুরি হয়ে গেছে।

 

এ ঘটনায় কষ্ট পেলেও ভিন্নভাবে বিষয়টি দেখেন তিনি। শামীমের ধারণা, যে ব্যক্তি গাছগুলো চুরি করেছে, সে হয়তো ফুল ভালোবাসে। সেই ভাবনা থেকেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, পুরো গ্রামকে ফুলে সাজিয়ে তুলবেন।

 

পরে নিজ উদ্যোগে শ্রমিক নিয়োগ করে পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের দুই পাশের ৫০০টি বাড়ির সামনে তিনটি করে মোট ১ হাজার ৫০০টি ফুলগাছ রোপণ শুরু করেন। প্রতিটি বাড়ির সামনে লাগানো হয়েছে চুরি হওয়া সেই তিন প্রজাতির গাছ—হাসনাহেনা, কামিনী ও শিউলী।

 

দিনভর বাড়ি বাড়ি ঘুরে গাছ রোপণ করতে দেখা যায় শামীমকে। শুধু গাছ লাগিয়েই দায়িত্ব শেষ করেননি তিনি; স্থানীয় বাসিন্দাদেরও গাছগুলোর পরিচর্যা করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

 

এই উদ্যোগে খুশি এলাকাবাসী। তাদের মতে, কয়েক মাস পর গাছগুলোতে ফুল ফুটলে পুরো গ্রাম সুগন্ধে ভরে উঠবে। পাশাপাশি গ্রামের সৌন্দর্যও বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

 

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “ফুলগাছ চুরির ঘটনার এমন ইতিবাচক জবাব খুব কমই দেখা যায়। একজন মানুষের ব্যক্তিগত ক্ষতি থেকে পুরো গ্রামের জন্য একটি সুন্দর উদ্যোগ তৈরি হয়েছে। এটি সত্যিই প্রশংসনীয়।”

 

হাওলাদার শামীম আহমেদ বলেন, “আমি মনে করেছি, যে ব্যক্তি গাছগুলো চুরি করেছে, সে হয়তো ফুল ভালোবাসে। তাই তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করিনি। বরং এমন ব্যবস্থা করেছি যাতে পুরো গ্রামেই ফুলগাছ থাকে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে হয়তো চোরের বাড়িতেও আমার লাগানো গাছ পৌঁছে গেছে। সে যদি বিষয়টি দেখে অনুতপ্ত হয় এবং ভবিষ্যতে আর এমন কাজ না করে, সেটাই হবে আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

 

তিনি আরও বলেন, “আমার লক্ষ্য শুধু চোরকে শিক্ষা দেওয়া নয়, পুরো গ্রামকে সবুজ ও সুন্দর করে তোলা। ভবিষ্যতে সদরপুর উপজেলার প্রতিটি গ্রামে ফুল ও ঔষধি গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে, মানুষের মধ্যে সবুজায়নের আগ্রহ বাড়বে এবং গ্রাম হবে আরও সুন্দর।”

 

হাওলাদার শামীম আহমেদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকের মতে, নেতিবাচক ঘটনার ইতিবাচক সমাধানের এমন উদাহরণ সমাজের অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

হরিপুরে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শন করলেন ইউএনও

error: Content is protected !!

কবরের ফুলগাছ চুরি, পুরো গ্রামে ফুলগাছ লাগিয়ে চোরকে অভিনব জবাব যুবকের

আপডেট টাইম : ০৪:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
মোঃ নুরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার :

মোঃ নুরুল ইসলাম:

 

দাদি ও বাবার কবরের পাশে শখ করে লাগানো তিনটি ফুলগাছ চুরি হয়ে যায়। কিন্তু সেই ঘটনায় ক্ষোভ, প্রতিশোধ কিংবা অভিযোগের পথ না বেছে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেন ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের যুবক হাওলাদার শামীম আহমেদ। চোরকে শিক্ষা দিতে এবং এলাকায় ফুলগাছ চুরির প্রবণতা কমাতে তিনি পুরো গ্রামজুড়ে ১ হাজার ৫০০টি ফুলগাছ রোপণ করেছেন।

 

জানা যায়, কয়েক মাস আগে নিজের দাদি ও বাবার কবরের পাশে হাসনাহেনা, কামিনী ও শিউলী ফুলের তিনটি চারা রোপণ করেন শামীম। নিয়মিত পরিচর্যায় গাছগুলো বড় হতে থাকে। এর মধ্যে একটি গাছে ফুলও ফোটে। কিন্তু ফুল ফোটার পরদিন সকালে কবরস্থানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, ফুটন্ত গাছসহ তিনটি ফুলগাছই চুরি হয়ে গেছে।

 

এ ঘটনায় কষ্ট পেলেও ভিন্নভাবে বিষয়টি দেখেন তিনি। শামীমের ধারণা, যে ব্যক্তি গাছগুলো চুরি করেছে, সে হয়তো ফুল ভালোবাসে। সেই ভাবনা থেকেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, পুরো গ্রামকে ফুলে সাজিয়ে তুলবেন।

 

পরে নিজ উদ্যোগে শ্রমিক নিয়োগ করে পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের দুই পাশের ৫০০টি বাড়ির সামনে তিনটি করে মোট ১ হাজার ৫০০টি ফুলগাছ রোপণ শুরু করেন। প্রতিটি বাড়ির সামনে লাগানো হয়েছে চুরি হওয়া সেই তিন প্রজাতির গাছ—হাসনাহেনা, কামিনী ও শিউলী।

 

দিনভর বাড়ি বাড়ি ঘুরে গাছ রোপণ করতে দেখা যায় শামীমকে। শুধু গাছ লাগিয়েই দায়িত্ব শেষ করেননি তিনি; স্থানীয় বাসিন্দাদেরও গাছগুলোর পরিচর্যা করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

 

এই উদ্যোগে খুশি এলাকাবাসী। তাদের মতে, কয়েক মাস পর গাছগুলোতে ফুল ফুটলে পুরো গ্রাম সুগন্ধে ভরে উঠবে। পাশাপাশি গ্রামের সৌন্দর্যও বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

 

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “ফুলগাছ চুরির ঘটনার এমন ইতিবাচক জবাব খুব কমই দেখা যায়। একজন মানুষের ব্যক্তিগত ক্ষতি থেকে পুরো গ্রামের জন্য একটি সুন্দর উদ্যোগ তৈরি হয়েছে। এটি সত্যিই প্রশংসনীয়।”

 

হাওলাদার শামীম আহমেদ বলেন, “আমি মনে করেছি, যে ব্যক্তি গাছগুলো চুরি করেছে, সে হয়তো ফুল ভালোবাসে। তাই তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করিনি। বরং এমন ব্যবস্থা করেছি যাতে পুরো গ্রামেই ফুলগাছ থাকে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে হয়তো চোরের বাড়িতেও আমার লাগানো গাছ পৌঁছে গেছে। সে যদি বিষয়টি দেখে অনুতপ্ত হয় এবং ভবিষ্যতে আর এমন কাজ না করে, সেটাই হবে আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

 

তিনি আরও বলেন, “আমার লক্ষ্য শুধু চোরকে শিক্ষা দেওয়া নয়, পুরো গ্রামকে সবুজ ও সুন্দর করে তোলা। ভবিষ্যতে সদরপুর উপজেলার প্রতিটি গ্রামে ফুল ও ঔষধি গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে, মানুষের মধ্যে সবুজায়নের আগ্রহ বাড়বে এবং গ্রাম হবে আরও সুন্দর।”

 

হাওলাদার শামীম আহমেদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকের মতে, নেতিবাচক ঘটনার ইতিবাচক সমাধানের এমন উদাহরণ সমাজের অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।