ঢাকা , সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

শ্যামনগরে কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে হিন্দু ছাত্রীকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ের অভিযোগ

পরিতোষ কুমার বৈদ্যঃ

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের বুড়িগোয়ালিনী-গাবুরা (বিজি) কলেজের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে হিন্দু ছাত্রীকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মোঃ মাছুম বিল্লাহ। তিনি বিজি কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সুত্রে জানা গেছে, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের আবাদচণ্ডিপুর বন বিবিতলা গ্রামের একাদশ শ্রেণির প্রথম বর্ষের ছাত্রী ‘রিসা’ (ছদ্মনাম) দীর্ঘদিন ধরে মাছুম বিল্লাহর কাছে প্রাইভেট পড়ত। সেই সুযোগে শিক্ষক বিভিন্ন প্রলোভন দেখান। একপর্যায়ে কৌশলে ওই ছাত্রীকে বিয়ে করেন বলে অভিযোগ।

ভুক্তভোগীর বাবা ‘শীবাশীষ’ (ছদ্মনাম) বলেন, আমি বা আমার পরিবার আগে থেকে কিছু বুঝতে পারিনি। মাছুমের স্ত্রী বিষয়টি জানালে আমরা নিশ্চিত হই। এমন ঘটনায় আমি নিজেই মর্মাহত, মানসম্মান সব শেষ। তাকে ফেরানোর চেষ্টা করছি। বিয়ে হয়েছে কিনা বা ভূক্তভোগী ছাত্রী ধর্মান্তরিত হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুনেছি হয়েছে, তবে এখনো কাগজপত্র হাতে পাইনি। আগে ছাটকাট করে নেই, তারপর আইনি ব্যবস্থা নেব।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ মাছুম বিল্লাহর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে বিজি কলেজ অধ্যক্ষ তপন কুমার রায় বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি বেশ বিব্রত। গত দু’দিন আগে ঐ শিক্ষককের স্ত্রী আমাকে বিষয়টি জানান। একজন শিক্ষক এমন কাজ করলে কি ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয় এমন প্রশ্ন উত্তরে তিনি বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ হিসেবে তাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে বোঝানো হবে। যদি তিনি অমান্য করেন তাহলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, ঘটনাটি আমার অজানা, এধরনের কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শিক্ষককের এমন ঘটনায় হতবাক শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। তাদের দাবি কলেজের পরিবেশ সংকটাপন্ন হওয়ার আগে ঐ শিক্ষককে বহিস্কার করা হোক। নাহলে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি ও পুরাতন শিক্ষার্থী টিকিয়ে রাখা কষ্টকর হবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানোর প্রয়োজন হবে না—এমন শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে -সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

error: Content is protected !!

শ্যামনগরে কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে হিন্দু ছাত্রীকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ের অভিযোগ

আপডেট টাইম : ৯ ঘন্টা আগে
পরিতোষ কুমার বৈদ্য, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি :

পরিতোষ কুমার বৈদ্যঃ

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের বুড়িগোয়ালিনী-গাবুরা (বিজি) কলেজের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে হিন্দু ছাত্রীকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মোঃ মাছুম বিল্লাহ। তিনি বিজি কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সুত্রে জানা গেছে, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের আবাদচণ্ডিপুর বন বিবিতলা গ্রামের একাদশ শ্রেণির প্রথম বর্ষের ছাত্রী ‘রিসা’ (ছদ্মনাম) দীর্ঘদিন ধরে মাছুম বিল্লাহর কাছে প্রাইভেট পড়ত। সেই সুযোগে শিক্ষক বিভিন্ন প্রলোভন দেখান। একপর্যায়ে কৌশলে ওই ছাত্রীকে বিয়ে করেন বলে অভিযোগ।

ভুক্তভোগীর বাবা ‘শীবাশীষ’ (ছদ্মনাম) বলেন, আমি বা আমার পরিবার আগে থেকে কিছু বুঝতে পারিনি। মাছুমের স্ত্রী বিষয়টি জানালে আমরা নিশ্চিত হই। এমন ঘটনায় আমি নিজেই মর্মাহত, মানসম্মান সব শেষ। তাকে ফেরানোর চেষ্টা করছি। বিয়ে হয়েছে কিনা বা ভূক্তভোগী ছাত্রী ধর্মান্তরিত হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুনেছি হয়েছে, তবে এখনো কাগজপত্র হাতে পাইনি। আগে ছাটকাট করে নেই, তারপর আইনি ব্যবস্থা নেব।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ মাছুম বিল্লাহর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে বিজি কলেজ অধ্যক্ষ তপন কুমার রায় বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি বেশ বিব্রত। গত দু’দিন আগে ঐ শিক্ষককের স্ত্রী আমাকে বিষয়টি জানান। একজন শিক্ষক এমন কাজ করলে কি ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয় এমন প্রশ্ন উত্তরে তিনি বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ হিসেবে তাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে বোঝানো হবে। যদি তিনি অমান্য করেন তাহলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, ঘটনাটি আমার অজানা, এধরনের কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শিক্ষককের এমন ঘটনায় হতবাক শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। তাদের দাবি কলেজের পরিবেশ সংকটাপন্ন হওয়ার আগে ঐ শিক্ষককে বহিস্কার করা হোক। নাহলে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি ও পুরাতন শিক্ষার্থী টিকিয়ে রাখা কষ্টকর হবে।