ঢাকা , রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

জালিয়াতির শিকার সেই ৮ পরীক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন এখনো অনিশ্চিত

রাশিদুল ইসলাম রাশেদ:

 

নাটোরের লালপুরে আব্দুলপুর সরকারি কলেজের এইচএসসি-২০২৬ পরীক্ষায় ফরম পূরণের সময় প্রতারণার শিকার আট পরীক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। প্রথম পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় তাদের ফলাফল ও পরবর্তী শিক্ষাজীবন নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

 

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. ইমামুল হক। তিনি বলেন, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) তার মেয়ের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে। কিন্তু কলেজের অফিস সহায়ক অমিত কুমারের জালিয়াতির কারণে তার মেয়ে এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। পরে শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় দ্বিতীয় পরীক্ষা থেকে বাকি পরীক্ষাগুলোতে অংশ নিতে পারলেও প্রথম পরীক্ষার বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

তিনি আরও বলেন, গত সোমবার বিষয়টি জানতে কলেজ অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। এতে প্রতারণার শিকার আট শিক্ষার্থীই উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

 

আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহীর সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলে পরীক্ষার্থীদের জানানো হবে।

 

এ বিষয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ইফফাত জেরিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আপডেট তথ্যের জন্য অপেক্ষা করতে বলেন।

 

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের জন্য একাধিক বিকল্প রয়েছে। তাদের তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে এবং সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক হবে। তাই তাদের দুশ্চিন্তার কারণ নেই।

 

উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের আট শিক্ষার্থী ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় সার্ভার জটিলতায় পড়েন। পরে গত ১২ মার্চ বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণের জন্য কলেজে গেলে গ্রন্থাগারের অফিস সহায়ক অমিত কুমার সরকার তাদের ফরম পূরণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ জন্য তিনি প্রত্যেকের কাছ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা করে নেন। কিন্তু পরে জানা যায়, তাদের কারও ফরমই পূরণ করা হয়নি।

 

ফলে প্রবেশপত্র না থাকায় গত ৩ জুলাই শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রথমপত্রে তারা অংশ নিতে পারেনি। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নজরে আসে। পরে তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী বিশেষ ব্যবস্থায় ইসরাত জাহান সূচি, সবুজ আহমেদ, শিমুল শেখ, আকিবুল ইসলাম, তানভীর হোসেন, শিমুল আলী, সাব্বির হোসেন ও শাওন—এই আট শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করে প্রবেশপত্র দেওয়া হয়।

 

এদিকে, ঘটনাটি তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জেলেনস্কির সাথে বিরোধ, রাশিয়ার ওপর কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা আটকে দিলেন ট্রাম্প

error: Content is protected !!

জালিয়াতির শিকার সেই ৮ পরীক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন এখনো অনিশ্চিত

আপডেট টাইম : ০৭:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
রাশিদুল ইসলাম রাশেদ, লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি :

রাশিদুল ইসলাম রাশেদ:

 

নাটোরের লালপুরে আব্দুলপুর সরকারি কলেজের এইচএসসি-২০২৬ পরীক্ষায় ফরম পূরণের সময় প্রতারণার শিকার আট পরীক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। প্রথম পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় তাদের ফলাফল ও পরবর্তী শিক্ষাজীবন নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

 

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. ইমামুল হক। তিনি বলেন, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) তার মেয়ের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে। কিন্তু কলেজের অফিস সহায়ক অমিত কুমারের জালিয়াতির কারণে তার মেয়ে এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। পরে শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় দ্বিতীয় পরীক্ষা থেকে বাকি পরীক্ষাগুলোতে অংশ নিতে পারলেও প্রথম পরীক্ষার বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

তিনি আরও বলেন, গত সোমবার বিষয়টি জানতে কলেজ অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। এতে প্রতারণার শিকার আট শিক্ষার্থীই উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

 

আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহীর সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলে পরীক্ষার্থীদের জানানো হবে।

 

এ বিষয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ইফফাত জেরিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আপডেট তথ্যের জন্য অপেক্ষা করতে বলেন।

 

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের জন্য একাধিক বিকল্প রয়েছে। তাদের তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে এবং সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক হবে। তাই তাদের দুশ্চিন্তার কারণ নেই।

 

উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের আট শিক্ষার্থী ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় সার্ভার জটিলতায় পড়েন। পরে গত ১২ মার্চ বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণের জন্য কলেজে গেলে গ্রন্থাগারের অফিস সহায়ক অমিত কুমার সরকার তাদের ফরম পূরণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ জন্য তিনি প্রত্যেকের কাছ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা করে নেন। কিন্তু পরে জানা যায়, তাদের কারও ফরমই পূরণ করা হয়নি।

 

ফলে প্রবেশপত্র না থাকায় গত ৩ জুলাই শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রথমপত্রে তারা অংশ নিতে পারেনি। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নজরে আসে। পরে তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী বিশেষ ব্যবস্থায় ইসরাত জাহান সূচি, সবুজ আহমেদ, শিমুল শেখ, আকিবুল ইসলাম, তানভীর হোসেন, শিমুল আলী, সাব্বির হোসেন ও শাওন—এই আট শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করে প্রবেশপত্র দেওয়া হয়।

 

এদিকে, ঘটনাটি তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান।