ঢাকা , রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

তানোরে বিলুপ্তপ্রায় পানি ফল

আলিফ হোসেনঃ

রাজশাহীর তানোরে একটি সময় পানি ফল চাষের সুদিন ছিলো। অনেকে পানি ফল চাষ করে জীবীকা নির্বাহ করতেন। কিন্ত্ত কালের বিবর্তনে সেই পানি ফল এখন বিলুপ্তপ্রায়। মৌসুমি পানি ফল স্থানীয় ভাষায় ‘পানি সিঙ্গারা’ নামে পরিচিত। এক দশক আগেও এই ফল চাষ করে কিছুটা হলেও অনেক প্রান্তিক চাষির পরিবারের মধ্যে সচ্ছলতা ফিরেছিল। এক সময়র তানোর-বায়া, তানোর-আমনুরা,তানোর-চৌবাড়িয়াসহ বিভিন্ন রাস্তার ধারে নয়নজুলির জলাবদ্ধ পানিতে ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সরকারি খাসপুকুর-জলাশয়ে পানি ফলের গাছ দেখা যেতো।এছাড়াও তানোরের সীমান্তবর্তী সংলগ্ন মোহনপুর উপজেলার ডুবির বিল,মালির বিল ও বহালা এলাকায় পানি ফল দেখা যেতো। কিন্ত্ত এসব রাস্তার ধারের নয়নজুলি ভরাট ও খাসপুকুর-জলাশয় ইজারা দেয়ায় সেখানে আর পানি ফল গাছের জন্ম হয় না।

 

জানা গেছে,তানোরে এক দশক আগেও কালীগঞ্জ, কামারগাঁ, বাতাসপুর,মান্দার বাঁকাপুর এলাকায় জলাবদ্ধ পতিত জমিতে শোভা পেতো পানি ফলের গাছ।প্রতিদিন ভোরে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা যাত্রীবাহী বাস, ভ্যানগাড়ি, ইজিবাইকের মাধ্যমে বস্তায় ভরে এই পানিফল বিক্রির জন্য উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যেতেন। মোহনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কামরুল ইসলাম জানান, পানি ফল একটি বর্ষজীবী জলজ উদ্ভিদ। পানি ফলের পুষ্টিরমান অনেক বেশি।

 

উপজেলার পতিত জমিতে এই পানি ফলের চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। পানি ফল চাষে কম খরচে বেশী লাভ হয়। প্রতি বছর বোরো ধান কাটার পর, জলাবদ্ধ পতিত জমি, পানি জমে থাকা ডোবাসহ খাল-বিলে এই ফলের লতা রোপণ করা হয় (জমে থাকা পানিতে)। তিনি বলেন, তিন থেকে সাড়ে তিন মাসের মধ্যে গাছে ফল আসে। এ ফল চাষে সার-কীটনাশকের তেমন প্রয়োজন হয় না।

 

এদিকে তানোরের সীমান্তবর্তী মান্দার ভারশো ইউপির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পানি ফল চাষি বলেন, চৌবাড়িয়া-দেলুয়াবাড়ি রাস্তার ধারের নয়নজুলি ও আন্ধারসুরা-বিলউৎরাইল বিলে পানি ফল চাষ করতেন।কিন্ত্ত নয়নজুলি ভরাট ও বিলগুলো মাছ চাষীদের কাছে ইজারা দেয়ায় তারা আর পানি ফল চাষ করতে পারছেন না।

 

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও আর্থিক সহযোগিতার পাশাপাশি পানি ফল উৎদানের উৎসগুলো আগের অবস্থায় ফেরানো সম্ভব হলে,এলাকার অনেক প্রান্তিক কৃষক পানিফল চাষের সুযোগ পাবেন। ফলে একদিকে নিজেরা যেমন স্বাবলম্বী হতে পারবেন, ঠিক তেমনই গ্রামীণ অর্থনীতিতেও অবদান রাখা সম্ভব হবে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা(এসএএও) বলেন,বর্তমানে পানিফল কৃষিতে নতুন এক সম্ভাবনাময় ফসল। আমাদের কৃষি বিভাগ সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে পানিফল চাষের বিস্তার ঘটাতে। যেকোনো পতিত পুকুর, ডোবা অথবা জলাশয়ে পানিফল চাষ করা সম্ভব। তুলনামূলক এর উৎপাদন খরচ কম।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জালিয়াতির শিকার সেই ৮ পরীক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন এখনো অনিশ্চিত

error: Content is protected !!

তানোরে বিলুপ্তপ্রায় পানি ফল

আপডেট টাইম : ০১:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি :

আলিফ হোসেনঃ

রাজশাহীর তানোরে একটি সময় পানি ফল চাষের সুদিন ছিলো। অনেকে পানি ফল চাষ করে জীবীকা নির্বাহ করতেন। কিন্ত্ত কালের বিবর্তনে সেই পানি ফল এখন বিলুপ্তপ্রায়। মৌসুমি পানি ফল স্থানীয় ভাষায় ‘পানি সিঙ্গারা’ নামে পরিচিত। এক দশক আগেও এই ফল চাষ করে কিছুটা হলেও অনেক প্রান্তিক চাষির পরিবারের মধ্যে সচ্ছলতা ফিরেছিল। এক সময়র তানোর-বায়া, তানোর-আমনুরা,তানোর-চৌবাড়িয়াসহ বিভিন্ন রাস্তার ধারে নয়নজুলির জলাবদ্ধ পানিতে ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সরকারি খাসপুকুর-জলাশয়ে পানি ফলের গাছ দেখা যেতো।এছাড়াও তানোরের সীমান্তবর্তী সংলগ্ন মোহনপুর উপজেলার ডুবির বিল,মালির বিল ও বহালা এলাকায় পানি ফল দেখা যেতো। কিন্ত্ত এসব রাস্তার ধারের নয়নজুলি ভরাট ও খাসপুকুর-জলাশয় ইজারা দেয়ায় সেখানে আর পানি ফল গাছের জন্ম হয় না।

 

জানা গেছে,তানোরে এক দশক আগেও কালীগঞ্জ, কামারগাঁ, বাতাসপুর,মান্দার বাঁকাপুর এলাকায় জলাবদ্ধ পতিত জমিতে শোভা পেতো পানি ফলের গাছ।প্রতিদিন ভোরে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা যাত্রীবাহী বাস, ভ্যানগাড়ি, ইজিবাইকের মাধ্যমে বস্তায় ভরে এই পানিফল বিক্রির জন্য উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যেতেন। মোহনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কামরুল ইসলাম জানান, পানি ফল একটি বর্ষজীবী জলজ উদ্ভিদ। পানি ফলের পুষ্টিরমান অনেক বেশি।

 

উপজেলার পতিত জমিতে এই পানি ফলের চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। পানি ফল চাষে কম খরচে বেশী লাভ হয়। প্রতি বছর বোরো ধান কাটার পর, জলাবদ্ধ পতিত জমি, পানি জমে থাকা ডোবাসহ খাল-বিলে এই ফলের লতা রোপণ করা হয় (জমে থাকা পানিতে)। তিনি বলেন, তিন থেকে সাড়ে তিন মাসের মধ্যে গাছে ফল আসে। এ ফল চাষে সার-কীটনাশকের তেমন প্রয়োজন হয় না।

 

এদিকে তানোরের সীমান্তবর্তী মান্দার ভারশো ইউপির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পানি ফল চাষি বলেন, চৌবাড়িয়া-দেলুয়াবাড়ি রাস্তার ধারের নয়নজুলি ও আন্ধারসুরা-বিলউৎরাইল বিলে পানি ফল চাষ করতেন।কিন্ত্ত নয়নজুলি ভরাট ও বিলগুলো মাছ চাষীদের কাছে ইজারা দেয়ায় তারা আর পানি ফল চাষ করতে পারছেন না।

 

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও আর্থিক সহযোগিতার পাশাপাশি পানি ফল উৎদানের উৎসগুলো আগের অবস্থায় ফেরানো সম্ভব হলে,এলাকার অনেক প্রান্তিক কৃষক পানিফল চাষের সুযোগ পাবেন। ফলে একদিকে নিজেরা যেমন স্বাবলম্বী হতে পারবেন, ঠিক তেমনই গ্রামীণ অর্থনীতিতেও অবদান রাখা সম্ভব হবে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা(এসএএও) বলেন,বর্তমানে পানিফল কৃষিতে নতুন এক সম্ভাবনাময় ফসল। আমাদের কৃষি বিভাগ সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে পানিফল চাষের বিস্তার ঘটাতে। যেকোনো পতিত পুকুর, ডোবা অথবা জলাশয়ে পানিফল চাষ করা সম্ভব। তুলনামূলক এর উৎপাদন খরচ কম।