ঢাকা , রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

ফরিদপুরে কিশোরীকে অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে এলাকাসীর মানববন্ধন

নুরুল ইসলামঃ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় ১৫ বছরের এক কিশোরীকে বসতঘরের জানালা ভেঙে অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত সকল আসামির দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী।

রোববার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাড়ির পাশের একটি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন রাস্তায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ প্রায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ওই বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শাখাওয়াত হোসেন বলেন, কিশোরীর ওপর যে বর্বরোচিত অত্যাচার চালোনো হয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা জুলহাস সরদার বলেন, এই এলাকায় হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়া যায়। এই ঘটনার পিছনেও মাদকের প্রভাব আছে। এই বর্বরোচিত ঘটনায় জড়িত সবাই ইয়াবা-গাজার নেশায় আসক্ত। ঘটনার পর ১০ দিন পার হয়ে গেলেও পুলিশ মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

বিদ্যালয়ের সভাপতি বাচ্চু মিয়া অবিলম্বে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বলেন, আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আজ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। এই সমাজকে অপরাধমুক্ত করতে এবং ভুক্তভোগী পরিবারটিকে ন্যায়বিচার দিতে দ্রুত পলাতক আসামিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

ফরিদপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার আল সুমন বলেন, মাদকের ভয়াল থাবা ও নৈতিক অবক্ষয়ের কারণেই আজ ১৫ বছরের একটি কিশোরীকে নিজ ঘর থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে এমন বর্বরোচিত অপরাধ করার সাহস পাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। ধর্ষক ও অপরাধীদের কোনো সামাজিক পরিচয় থাকতে পারে না, তারা সমাজের শত্রু। অবিলম্বে পলাতক প্রধান আসামিসহ সকলকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।

ভাষাণচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কাউসার সংহতি জানিয়ে বলেন, আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে এবং এলাকার মানুষের ক্ষোভ প্রশমনে অবিলম্বে সব আসামিকে গ্রেপ্তার করা জরুরি। আমরা প্রশাসনের কাছে কঠোর পদক্ষেপের জোর দাবি জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, গত ৩০ জুলাই (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাতে ভাষাণচর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত গভীর রাতে জোরপূর্বক বসতবাড়ির জানালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। তারা ওই কিশোরীকে অপহরণ করে পাশের একটি গ্রামের পুকুরপাড়ে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে ফেলে রেখে যায়।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন—৩ নম্বর আসামি হেলাল মৃধা (২১), ৪ নম্বর আসামি রনি বেপারী (১৮) এবং ৬ নম্বর আসামি রহিত শিকদার (১৫)। তবে তাদের কাউকেই পুলিশের অভিযানে ধরা সম্ভব হয়নি; স্থানীয় জনতাই তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

অন্যদিকে মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি মনির খাঁ (২৫), ২ নম্বর আসামি মিঠুন সরদার (২০), ইমন (২০) ও সোহাগ (২২) ঘটনার ১০দিন পার হলেও এখনও অধরা রয়েছে। সদরপুর থানা পুলিশ পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ্ বলেন, আমরা অপরাধীদের ধরতে কাজ করছি। আশা করছি দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করতে পারব।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ঝিনাইদহে সারের ডিলারশিপ নিয়ে দুর্নীতির প্রতিবাদে জামায়াতের মানববন্ধন

error: Content is protected !!

ফরিদপুরে কিশোরীকে অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

আপডেট টাইম : ০৩:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
নুরুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিনিধি :

নুরুল ইসলামঃ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় ১৫ বছরের এক কিশোরীকে বসতঘরের জানালা ভেঙে অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত সকল আসামির দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী।

রোববার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাড়ির পাশের একটি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন রাস্তায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ প্রায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ওই বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শাখাওয়াত হোসেন বলেন, কিশোরীর ওপর যে বর্বরোচিত অত্যাচার চালোনো হয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা জুলহাস সরদার বলেন, এই এলাকায় হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়া যায়। এই ঘটনার পিছনেও মাদকের প্রভাব আছে। এই বর্বরোচিত ঘটনায় জড়িত সবাই ইয়াবা-গাজার নেশায় আসক্ত। ঘটনার পর ১০ দিন পার হয়ে গেলেও পুলিশ মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

বিদ্যালয়ের সভাপতি বাচ্চু মিয়া অবিলম্বে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বলেন, আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আজ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। এই সমাজকে অপরাধমুক্ত করতে এবং ভুক্তভোগী পরিবারটিকে ন্যায়বিচার দিতে দ্রুত পলাতক আসামিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

ফরিদপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার আল সুমন বলেন, মাদকের ভয়াল থাবা ও নৈতিক অবক্ষয়ের কারণেই আজ ১৫ বছরের একটি কিশোরীকে নিজ ঘর থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে এমন বর্বরোচিত অপরাধ করার সাহস পাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। ধর্ষক ও অপরাধীদের কোনো সামাজিক পরিচয় থাকতে পারে না, তারা সমাজের শত্রু। অবিলম্বে পলাতক প্রধান আসামিসহ সকলকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।

ভাষাণচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কাউসার সংহতি জানিয়ে বলেন, আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে এবং এলাকার মানুষের ক্ষোভ প্রশমনে অবিলম্বে সব আসামিকে গ্রেপ্তার করা জরুরি। আমরা প্রশাসনের কাছে কঠোর পদক্ষেপের জোর দাবি জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, গত ৩০ জুলাই (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাতে ভাষাণচর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত গভীর রাতে জোরপূর্বক বসতবাড়ির জানালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। তারা ওই কিশোরীকে অপহরণ করে পাশের একটি গ্রামের পুকুরপাড়ে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে ফেলে রেখে যায়।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন—৩ নম্বর আসামি হেলাল মৃধা (২১), ৪ নম্বর আসামি রনি বেপারী (১৮) এবং ৬ নম্বর আসামি রহিত শিকদার (১৫)। তবে তাদের কাউকেই পুলিশের অভিযানে ধরা সম্ভব হয়নি; স্থানীয় জনতাই তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

অন্যদিকে মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি মনির খাঁ (২৫), ২ নম্বর আসামি মিঠুন সরদার (২০), ইমন (২০) ও সোহাগ (২২) ঘটনার ১০দিন পার হলেও এখনও অধরা রয়েছে। সদরপুর থানা পুলিশ পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ্ বলেন, আমরা অপরাধীদের ধরতে কাজ করছি। আশা করছি দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করতে পারব।