আব্দুল হামিদ মিঞা:
দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা, ইতোপূর্বে গোলযোগ হয়েছে কিনা, প্রভাবশালী ব্যক্তির বাড়ি, রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী, অফিস, সীমানা প্রাচীর অথবা অপরাধ করে দ্রুত সটকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে—এসব বিবেচনায় নিয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের তালিকা করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংস্থাগুলো।
রাজশাহী–৬ (বাঘা–চারঘাট) আসনে ১১৯টি ভোটকেন্দ্রের তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪২টিকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে পুলিশ। ভোটকেন্দ্রভিত্তিক ঝুঁকি পর্যালোচনা-বিষয়ক এক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।
জানা গেছে, বাঘা–চারঘাট নিয়ে গঠিত রাজশাহী–৬ আসনের বাঘা উপজেলায় ২টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়ন মিলে ৬১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ২৪টি কেন্দ্র অধিক গুরুত্বপূর্ণ। উপজেলা থেকে সবচেয়ে দূরের দুর্গম চর এলাকার ইউনিয়ন চকরাজাপুর। এ কারণে ইউনিয়নটির ৯টি কেন্দ্রের সব কয়টিই অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ভারতের সীমান্তঘেঁষা এই ইউনিয়নের আতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটিও অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত।
চারঘাটে ১টি পৌরসভা ও ৬টি ইউনিয়ন মিলে মোট ৫৮টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি কেন্দ্র অধিক গুরুত্বপূর্ণ। নিমপাড়া ইউনিয়নে ১১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮টিই অধিক গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত ইউসুফপুর ইউনিয়নের সবকয়টি কেন্দ্র।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচন ঘিরে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মাঠ প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আগাম প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ভোটকেন্দ্র ও ভোটের সরঞ্জামের নিরাপত্তায় থাকবে আলাদা নজরদারি। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। ভোটের ক্ষেত্রে হুমকি হতে পারে—এমন ব্যক্তিদের নজরে রাখতে এবং আইনের আওতায় আনতে পুলিশসহ দায়িত্বপ্রাপ্তদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজাতে ভোটকেন্দ্রগুলোকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ—এই তিন ভাগে ভাগ করা হয়। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।
বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী আক্তার বলেন, এবারের ভোট সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে কেন্দ্রভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিত করে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যা আগে কখনও হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে—কেন্দ্রভিত্তিক প্রিসাইডিং অফিসারের নিরাপত্তায় একজন অস্ত্রধারী আনসার, ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ, ভোটকেন্দ্রে ক্যামেরা সংযোজন এবং পুলিশের শরীরে ‘বডি ক্যামেরা’ সংযোজন।
সহকারী পুলিশ সুপার (বাঘা–চারঘাট সার্কেল) খালেদ হোসেন জানান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন হবে সে ধারণা পাওয়ার জন্য কয়েক মাস আগে থানার ওসি সরেজমিন পরিদর্শন করে তালিকা তৈরি করেন। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বেশি হলেও দুশ্চিন্তার কিছু নেই। পুলিশ ও আনসারের সঙ্গে বিজিবি সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি 
আব্দুল হামিদ মিঞা, বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি 





















