বাদশাহ মিয়া:
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে আদম ব্যবসায়ী ফরিদুল ইসলামের খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে একটি অসহায় পরিবার। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রকিবুল ইসলাম বাদী হয়ে মুকসুদপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার লোহাচুরা গ্রামের রবিউল শেখের ছেলে রকিবুল ইসলাম বিদেশে গিয়ে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বচ্ছল জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখেন। এ উদ্দেশ্যে একই গ্রামের ব্যাপারীপাড়ার সিরাজুল ইসলামের ছেলে ও আদম ব্যবসায়ী ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। পরে রকিবুল তার শ্বশুর লিয়াকত হোসেন শেখের সঙ্গে আলোচনা করে ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে মৌখিক চুক্তিতে আবদ্ধ হন।
অভিযোগে বলা হয়, ১৮ লাখ টাকার বিনিময়ে লিথুনিয়ায় পাঠিয়ে ভালো চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রস্তাবে রাজি হন রকিবুল। চুক্তি অনুযায়ী গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে ইসলামী ব্যাংক পিএলসির এজেন্ট ব্যাংকিং ‘মাস গ্লোবাল সার্ভিস অ্যান্ড কনসাল্টেন্সি’র হিসাব নম্বর ২০৫০২০৬০১০০৪৭৩১১০-এ ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ৪ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে আরও ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং একই সময়ে বিভিন্ন লেনদেনের মাধ্যমে আরও অর্থ প্রদান করা হয়। এছাড়া ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে লোহাচুরা গ্রামের লিয়াকত হোসেন শেখের বাড়িতে বসে ফরিদুল ইসলাম নগদ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা গ্রহণ করেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, বিভিন্ন ধাপে ফরিদুল ইসলাম তার কাছ থেকে মোট ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, টাকা গ্রহণের পর থেকে ফরিদুল ইসলাম বিদেশ পাঠানোর বিষয়ে বারবার সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হলে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি টাকা ফেরত না দিয়ে নানা অজুহাত দেখাচ্ছেন।
রকিবুল ইসলামের অভিযোগ, ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো গালিগালাজ করেন এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
এদিকে বিদেশে যাওয়ার আশায় ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয় করেও গন্তব্যে যেতে না পেরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন রকিবুল ও তার পরিবার।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার মাধ্যমে এজেন্সির কাছে ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে, এটি সত্য। বিভিন্ন কারণে বিদেশে পাঠানো সম্ভব হয়নি। তবে টাকা ফেরত দেওয়া হবে। এজেন্সি সময় নিয়েছে, তারা টাকা পরিশোধ করবে।”
মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, অভিযোগের বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি 
বাদশাহ মিয়া, মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি 



















