বোয়ালমারী (ফরিদপুর) সংবাদদাতাঃ
বোয়ালমারী উপজেলার ̧গুনবহা ইউনিয়নের আলহাজ্ব মজিবর রহমান আমিন রেনীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে এলাকার স্বনামধন ব্যক্তিত্ব মোঃ মফিজুর রহমানকে দেখতে চান এলাকাবাসী সহ শিক্ষার্থীদের সিংহভাগ অভিভাবকরা।
তারা মনে করেন, মোঃ মফিজুর রহমান স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত আলহাজ্ব মজিবর রহমান আমিনের সুযোগ্য উত্তরসূরী। তিনি উচ্চ শিক্ষিত, পেশায় একজন কলেজ শিক্ষক এবং সার্বক্ষণিক এলাকায় থাকেন। যে কারণে তার বাবা আলহাজ্ব মজিবর রহমান আমিনের গড়া দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাফেজিয়া মাদরাসাটি সবসময় কাছ থেকে দেখভাল করার সুযোগ পান এবং সেভাবেই তিনি প্রতিষ্ঠান দুটি দেখভাল করে আসছেন।
তাছাড়া পৈত্রিক সত্ব ছাড়াও নিজের ব্যাক্তিগত সম্পদ থেকে বিদ্যালয়ের নামে ৮ শতাংশ জমি দান করেছেন তিনি। বর্তমান জমিদাতাদের মধ্যে মোঃ মফিজুর রহমানই সবচেয়ে বেশি জমি দা কারী ব্যাক্তি। তাই বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে মোঃ মফিজুর রহমানকেই সর্বাধিক যোগ মনে করছেন তারা।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, আলহাজ্ব মজিবর রহমান আমিনের সুযোগ্য উত্তরসূরী হয়েও প্রতিষ্ঠান দুটির কোন পদ-পদবীতে না থেকেও সেগুলোর সর্বাত্নক সহযোগিতা করে আসছেন মোঃ মফিজুর রহমান।
অথচ এলাকার একটি সুবিধালোভী মহল বিশেষ স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশে গাজীপুরে বসবাসরত আলহাজ্ব মজিবর রহমান আমিনের অপর পুত্র মোঃ দেলোয়ার হোসেনকে বিদ্যালয়টির সভাপতি বানানোর জন্য তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে। মোঃ দেলোয়ার হোসেন আগেও বিদ্যালয়টির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
কিন্তু এলাকায় না থাকায় তার আমলে বিদ্যালয়ের সার্বিক কর্মকান্ড চরমভাবে ব্যহত হয়। এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করে না এমন সব বিতর্কিত ব্যক্তিকে নতুন করে দায়িত্ব দেওয়া মানে পরিকল্পিত ভাবেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সর্বনাশ ডেকে আনা। এলাকাবাসী মনে করেন, যিনি এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন এমন সব ব্যক্তিকেই বিদ্যালয়টির দায়িত্ব দেয়া উচিত।
নাম প্রকাশ না করার সত্ত্বে একাধিক অভিভাবক বলেন, গাজীপুরে বসবাসরত মোঃ দেলোয়ার হোসেন
বিদ্যালয়টির সভাপতি হলে আবার বিদ্যালয়টি ধ্বংসের মুখে পড়বে। তারা আরো বলেন এলাকার কিছু স্বার্থন্বেষী
মানুষ আছে যারা মোঃ দেলোয়ার হোসেনকে সভাপতি বানালে তার অনুপস্থিতিতে সুযোগ-সুবিধা নিতে
পারবে।
সমঝোতা বৈঠকের বিষয়ে তারা বলেন, ০৭ জুন ২০২৬ইং তারিখের সমঝোতা বৈঠকের সিদ্ধান্তের কপি
ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট
আবেদন জমা দিয়েছি।
আলহাজ্ব মজিবর রহমান আমিনের বড় পুত্র এইচ এম মাহবুবুর রহমান বলেন, বাবার ওয়ারিশ সূত্রে আমরা
সাতজন জমি দাতা, কিন্তু আমার ছোট ভাই মোঃ মফিজুর রহমান ৮ শতাংশ জমি নিজে দান করেছে। সে ক্ষেত্রে
মোঃ মফিজুর রহমান আমাদের চেয়ে ৮ শতাংশ জমির অতিরি৩ জমিদাতা।
জানতে চাইলে এইচ এম মাহবুবুর রহমান বলেন, আমাকে ছয়জন জমিদাতা সমর্থন করলে আমি সদস্য হওয়ার ইচ্ছুক ছিলাম। কিন্তু এখন আর তা সম্ভব নয়। মোঃ মফিজুর রহমান একজন কলেজ শিক্ষক সে জমিদাতা সদস্য হলে বিদ্যালয়টির জন্য ভালো হবে।
কারণ সে সব সময় প্রতিষ্ঠানটিকে দেখভাল করতে পারবে। আমার ছোট ভাই মোঃ দেলোয়ার হোসেন পূর্বে সভাপতি ছিলো। দূর থেকে সবকিছু ঠিকমতো দেখভাল করা যায় না। আমীন মোঃ সেকেন্দার আলী বলেন, যেহেতু বিদ্যালয়টি নিয়ে দুই ভাই মোঃ দেলোয়ার হোসেন ও মোঃ মফিজুর রহমানের মধ্যে ঝামেলা রয়েছে। এজন্য আমি এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।
গুণবহা ইউনিয়নের ০২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ কবির হোসেন দুলাল বলেন, আমি প্রটোকলে
প্রতিষ্ঠানটির সদস্য হয়েছি। যখন যে মেম্বার হবে তখন সেই সদস্য থাকবেন।
ম্যানেজিং কমিটি গঠনের লক্ষ্যে ০৭ জুন ২০২৬ ইং তারিখে এলাকার গণ্য -মান্য ব্যক্তি বর্গ ও অভিভাবকগণের উপস্থিতিতে সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সমঝোতা বৈঠকে ইউপি সদস্য অভিভাবক সদস্য বিদুৎসাহী সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত সদস্যের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয় যা উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জাহিদুল ইসলাম স্বহস্তে লিপিবদ্ধ করেন। আমি এই এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে এই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন চাই।
প্রধান শিক্ষক মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, মোঃ দেলোয়ার হোসেন ও সোঃ মফিজুর রহমান দুই ভাই। যেই
হোক আমার কোন সমস্যা নেই। আমি সরকারি চাকুরী করি, আজ এ বিদ্যালয়ে আছি কাল হয়তো অন্য বিদ্যালয়ে যাব। এ নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যাথা নেই।
সমঝোতা বৈঠকের বিষয়ে তিনি বলেন, সমঝোতা বৈঠকের সিদ্ধান্ত আমি লিপিবদ্ধ করলেও সেখানে আমার স্বাক্ষর বা সীল নেই এবং সেটা ছিল খসড়া সিদ্ধান্ত।
মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ০৭ জুন ২০২৬ ইং তারিখে সমঝোতা বৈঠকে ০৭ জন দাতার মধ্যে ০৩ জন
দাতা উপিস্থিত ছিলেন। আমি আগে সভাপতি ছিলাম এখনও এলাকার লোক বলছেন আমি থাকলে ভাল হয়।
শুনেছি আমার ছোট ভাই মোঃ মফিজুর রহমানও নাকি কাগজপত্র জমা দিয়েছে এবং শিক্ষা অফিস ও ইউএনও
মহোদয়ের সঙ্গে দেখা করেছে। আমি সভাপতি থাকাকালীন বিদ্যালয়ের অনেক উন্নয়ন হয়েছে।
আপনি নাকি এলাকার ভোটার না সে ক্ষেত্রে আপনার মতামত কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, যখন প্রয়োজন হয় তখন ভোটার ট্রান্সফার করে নিয়ে আসবো।
মোঃ মফিজুর রহমান বলেন, ০৭ জুন ২০২৬ইং তারিখের সমঝোতা বৈঠকে আমি একজন অভিভাবক হিসেবে
উপিস্থিত ছিলাম। সমঝোতা বৈঠকে আপোষের ভিত্তিতে অভিভাবক সদস্য বিদ্যুৎসাহী সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত
সদস্য ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয় যা অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জাহিদুল ইসলাম স্বহস্তে লিপিবদ্ধ করেন।
যেহেতু এই সিদ্ধান্ত মোতাবেক অভিভাবক সদস্যগণ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন, সেহেতু একজন
সচেতন অভিভাবক হিসেবে আমি সমঝোতা বৈঠকের সকল সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করি।
জমিদাতা সদ্স্য প্রসঙ্গে মোঃ মফিজুর রহমান বলেন, অত্র বিদ্যালয়ের সরাসরি জমিদাতা দুইজন। আমাদের
পিতা আলহাজ্ব মজিবর রহমান আমিন ও আমি নিজে। সমঝোতা বৈঠকে ০৭ জন দাতার মধ্যে মাত্র ০৩ জন
দাতা উপিস্থিত থাকায় দাতা সদস্যের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। যেহেতু আমি বিদ্যালয়ের সরাসরি
জমিদাতা, অধিকাংশ জমিদাতা আমাকে সমর্থন করেছেন এবং আমি এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করি, সেহেতু
আমিই জমিদাতা সদস্য হওয়ার প্রকৃত দাবিদার।

সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত 
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) সংবাদদাতা 




















