আব্দুল হামিদ মিঞা:
কোথাও পাওয়া যাচ্ছে, কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। আবার পাওয়া গেলেও পাম্প বাদে নির্দিষ্ট দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল। সদর এলাকার তুলনায় মফস্বল এলাকার দোকানে সুযোগ বুঝে ২০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রির খবর পাওয়া গেছে। তবে ভ্রাম্যমান আদালতের ভয়ে কেউ কেউ কেনা দামের চেয়ে ১০ টাকা লোকসান দিয়ে পেট্রোল বিক্রি করেছেন।
কেউ আবার ভ্রাম্যমান আদালতের খবর পেয়ে বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে বেশি বিপাকে পড়েছেন তারা, যারা গ্রামের দোকান থেকে প্রতিদিন হাফ লিটার কিংবা ১ লিটার পেট্রোল কিনে মোটরবাইক চালাতেন।
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় একটি মাত্র তেল পাম্প রয়েছে— বাঘা পেট্রোলিয়াম এজেন্সি। রোববার (০৮-০৩-২০২৬) প্রতি লিটার পেট্রোল বিক্রি হয়েছে ১১৬ দশমিক ৯৮ টাকা দামে। দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ও কৃত্রিম সংকট এড়াতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী গাড়ির ধরন অনুযায়ী পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রি করা হচ্ছে। তবে চাহিদা অনুযায়ী তেল দেওয়া হচ্ছে না।
নির্দেশনা অনুযায়ী মোটরসাইকেলে প্রতি বার অকটেন বা পেট্রোল ২ লিটার, প্রাইভেট কারে ১০ লিটার, জিপ/মাইক্রোবাসে ২০-২৫ লিটার এবং ডিজেলচালিত পিকআপ বা লোকাল বাসে ৭০-৮০ লিটার দেওয়া হচ্ছে। দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও কনটেইনার ট্রাকে প্রতি বার ২০০-২২০ লিটার করে দেওয়া হচ্ছে।
গত তিন দিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার খুচরা ব্যবসায়ীরা প্রতি লিটার পেট্রোল ১৩০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করেছেন বলে জানা গেছে। উপজেলার আলাইপুর মহাজনপাড়ার মুদি ব্যবসায়ী মামুন ও আইনাল ১৩৫ থেকে ১৬০ টাকায় পেট্রোল বিক্রি করেছেন। তারা জানান, ডিলারদের কাছ থেকে ১৩০ টাকায় কিনে ওই দামে বিক্রি করেছেন। শনিবার বিনোদপুর বাজারে প্রতি লিটার পেট্রোল ১২৫ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
রোববার (০৮-০৩-২০২৬) মনিগ্রাম বাজারে দুইজন ডিলার প্রতি লিটার পেট্রোল ১৫০ টাকা দামে বিক্রি করছিলেন। খবর পেয়ে এক সংবাদকর্মী ১ লিটার অকটেন নিতে চাইলে দাম রাখা হয় ১২৫ টাকা। ১৫০ টাকা দামে বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, তাদের ব্যবসার বদনাম করতে কেউ হয়তো গুজব ছড়িয়েছে। তবে তেল কিনেছেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে ১৫০ টাকা দামে বিক্রির সত্যতা পাওয়া গেছে।
এর আগে বুধবার বাউসা ইউনিয়নের প্রেমতলি বাজারে আরিফ ও রব্বেলের দোকানে পেট্রোল নিতে যান আলমগীর। তিনি জানান, প্রতি লিটার ২০০ টাকা দাম চাওয়ায় তেল না কিনেই ফিরে আসেন। বিক্রেতারা জানান, তাদের বেশি দামে কিনতে হয়েছে।
পাম্পে তেল নিতে এসেছিলেন বাজুবাঘা এলাকার মোটরসাইকেল চালক আব্দুল হালিম। তিনি বলেন, মোটরসাইকেল কেনার পর বেশিরভাগ সময় নিজ এলাকার মধ্যেই চলাফেরা করেন। যখন প্রতি লিটার পেট্রোল ৮০ টাকা ছিল, তখন থেকেই তিনি হাফ লিটার থেকে ১ লিটারের বেশি তেল কেনেন না। এখন গ্রামের দোকানে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না, আবার কোথাও পাওয়া গেলেও দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে। তাই পাম্পে এসে তেল নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
এদিকে পীরগাছা বারভাগি মোড়ের ব্যবসায়ী শিমুল হোসেন প্রতি লিটার ১৪০ টাকায় কিনে ১৫০ টাকায় বিক্রি করছিলেন। এ সময় একজন সংবাদকর্মী বেশি দামে বিক্রি করতে দেখে ভ্রাম্যমান আদালতের ভয় দেখালে তিনি ১০ টাকা লোকসান দিয়ে ১ লিটার তেল বিক্রি করেন। পরে তিনি তেল বিক্রি বন্ধ করে দেন। অনেকেই জানিয়েছেন, সহজ-সরল ব্যবসায়ীরা ভ্রাম্যমান আদালতের ভয়ে তেল বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন। কারণ বিক্রি করতে হলে তাদের বেশি দামেই কিনতে হচ্ছে।
বাঘা পেট্রোলিয়াম এজেন্সির স্বত্বাধিকারী গোলাম মোস্তফা বলেন, গত মাসে যে পরিমাণ তেল উত্তোলন করা হয়েছে, তার বেশি দেওয়া যাবে না বলে তাদের জানানো হয়েছে। এ কারণে বোতল বা ড্রামে করে কেউ তেল নিতে এলে দেওয়া হচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে, অনেকে মজুত করার উদ্দেশ্যে তেল নিতে আসছেন। চাহিদামতো তেল পেলে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী আক্তার বলেন, বাজার মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে। খুচরা দোকানে বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরেজমিনে প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি 
আব্দুল হামিদ মিঞা, বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি 





















