আব্দুল হামিদ মিঞা:
রাজশাহীর বাঘায় কুকুরে নিয়ে যাওয়া সেন্ডেল খুঁজতে গিয়ে নিখোঁজের ৪৯ দিন পর পাঞ্জাতন সরকার (৭৮) নামের এক ব্যক্তির কঙ্কাল পাওয়া গেছে। নিজ বাড়ির ৩০০ গজ দক্ষিণে মৃত লালকির বাঁশঝাড়ের ভাগাড়ে কঙ্কালটি পড়ে ছিল। তার স্বজনরা গায়ের সুয়েটার ও পাঞ্জাবি দেখে পাঞ্জাতন সরকারকে শনাক্ত করেন।
রোববার (১৮-০১-২৬) দুপুরে বাড়ির পাশের বজলু নামের এক ব্যক্তি কুকুরে নিয়ে যাওয়া একটি সেন্ডেল খুঁজতে গিয়ে কিছু হাড় ও কাপড় দেখতে পান। পরে তিনি পাঞ্জাতনের বড় ছেলে হাফিজুল ইসলামকে খবর দেন।
খবর পেয়ে বাঘা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কঙ্কাল ও কাপড় উদ্ধার করে। পাঞ্জাতন সরকার বাঘা পৌরসভার দক্ষিণ মিলিক বাঘা গ্রামের মৃত জব্বার সরকারের ছেলে।
পাঞ্জাতনের বড় ছেলে হাফিজুল ইসলাম জানান, গত বছরের ডিসেম্বর মাসের ১ তারিখে মাগরিব নামাজের পর তার বাবা নিখোঁজ হন। ঘটনার একদিন পর বাঘা থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করা হয়। তিনি আরও জানান, তার বাবা ওই দিন স্থানীয় মসজিদে আসর ও মাগরিবের নামাজ আদায় করেছিলেন। তবে এশার নামাজের পর থেকে আর তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
হাফিজুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজের প্রায় সাত দিন পর একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে জানানো হয় যে তার বাবা সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন এবং তাকে সিরাজগঞ্জ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে ৮ হাজার টাকা পাঠাতে বলা হয়। পরে তিনি সিরাজগঞ্জ হাসপাতালে গিয়ে কাউকে পাননি। এরপর লাশ ফেরত দেওয়ার কথা বলেও প্রতারকরা দফায় দফায় টাকা নেয়। তিন দফায় মোট ৩৪ হাজার টাকা দেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাঞ্জাতন সরকার তিন বছর আগে স্ট্রোক করেছিলেন। দুই বছর আগে তার স্ত্রী মারা যান। সুস্থ অবস্থায় তিনি কুলি শ্রমিকের সর্দার হিসেবে কাজ করতেন। প্রায় আট বছর আগে সেই কাজ ছেড়ে দিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াতেন। ছেলে-মেয়েরাই তার দেখভাল করতেন।
এ বিষয়ে বাঘা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুপ্রভাত মন্ডল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ কঙ্কাল ও কাপড় উদ্ধার করে। স্বজনরা তা শনাক্ত করেছেন। উদ্ধারকৃত কঙ্কাল ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি 
আব্দুল হামিদ মিঞা, বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি 





















