ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

চাঁদা দাবি ও মারপিট করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

বাঘায় এজাহার নামীয় দুই আসামী গ্রেপ্তার

আব্দুল হামিদ মিঞা:

 

বাঘায় এজাহার নামীয় আসামী সুমন আহমেদ (৩০) ও সাইদুর রহমান (৪০)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সুমন আহমেদ (বাঘা থানার এফআইআর নং-১৫, জিআর নং-৩২/২৬, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বাঘা পৌরসভার চকনারায়নপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। আর সাইদুর রহমান (বাঘা থানার মামলা নং-০৬, তাং-০৪/০৩/২০২৬ ইং) উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের আলাইপুর গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে। বুধবার (০৪-০৩-২০২৬) রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

সুমনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন চকনারায়নপুর গ্রামের মৃত আহাম্মদ আলীর ছেলে আমিনুল ইসলাম খান। তিনি একই উপজেলার সুমনসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অন্য আসামিরা হলেন— নারায়নপুর গ্রামের রতন (৩২), সোহান (৩০), সোহাগ (২৫), রফিজ কশাই (৩৫), মেহেদী (২৫), সজল (২৮), শাওন (২১), বুদু (৪২), শ্রাবন (১৯), ভারা (৩২), রাকিন (৪৫), মোঃ বিরু (৫০), শারিফ (৫২), মোঃ মিঠুন (২৮), বুদু (২৪), মোঃ বাবু (২৭) এবং গাওপাড়া গ্রামের সুরুজ (৩০)।

 

মামলার এজাহারে আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেন, গত ২৫/০২/২০২৬ ইং তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৩০ মিনিটে তিনি বাড়ি থেকে নামাজের উদ্দেশ্যে বের হয়ে বাঘা পৌরসভার মৃত ভবেশ পান্ডের বাড়ির সামনের পাকা রাস্তায় পৌঁছালে আসামিরা লোহার রড, লোহার হাতুড়ি, রাম দা, ছুরি, শায়ণ, ধারালো হাঁসুয়া ইত্যাদি মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনি জনতা গঠন করে তার পথরোধ করে। এ সময় ১নং আসামি তার কাছে ১০,০০,০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে আসামিদের একজন তাকে প্রাণে শেষ করে দেওয়ার হুকুম দেয়।

 

এ সময় রাম দা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে কোপ মারা হলে তার ভাতিজা গালিব (২৭) ও লিখন (২২) ঠেকাতে গেলে আরেক আসামির রাম দা’র কোপে লিখনের বাম হাতের কবজির উপরে গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম হয় এবং গালিবকে লোহার রড দিয়ে এলোপাথাড়িভাবে মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা জখম করা হয়। পরে আরেক ভাতিজা সেতু (২৮) ঘটনাস্থলে এগিয়ে এসে ঠেকাতে গেলে তাকেও লোহার হাতুড়ি দিয়ে মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা জখম করা হয়।

 

এ সময় তার পায়জামার পকেটে থাকা ৭০,০০০/- (সত্তর হাজার) টাকা বের করে নিয়ে যায় আসামিরা। স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে আসলে আসামিরা অস্ত্র প্রদর্শন করে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে নারায়নপুর বাজার প্রদক্ষিণ করে চলে যায়। পরবর্তী সময়ে আসামিরা একত্রিত হয়ে রাত আনুমানিক ৯টা ৪৫ মিনিটে তার বসতবাড়ির সামনে পরপর দুইটি ককটেল নিক্ষেপ করে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ সেরাজুর হক জানান, গ্রেপ্তারকৃত দুজনকে বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

কবরের ফুলগাছ চুরি, পুরো গ্রামে ফুলগাছ লাগিয়ে চোরকে অভিনব জবাব যুবকের

error: Content is protected !!

চাঁদা দাবি ও মারপিট করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

বাঘায় এজাহার নামীয় দুই আসামী গ্রেপ্তার

আপডেট টাইম : ১০:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
আব্দুল হামিদ মিঞা, বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি :

আব্দুল হামিদ মিঞা:

 

বাঘায় এজাহার নামীয় আসামী সুমন আহমেদ (৩০) ও সাইদুর রহমান (৪০)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সুমন আহমেদ (বাঘা থানার এফআইআর নং-১৫, জিআর নং-৩২/২৬, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বাঘা পৌরসভার চকনারায়নপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। আর সাইদুর রহমান (বাঘা থানার মামলা নং-০৬, তাং-০৪/০৩/২০২৬ ইং) উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের আলাইপুর গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে। বুধবার (০৪-০৩-২০২৬) রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

সুমনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন চকনারায়নপুর গ্রামের মৃত আহাম্মদ আলীর ছেলে আমিনুল ইসলাম খান। তিনি একই উপজেলার সুমনসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অন্য আসামিরা হলেন— নারায়নপুর গ্রামের রতন (৩২), সোহান (৩০), সোহাগ (২৫), রফিজ কশাই (৩৫), মেহেদী (২৫), সজল (২৮), শাওন (২১), বুদু (৪২), শ্রাবন (১৯), ভারা (৩২), রাকিন (৪৫), মোঃ বিরু (৫০), শারিফ (৫২), মোঃ মিঠুন (২৮), বুদু (২৪), মোঃ বাবু (২৭) এবং গাওপাড়া গ্রামের সুরুজ (৩০)।

 

মামলার এজাহারে আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেন, গত ২৫/০২/২০২৬ ইং তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৩০ মিনিটে তিনি বাড়ি থেকে নামাজের উদ্দেশ্যে বের হয়ে বাঘা পৌরসভার মৃত ভবেশ পান্ডের বাড়ির সামনের পাকা রাস্তায় পৌঁছালে আসামিরা লোহার রড, লোহার হাতুড়ি, রাম দা, ছুরি, শায়ণ, ধারালো হাঁসুয়া ইত্যাদি মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনি জনতা গঠন করে তার পথরোধ করে। এ সময় ১নং আসামি তার কাছে ১০,০০,০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে আসামিদের একজন তাকে প্রাণে শেষ করে দেওয়ার হুকুম দেয়।

 

এ সময় রাম দা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে কোপ মারা হলে তার ভাতিজা গালিব (২৭) ও লিখন (২২) ঠেকাতে গেলে আরেক আসামির রাম দা’র কোপে লিখনের বাম হাতের কবজির উপরে গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম হয় এবং গালিবকে লোহার রড দিয়ে এলোপাথাড়িভাবে মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা জখম করা হয়। পরে আরেক ভাতিজা সেতু (২৮) ঘটনাস্থলে এগিয়ে এসে ঠেকাতে গেলে তাকেও লোহার হাতুড়ি দিয়ে মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা জখম করা হয়।

 

এ সময় তার পায়জামার পকেটে থাকা ৭০,০০০/- (সত্তর হাজার) টাকা বের করে নিয়ে যায় আসামিরা। স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে আসলে আসামিরা অস্ত্র প্রদর্শন করে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে নারায়নপুর বাজার প্রদক্ষিণ করে চলে যায়। পরবর্তী সময়ে আসামিরা একত্রিত হয়ে রাত আনুমানিক ৯টা ৪৫ মিনিটে তার বসতবাড়ির সামনে পরপর দুইটি ককটেল নিক্ষেপ করে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ সেরাজুর হক জানান, গ্রেপ্তারকৃত দুজনকে বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।