ঢাকা , বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

পীরগঞ্জে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলনঃ রাজনীতিতে উত্তাপ না কি উস্কানি?

জসীমউদ্দীন ইতিঃ

 

দীর্ঘ প্রায় ১৭ মাস (৫ আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী সময়কাল) বন্ধ থাকার পর ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হঠাৎ জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দলটির নেতাকর্মীদের এই ঝটিকা কর্মসূচি এবং পরবর্তীতে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল পীরগঞ্জের শান্ত রাজনৈতিক পরিবেশকে কিছুটা উত্তপ্ত করে তুলেছে।

 

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, পীরগঞ্জ পৌর শহরের লিচুতলা এলাকায় অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কিছু নেতাকর্মী অতর্কিতে প্রবেশ করেন এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে পতাকা উত্তোলন করেন। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকা বা আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীদের এই হঠাৎ উপস্থিতি জনমনে কৌতূহল এবং কিছুটা আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

 

প্রশ্ন উঠছে, এই কর্মসূচি কি কেবলই দলীয় কার্যক্রম শুরুর প্রচেষ্টা, নাকি এটি একটি পরিকল্পিত উস্কানি? গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলোর কার্যক্রম সারাদেশে কার্যত স্থবির হয়ে আছে। অনেক জায়গায় কার্যালয়গুলো তালাবদ্ধ বা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে পীরগঞ্জের এই ঘটনাটি বিরোধী শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। ফলশ্রুতিতে, সন্ধ্যায় ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তোলে।

 

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যেকোনো রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের অধিকার থাকলেও, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এমন কর্মসূচি পালনের আগে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বয় এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি ভাবা জরুরি ছিল। কারণ, এই ধরনের ঝটিকা কর্মসূচি অনেক সময় সহিংস সংঘাতের পথ প্রশস্ত করে দেয়। পীরগঞ্জ একটি শান্ত জনপদ হিসেবে পরিচিত, যেখানে সব দলের মধ্যে এক ধরনের সহাবস্থান দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। রাজনৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াইয়ে সেই শান্তি যেন বিঘ্নিত না হয়, সেদিকে সকল পক্ষের সচেতন থাকা প্রয়োজন।

 

পীরগঞ্জ থানা পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন পরিস্থিতিকে বড় ধরনের সংঘাত থেকে রক্ষা করেছে। তবে প্রশাসনকে আরও সতর্ক থাকতে হবে যাতে কোনো পক্ষই আইন হাতে তুলে নিতে না পারে। রাজনীতির মাঠ যেন পেশীশক্তির লড়াইয়ে পরিণত না হয়ে সুস্থ ধারার রাজনৈতিক চর্চায় ফিরে আসে, এটাই পীরগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা।

 

পরিশেষে বলা যায়, রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচিতে জনস্বার্থ এবং সামাজিক স্থিতিশীলতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। পীরগঞ্জের এই ঘটনা যেন কোনো বড় অস্থিতিশীলতার সূত্রপাত না হয়, সেজন্য প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের দায়িত্বশীল ভূমিকা একান্ত কাম্য।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মুকসুদপুরে যুবদলের প্রতিবাদ মিছিল

error: Content is protected !!

পীরগঞ্জে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলনঃ রাজনীতিতে উত্তাপ না কি উস্কানি?

আপডেট টাইম : ০৫:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
জসীমউদ্দীন ইতি, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি :

জসীমউদ্দীন ইতিঃ

 

দীর্ঘ প্রায় ১৭ মাস (৫ আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী সময়কাল) বন্ধ থাকার পর ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হঠাৎ জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দলটির নেতাকর্মীদের এই ঝটিকা কর্মসূচি এবং পরবর্তীতে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল পীরগঞ্জের শান্ত রাজনৈতিক পরিবেশকে কিছুটা উত্তপ্ত করে তুলেছে।

 

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, পীরগঞ্জ পৌর শহরের লিচুতলা এলাকায় অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কিছু নেতাকর্মী অতর্কিতে প্রবেশ করেন এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে পতাকা উত্তোলন করেন। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকা বা আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীদের এই হঠাৎ উপস্থিতি জনমনে কৌতূহল এবং কিছুটা আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

 

প্রশ্ন উঠছে, এই কর্মসূচি কি কেবলই দলীয় কার্যক্রম শুরুর প্রচেষ্টা, নাকি এটি একটি পরিকল্পিত উস্কানি? গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলোর কার্যক্রম সারাদেশে কার্যত স্থবির হয়ে আছে। অনেক জায়গায় কার্যালয়গুলো তালাবদ্ধ বা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে পীরগঞ্জের এই ঘটনাটি বিরোধী শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। ফলশ্রুতিতে, সন্ধ্যায় ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তোলে।

 

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যেকোনো রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের অধিকার থাকলেও, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এমন কর্মসূচি পালনের আগে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বয় এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি ভাবা জরুরি ছিল। কারণ, এই ধরনের ঝটিকা কর্মসূচি অনেক সময় সহিংস সংঘাতের পথ প্রশস্ত করে দেয়। পীরগঞ্জ একটি শান্ত জনপদ হিসেবে পরিচিত, যেখানে সব দলের মধ্যে এক ধরনের সহাবস্থান দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। রাজনৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াইয়ে সেই শান্তি যেন বিঘ্নিত না হয়, সেদিকে সকল পক্ষের সচেতন থাকা প্রয়োজন।

 

পীরগঞ্জ থানা পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন পরিস্থিতিকে বড় ধরনের সংঘাত থেকে রক্ষা করেছে। তবে প্রশাসনকে আরও সতর্ক থাকতে হবে যাতে কোনো পক্ষই আইন হাতে তুলে নিতে না পারে। রাজনীতির মাঠ যেন পেশীশক্তির লড়াইয়ে পরিণত না হয়ে সুস্থ ধারার রাজনৈতিক চর্চায় ফিরে আসে, এটাই পীরগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা।

 

পরিশেষে বলা যায়, রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচিতে জনস্বার্থ এবং সামাজিক স্থিতিশীলতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। পীরগঞ্জের এই ঘটনা যেন কোনো বড় অস্থিতিশীলতার সূত্রপাত না হয়, সেজন্য প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের দায়িত্বশীল ভূমিকা একান্ত কাম্য।