ঢাকা , সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

নাচোল স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছুটি ছাড়াই ১৬ দিন অনুপস্থিত

আলিফ হোসেন:

রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নাচোল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক বাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ছুটি ব্যতিত ১৬ দিন যাবত অনুপস্থিত থাকায় ওই স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে।

 

কিন্তু অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ বা সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক ভুমিকায় অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগী সচেতন মহলে চরম ক্ষোভ-অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

 

স্কুলের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক বাইরুল ইসলাম গত জুলাই মাসে একটানা প্রায় ১৫ দিন নৈমিত্তিক ছুটিতে ছিলেন। এরপর নীতিমালা লঙ্ঘন ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে আগস্ট মাসের ১ তারিখ থেকে ১৬ তারিখ পর্যন্ত তিনি ছুটি ছাড়াই কাউকে দায়িত্ব না দিয়েই অনুপস্থিত রয়েছেন। ফলে স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় মুখ থুবড়ে পড়েছে।

 

জানা গেছে, ইতিপূর্বে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাইরুল ইসলামের স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি-অনিয়মের প্রতিবাদ ও তার অপসারণের দাবিতে স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র, অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগী সচেতন মহল মানববন্ধন এবং জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। এমনকি ওই স্কুলের সকল শিক্ষক কর্মবিরতি ও মানববন্ধন করেন। সর্বশেষ স্কুলের শিক্ষার্থীরা (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষকের অপসারণ ও শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে স্কুলের সভাপতি ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন। কিন্তু স্কুলের সভাপতি ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রহস্যজনক কারণে এখনো অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

 

স্থানীয় অভিভাবক নজরুল ইসলাম, আব্দুল কাদের ও আব্দুস সালাম বলেন, “দুর্নীতিবাজ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে অপসারণ করা না হলে তারা তাদের সন্তানদের এখানে লেখাপড়া করাবেন না।”

 

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দুলাল উদ্দিন খান জানান, “স্কুলের সভাপতিই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন, তার কিছু করার নেই।”

 

এ বিষয়ে স্কুলের সভাপতি দুরুল হোদা জানান, “তিনি চেষ্টা করছেন, শীঘ্রই সমস্যার সমাধান করবেন।”

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক বাইরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “তিনি ও তার মা গুরুতরভাবে অসুস্থ। তিনি ছুটি নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সভাপতির ইন্ধনে একটি কুচক্রী মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।”

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

e-Paper-29.06.2026

error: Content is protected !!

নাচোল স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছুটি ছাড়াই ১৬ দিন অনুপস্থিত

আপডেট টাইম : ১০:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫
আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি :

আলিফ হোসেন:

রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নাচোল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক বাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ছুটি ব্যতিত ১৬ দিন যাবত অনুপস্থিত থাকায় ওই স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে।

 

কিন্তু অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ বা সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক ভুমিকায় অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগী সচেতন মহলে চরম ক্ষোভ-অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

 

স্কুলের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক বাইরুল ইসলাম গত জুলাই মাসে একটানা প্রায় ১৫ দিন নৈমিত্তিক ছুটিতে ছিলেন। এরপর নীতিমালা লঙ্ঘন ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে আগস্ট মাসের ১ তারিখ থেকে ১৬ তারিখ পর্যন্ত তিনি ছুটি ছাড়াই কাউকে দায়িত্ব না দিয়েই অনুপস্থিত রয়েছেন। ফলে স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় মুখ থুবড়ে পড়েছে।

 

জানা গেছে, ইতিপূর্বে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাইরুল ইসলামের স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি-অনিয়মের প্রতিবাদ ও তার অপসারণের দাবিতে স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র, অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগী সচেতন মহল মানববন্ধন এবং জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। এমনকি ওই স্কুলের সকল শিক্ষক কর্মবিরতি ও মানববন্ধন করেন। সর্বশেষ স্কুলের শিক্ষার্থীরা (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষকের অপসারণ ও শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে স্কুলের সভাপতি ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন। কিন্তু স্কুলের সভাপতি ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রহস্যজনক কারণে এখনো অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

 

স্থানীয় অভিভাবক নজরুল ইসলাম, আব্দুল কাদের ও আব্দুস সালাম বলেন, “দুর্নীতিবাজ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে অপসারণ করা না হলে তারা তাদের সন্তানদের এখানে লেখাপড়া করাবেন না।”

 

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দুলাল উদ্দিন খান জানান, “স্কুলের সভাপতিই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন, তার কিছু করার নেই।”

 

এ বিষয়ে স্কুলের সভাপতি দুরুল হোদা জানান, “তিনি চেষ্টা করছেন, শীঘ্রই সমস্যার সমাধান করবেন।”

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক বাইরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “তিনি ও তার মা গুরুতরভাবে অসুস্থ। তিনি ছুটি নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সভাপতির ইন্ধনে একটি কুচক্রী মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।”