ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

নাচোলে এতিমের ১ বিঘা ধানক্ষেত বিষ দিয়ে ধ্বংস, দিশেহারা এতিম ইসরাফিল

সুমন আলীঃ

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে পূর্ব শত্রুতার জেরে ইসরাফিল ইসলাম নামে এক অসহায় কৃষকের প্রায় ১ বিঘা জমির ধানক্ষেত ঘাসমারা বিষ (কীটনাশক) দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে নাচোল উপজেলার কসবা বিজলীপাড়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি জানাজানি হয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কসবা গ্রামের মৃত শরিফুল ইসলামের ছেলে ইসরাফিল ইসলাম অনেক কষ্ট করে তার ১ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছিলেন। ধানের গাছগুলো এখন বেশ সতেজ ও বেড়ে উঠছিল। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে জমিতে গিয়ে ইসরাফিল দেখেন, তার পুরো সবুজ ধানক্ষেত হঠাৎ তামাটে বর্ণ ধারণ করে পুড়ে গেছে। অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা রাতের আঁধারে ঘাসপোড়ানো কীটনাশক ছিটিয়ে ফসলটি নষ্ট করে দিয়েছে।

 

বাবা হারানো ইসরাফিল তার পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে অতি কষ্টে সংসার চালানো এই যুবক নিজের শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

 

অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বলেন,”আমি কোনোদিন কারও ক্ষতি করিনি, তাহলে মানুষ কেন আমার এমন ক্ষতি করল? আমি খুব গরীব মানুষ, বাবা নেই। মা আর ছোট ভাইকে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন পার করছি। এই ধানগুলোই ছিল আমাদের বেঁচে থাকার সম্বল। এখন আমি কী নিয়ে বাঁচব? কি খেয়ে থাকবো?

 

এক বিঘা জমির ফসল এভাবে নষ্ট করার ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইসরাফিল অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের ছেলে। একজন এতিম ও অসহায় কৃষকের সাথে এমন শত্রুতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত করে অপরাধীদের খুঁজে বের করার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে নাচোল থানার পুলিশ অফিসার ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) এম,এস,নুরুল কাদির সৈকত বলেন- অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিবো।

 

কৃষকের ফসল নষ্ট হওয়া মানে কেবল একটি স্বপ্ন ভঙ্গ নয়, বরং একটি পরিবারের অন্ন সংস্থান বন্ধ হয়ে যাওয়া। এলাকাবাসী মনে করছেন, এই জঘন্য অপরাধের বিচার না হলে ভবিষ্যতে অন্য কৃষকরাও এমন প্রতিহিংসার শিকার হতে পারেন। এ বিষয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

কবরের ফুলগাছ চুরি, পুরো গ্রামে ফুলগাছ লাগিয়ে চোরকে অভিনব জবাব যুবকের

error: Content is protected !!

নাচোলে এতিমের ১ বিঘা ধানক্ষেত বিষ দিয়ে ধ্বংস, দিশেহারা এতিম ইসরাফিল

আপডেট টাইম : ১২:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
সুমন আলী, নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি :

সুমন আলীঃ

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে পূর্ব শত্রুতার জেরে ইসরাফিল ইসলাম নামে এক অসহায় কৃষকের প্রায় ১ বিঘা জমির ধানক্ষেত ঘাসমারা বিষ (কীটনাশক) দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে নাচোল উপজেলার কসবা বিজলীপাড়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি জানাজানি হয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কসবা গ্রামের মৃত শরিফুল ইসলামের ছেলে ইসরাফিল ইসলাম অনেক কষ্ট করে তার ১ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছিলেন। ধানের গাছগুলো এখন বেশ সতেজ ও বেড়ে উঠছিল। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে জমিতে গিয়ে ইসরাফিল দেখেন, তার পুরো সবুজ ধানক্ষেত হঠাৎ তামাটে বর্ণ ধারণ করে পুড়ে গেছে। অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা রাতের আঁধারে ঘাসপোড়ানো কীটনাশক ছিটিয়ে ফসলটি নষ্ট করে দিয়েছে।

 

বাবা হারানো ইসরাফিল তার পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে অতি কষ্টে সংসার চালানো এই যুবক নিজের শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

 

অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বলেন,”আমি কোনোদিন কারও ক্ষতি করিনি, তাহলে মানুষ কেন আমার এমন ক্ষতি করল? আমি খুব গরীব মানুষ, বাবা নেই। মা আর ছোট ভাইকে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন পার করছি। এই ধানগুলোই ছিল আমাদের বেঁচে থাকার সম্বল। এখন আমি কী নিয়ে বাঁচব? কি খেয়ে থাকবো?

 

এক বিঘা জমির ফসল এভাবে নষ্ট করার ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইসরাফিল অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের ছেলে। একজন এতিম ও অসহায় কৃষকের সাথে এমন শত্রুতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত করে অপরাধীদের খুঁজে বের করার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে নাচোল থানার পুলিশ অফিসার ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) এম,এস,নুরুল কাদির সৈকত বলেন- অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিবো।

 

কৃষকের ফসল নষ্ট হওয়া মানে কেবল একটি স্বপ্ন ভঙ্গ নয়, বরং একটি পরিবারের অন্ন সংস্থান বন্ধ হয়ে যাওয়া। এলাকাবাসী মনে করছেন, এই জঘন্য অপরাধের বিচার না হলে ভবিষ্যতে অন্য কৃষকরাও এমন প্রতিহিংসার শিকার হতে পারেন। এ বিষয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।