ঢাকা , বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

নলডাঙ্গায় কীটনাশক মুক্ত বেগুন চাষে সাফল্য

মোঃ সাইফুল ইসলামঃ

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিষমুক্ত বেগুন চাষে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ সবুজ আলীর পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানে মশারির আদলে বিশেষ নেট ব্যবহার করে কীটনাশক ছাড়াই বেগুন চাষে সফলতা পেয়েছেন স্থানীয় সবজি চাষি মোঃ শহিদুল ইসলাম । এতে উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি ফলন বেড়েছে দ্বিগুণ, যা কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

সোমবার (২২ জুন) সকালে উপজেলার ঠাকুর লক্ষীকুল (সোনার মোড়) এলাকার সবজি চাষি মোঃ শহিদুল ইসলামের ১১ শতক জমিতে স্থাপিত পরীক্ষামূলক বেগুনের জমি পরিদর্শনকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ সবুজ আলী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, উপজেলায় প্রথমবারের মতো কৃষক মোঃ শহিদুল ইসলামকে মশারির আদলে নেট ব্যবহার করে কীটনাশকমুক্ত বেগুন চাষের পরামর্শ দেওয়া হয়। এই পদ্ধতিতে প্রচলিত চাষাবাদের তুলনায় উৎপাদন খরচ ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে এবং ফলনও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একবার নেট স্থাপন করলে তা পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ব্যবহার করা সম্ভব। এছাড়া প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাবও বেগুন গাছে খুব একটা পড়ছে না।

তিনি আরও বলেন, নিরাপদ ও বিষমুক্ত হওয়ায় এই বেগুনের বাজার চাহিদা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি। বিষয়টি দেখে উপজেলার অনেক কৃষক আগ্রহ প্রকাশ করছেন এবং কৃষি অফিসে এসে পরামর্শ নিচ্ছেন। সকল সবজি চাষে এই পদ্ধতি পরিক্ষামূলক ভাবে ব্যবহার করা হবে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারাও মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করছেন।

কৃষক মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি মূলত বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে থাকেন। অতিরিক্ত শ্রম, খরচ ও কীটনাশক ব্যবহারের ঝামেলার কারণে একসময় বেগুন চাষ থেকে সরে এসেছিলেন। পরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে পরীক্ষামূলকভাবে নেট পদ্ধতিতে বেগুন চাষ শুরু করেন। এতে উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি ফলন ও লাভ দুটোই বেড়েছে। বাজারে এই বেগুনের চাহিদা ও মূল্যও তুলনামূলক বেশি। তিনি ভবিষ্যতে অন্যান্য সবজি চাষেও এ পদ্ধতি অনুসরণের পরিকল্পনার কথা জানান।

স্থানীয় কৃষক ও বেগুনের আড়ৎদাররা জানান, বিষমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় এই বেগুনের স্বাদ ভালো এবং বাজারে এর চাহিদাও অনেক বেশি। তারা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের স্বার্থে নেট পদ্ধতিতে সবজি চাষ সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।

এই পদ্ধতি ব্যাবহারে নলডাঙ্গায় নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মাগুরায় জেলা ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত

error: Content is protected !!

নলডাঙ্গায় কীটনাশক মুক্ত বেগুন চাষে সাফল্য

আপডেট টাইম : ০২:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
মোঃ সাইফুল ইসলাম, নাটোর জেলা প্রতিনিধি :

মোঃ সাইফুল ইসলামঃ

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিষমুক্ত বেগুন চাষে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ সবুজ আলীর পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানে মশারির আদলে বিশেষ নেট ব্যবহার করে কীটনাশক ছাড়াই বেগুন চাষে সফলতা পেয়েছেন স্থানীয় সবজি চাষি মোঃ শহিদুল ইসলাম । এতে উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি ফলন বেড়েছে দ্বিগুণ, যা কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

সোমবার (২২ জুন) সকালে উপজেলার ঠাকুর লক্ষীকুল (সোনার মোড়) এলাকার সবজি চাষি মোঃ শহিদুল ইসলামের ১১ শতক জমিতে স্থাপিত পরীক্ষামূলক বেগুনের জমি পরিদর্শনকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ সবুজ আলী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, উপজেলায় প্রথমবারের মতো কৃষক মোঃ শহিদুল ইসলামকে মশারির আদলে নেট ব্যবহার করে কীটনাশকমুক্ত বেগুন চাষের পরামর্শ দেওয়া হয়। এই পদ্ধতিতে প্রচলিত চাষাবাদের তুলনায় উৎপাদন খরচ ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে এবং ফলনও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একবার নেট স্থাপন করলে তা পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ব্যবহার করা সম্ভব। এছাড়া প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাবও বেগুন গাছে খুব একটা পড়ছে না।

তিনি আরও বলেন, নিরাপদ ও বিষমুক্ত হওয়ায় এই বেগুনের বাজার চাহিদা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি। বিষয়টি দেখে উপজেলার অনেক কৃষক আগ্রহ প্রকাশ করছেন এবং কৃষি অফিসে এসে পরামর্শ নিচ্ছেন। সকল সবজি চাষে এই পদ্ধতি পরিক্ষামূলক ভাবে ব্যবহার করা হবে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারাও মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করছেন।

কৃষক মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি মূলত বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে থাকেন। অতিরিক্ত শ্রম, খরচ ও কীটনাশক ব্যবহারের ঝামেলার কারণে একসময় বেগুন চাষ থেকে সরে এসেছিলেন। পরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে পরীক্ষামূলকভাবে নেট পদ্ধতিতে বেগুন চাষ শুরু করেন। এতে উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি ফলন ও লাভ দুটোই বেড়েছে। বাজারে এই বেগুনের চাহিদা ও মূল্যও তুলনামূলক বেশি। তিনি ভবিষ্যতে অন্যান্য সবজি চাষেও এ পদ্ধতি অনুসরণের পরিকল্পনার কথা জানান।

স্থানীয় কৃষক ও বেগুনের আড়ৎদাররা জানান, বিষমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় এই বেগুনের স্বাদ ভালো এবং বাজারে এর চাহিদাও অনেক বেশি। তারা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের স্বার্থে নেট পদ্ধতিতে সবজি চাষ সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।

এই পদ্ধতি ব্যাবহারে নলডাঙ্গায় নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।