ঢাকা , বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের সংকট, চরম ভোগান্তিতে চালকরা

আসাদুর রহমান হাবিবঃ

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের সংকটের বড় প্রভাব দেখা গেছে। পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চালকরা। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা।

 

চালকরা জানান, দেশের বাজারে তেল সংকটের আশঙ্কার কথা শোনার পর থেকেই গত এক সপ্তাহ ধরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এক থেকে দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও তেল মিললেও ১০০ টাকার বেশি দেওয়া হচ্ছে না, যা তাদের প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।

 

চালকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফুলবাড়ীতে ৭টি ফিলিং স্টেশন থাকা সত্ত্বেও তেল সংকটের সুযোগ নিয়ে কয়েকটি স্টেশন পুরোপুরি তেল দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এতে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

 

তারা আরও বলেন, জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে বারবার বলা হচ্ছে দেশে তেলের কোনো সংকট নেই। কিন্তু বাস্তবে তারা প্রয়োজন অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না। তাদের ধারণা, ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট এর পেছনে কাজ করছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে কত পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, তেল আছে কি নেই, কেন তেল দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে—এসব বিষয়ে প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

 

অন্যদিকে, গ্রামাঞ্চলের কিছু খোলা দোকানে লিটারপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি দামে তেল বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। ভুক্তভোগীরা প্রশ্ন তুলেছেন, এসব দোকানে তেল আসছে কোথা থেকে। তারা মনে করেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণেই কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।

 

এ বিষয়ে কয়েকটি ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, চাহিদার তুলনায় তেল কম পাওয়া যাচ্ছে। যে পরিমাণ তেল পাওয়া যাচ্ছে, সংকটের কারণে তা সীমিত আকারে দেওয়া হচ্ছে—মোটরসাইকেলে ১০০ টাকা এবং প্রাইভেট কারে ৫০০ টাকার তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে গত শুক্রবার থেকে কোনো জ্বালানি তেল সরবরাহ না পাওয়ায় অনেক স্টেশন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

 

ফুলবাড়ীতে মোট ৭টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে ৫টিতেই সব ধরনের জ্বালানি তেলের সংকটে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে সাধারণ যানবাহন চালকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না হলে যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চালকরা।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মুকসুদপুরে যুবদলের প্রতিবাদ মিছিল

error: Content is protected !!

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের সংকট, চরম ভোগান্তিতে চালকরা

আপডেট টাইম : ০৯:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
আসাদুর রহমান হাবিব, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :

আসাদুর রহমান হাবিবঃ

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের সংকটের বড় প্রভাব দেখা গেছে। পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চালকরা। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা।

 

চালকরা জানান, দেশের বাজারে তেল সংকটের আশঙ্কার কথা শোনার পর থেকেই গত এক সপ্তাহ ধরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এক থেকে দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও তেল মিললেও ১০০ টাকার বেশি দেওয়া হচ্ছে না, যা তাদের প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।

 

চালকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফুলবাড়ীতে ৭টি ফিলিং স্টেশন থাকা সত্ত্বেও তেল সংকটের সুযোগ নিয়ে কয়েকটি স্টেশন পুরোপুরি তেল দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এতে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

 

তারা আরও বলেন, জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে বারবার বলা হচ্ছে দেশে তেলের কোনো সংকট নেই। কিন্তু বাস্তবে তারা প্রয়োজন অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না। তাদের ধারণা, ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট এর পেছনে কাজ করছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে কত পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, তেল আছে কি নেই, কেন তেল দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে—এসব বিষয়ে প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

 

অন্যদিকে, গ্রামাঞ্চলের কিছু খোলা দোকানে লিটারপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি দামে তেল বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। ভুক্তভোগীরা প্রশ্ন তুলেছেন, এসব দোকানে তেল আসছে কোথা থেকে। তারা মনে করেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণেই কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।

 

এ বিষয়ে কয়েকটি ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, চাহিদার তুলনায় তেল কম পাওয়া যাচ্ছে। যে পরিমাণ তেল পাওয়া যাচ্ছে, সংকটের কারণে তা সীমিত আকারে দেওয়া হচ্ছে—মোটরসাইকেলে ১০০ টাকা এবং প্রাইভেট কারে ৫০০ টাকার তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে গত শুক্রবার থেকে কোনো জ্বালানি তেল সরবরাহ না পাওয়ায় অনেক স্টেশন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

 

ফুলবাড়ীতে মোট ৭টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে ৫টিতেই সব ধরনের জ্বালানি তেলের সংকটে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে সাধারণ যানবাহন চালকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না হলে যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চালকরা।