ঢাকা , সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

তানোরে বিদেশি ফলের দোকানে ক্রেতা সংকট

আলিফ হোসেনঃ

 

রাজশাহীর তানোর উপজেলা সদরসহ প্রত্যন্ত পল্লীর বিভিন্ন হাট বাজার সয়লাব হয়ে আছে বিদেশি ফলে। কিন্ত্ত ক্রেতা সংকটে ফল ব্যবসায়ীরা হতাশ। উপজেলার অলিগলির ফলের দোকানে হরহামেশাই পাওয়া যাচ্ছে বিদেশি ফল। তবে দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে তীব্র অসন্তোষ। ব্যবসায়ীরা বলছে,আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি, ডলারের উচ্চমূল্য এবং সরবরাহ হ্রাসের কারণে বাজারে বিদেশি ফলের দাম অস্বাভাবিকভাবে চড়া।

 

শুক্রবার সরেজমিন দেখা যায়, গোল্লাপাড়া বাজারের ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে বিভিন্ন রঙিন বিদেশি ফল থরে থরে সাজানো। গাঢ় লাল আপেল, চকচকে সবুজ আঙুর কিংবা বড় সাইজের মাল্টা সবই সুন্দর করে গুছিয়ে রাখা। কিন্তু বিক্রেতাদের এই সাজানো আয়োজনের সামনে ক্রেতাদের হাঁকডাক কিংবা ভিড় একেবারেই নেই বললেই চলে। বিক্রেতারা অলস সময় পার করছেন, আর ফলের দিকে একপলক তাকিয়ে দাম শুনেই হাঁটা দিচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।এতে কাক্ষিত ক্রেতা পাচ্ছে না দোকানিরা।

 

বর্তমানে খুচরা বাজারে আপেল ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, কাঠ বাদাম ১৫০০ টাকা,চেরি ফল ৬০০ টাকা,মাল্টা ও কমলা ৩০০-৩৫০ টাকা এবং আঙুর প্রতি কেজি ৫০০ থেকে ৫৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ড্রাগন কেজি প্রতি ১৫০ টাকা, খেজুর ৬০০-২০০০ টাকা, নাকফল প্রতি কেজি ৪৫০ টাকা, স্ট্রবেরি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা, ডালিম মানভেদে ৪০০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতা টুটুল বলেন, ৩০০ টাকার নিচে এখন কোনো ফল নেই। গত কয়েক মাস ধরে ফলের দাম বাড়ছে। যৌক্তিক-অযৌক্তিক পরিস্থিতি যাই হোক, ফলের দাম অস্বাভাবিক বাড়বে, এটা এখন স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে গেছে।

 

বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুস সালাম আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বাসায় ছোট বাচ্চা আর বয়স্ক বাবা-মা আছেন, তাদের জন্য ফল কেনা দরকার। কিন্তু বাজারে যে আগুন দাম ! এখন আর কেজি মেপে কেনার সাধ্য নেই। দুটি আপেল আর তিনটি মাল্টা গুণে গুণে কিনে নিয়ে যাচ্ছি। এদিকে বিক্রেতাদের মধ্যেও রয়েছে অভিযোগ।ফল ব্যবসায়ী অনিল বলেন, ফল সাজিয়ে রাখি ঠিকই, কিন্তু কেনার মানুষ নাই। আগে দিনে অন্তত চার-পাঁচ কার্টন (ঝুড়ি) ফল বেচতাম, এখন একটা শেষ করতেই হিমশিম খাইতে হয়। যে দামে পাইকারি কিনতে হয়; তাতে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আরেক বিক্রেতা রহিদুল বলেন, সারাদিন বসে থাকি: ক্রেতা সংখ্যা খুবই কম। মানুষের হাতের নাগালে থাকলে সবাই ফল কিনতে পারতো। তাহলে আমাদের ব্যবসাটাও ভালো হতো।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানোর প্রয়োজন হবে না—এমন শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে -সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

error: Content is protected !!

তানোরে বিদেশি ফলের দোকানে ক্রেতা সংকট

আপডেট টাইম : ২২ ঘন্টা আগে
আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি :

আলিফ হোসেনঃ

 

রাজশাহীর তানোর উপজেলা সদরসহ প্রত্যন্ত পল্লীর বিভিন্ন হাট বাজার সয়লাব হয়ে আছে বিদেশি ফলে। কিন্ত্ত ক্রেতা সংকটে ফল ব্যবসায়ীরা হতাশ। উপজেলার অলিগলির ফলের দোকানে হরহামেশাই পাওয়া যাচ্ছে বিদেশি ফল। তবে দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে তীব্র অসন্তোষ। ব্যবসায়ীরা বলছে,আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি, ডলারের উচ্চমূল্য এবং সরবরাহ হ্রাসের কারণে বাজারে বিদেশি ফলের দাম অস্বাভাবিকভাবে চড়া।

 

শুক্রবার সরেজমিন দেখা যায়, গোল্লাপাড়া বাজারের ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে বিভিন্ন রঙিন বিদেশি ফল থরে থরে সাজানো। গাঢ় লাল আপেল, চকচকে সবুজ আঙুর কিংবা বড় সাইজের মাল্টা সবই সুন্দর করে গুছিয়ে রাখা। কিন্তু বিক্রেতাদের এই সাজানো আয়োজনের সামনে ক্রেতাদের হাঁকডাক কিংবা ভিড় একেবারেই নেই বললেই চলে। বিক্রেতারা অলস সময় পার করছেন, আর ফলের দিকে একপলক তাকিয়ে দাম শুনেই হাঁটা দিচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।এতে কাক্ষিত ক্রেতা পাচ্ছে না দোকানিরা।

 

বর্তমানে খুচরা বাজারে আপেল ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, কাঠ বাদাম ১৫০০ টাকা,চেরি ফল ৬০০ টাকা,মাল্টা ও কমলা ৩০০-৩৫০ টাকা এবং আঙুর প্রতি কেজি ৫০০ থেকে ৫৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ড্রাগন কেজি প্রতি ১৫০ টাকা, খেজুর ৬০০-২০০০ টাকা, নাকফল প্রতি কেজি ৪৫০ টাকা, স্ট্রবেরি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা, ডালিম মানভেদে ৪০০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতা টুটুল বলেন, ৩০০ টাকার নিচে এখন কোনো ফল নেই। গত কয়েক মাস ধরে ফলের দাম বাড়ছে। যৌক্তিক-অযৌক্তিক পরিস্থিতি যাই হোক, ফলের দাম অস্বাভাবিক বাড়বে, এটা এখন স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে গেছে।

 

বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুস সালাম আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বাসায় ছোট বাচ্চা আর বয়স্ক বাবা-মা আছেন, তাদের জন্য ফল কেনা দরকার। কিন্তু বাজারে যে আগুন দাম ! এখন আর কেজি মেপে কেনার সাধ্য নেই। দুটি আপেল আর তিনটি মাল্টা গুণে গুণে কিনে নিয়ে যাচ্ছি। এদিকে বিক্রেতাদের মধ্যেও রয়েছে অভিযোগ।ফল ব্যবসায়ী অনিল বলেন, ফল সাজিয়ে রাখি ঠিকই, কিন্তু কেনার মানুষ নাই। আগে দিনে অন্তত চার-পাঁচ কার্টন (ঝুড়ি) ফল বেচতাম, এখন একটা শেষ করতেই হিমশিম খাইতে হয়। যে দামে পাইকারি কিনতে হয়; তাতে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আরেক বিক্রেতা রহিদুল বলেন, সারাদিন বসে থাকি: ক্রেতা সংখ্যা খুবই কম। মানুষের হাতের নাগালে থাকলে সবাই ফল কিনতে পারতো। তাহলে আমাদের ব্যবসাটাও ভালো হতো।