আলিফ হোসেন:
রাজশাহীতে প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত নির্বাচনকালীন দুই দিনব্যাপী সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা নিয়ে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে মূলধারার সাংবাদিক মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, উঠেছে সমালোচনার ঝড়, বইছে মুখরোচক নানা গুঞ্জন। কেউ কেউ বলছে, একটি রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই তাদের মতাদর্শীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে—যা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও দুঃখজনক ঘটনা।
জানা গেছে, তানোরসহ বিভিন্ন উপজেলার দীর্ঘদিনের কর্মরত ও মূলধারার সাংবাদিকদের উপেক্ষা করে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মতাদর্শী সাংবাদিকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে যাদের সাংবাদিকতা সম্পর্কে বিন্দুমাত্র জ্ঞান নাই, এমন বিতর্কিতরা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেছেন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে মাঠ পর্যায়ে কাজ করা, জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে নিয়মিত সংবাদ পরিবেশনকারী প্রকৃত সাংবাদিকদের বাদ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিবেচনায় প্রশিক্ষণার্থীদের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। এতে পেশাদার সাংবাদিকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও মান উন্নয়নের উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
এদিকে সুশীল সমাজ বলছে, এসব কারণে প্রশিক্ষণ কর্মশালা প্রশ্নবিদ্ধ ও গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। সাংবাদিক সমাজকেও কলঙ্কিত করেছে।
মফস্বলে কর্মরত সাংবাদিকগণ মনে করেন, পিআইবি একটি রাষ্ট্রীয় ও দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান। এখানে প্রশিক্ষণ প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, পেশাগত দক্ষতা সম্পন্ন কর্মরত সাংবাদিকদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা একান্ত জরুরি। কিন্তু বাস্তবে তার ব্যত্যয় ঘটেছে, যা দুঃখজনক ও হতাশাজনক।
এ ধরনের পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে সাংবাদিক সমাজকে কুলষিত ও বিভাজন তৈরি করবে এবং প্রকৃত সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ সংকুচিত করবে।
রাজশাহীর মফস্বলে কর্মরত সাংবাদিক সমাজ অবিলম্বে এ বিষয়ে পিআইবি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুষ্ঠু তদন্ত, স্বচ্ছ মানদণ্ডে প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন এবং ভবিষ্যতে মূলধারার কর্মরত সাংবাদিকদের যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এ ঘটনার তদন্ত করে তা জাতির সামনে প্রকাশ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন। এছাড়াও তথ্য উপদেষ্টার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি 
আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি 





















