ঢাকা , শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

পুলিশের হাতে আটক অভিযুক্ত

আলফাডাঙ্গায় মাদরাসার শিশু শিক্ষার্থীকে গরুর রশিতে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ

মোঃ ইকবাল হোসেন:

 

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় এক মাদরাসা শিক্ষার্থীকে গরুর রশি দিয়ে গরুর সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কাওছার মৃধাকে আটক করেছে পুলিশ।

 

শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফকির তায়জুর রহমান।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলফাডাঙ্গা পৌরসভার নওয়াপাড়া এলাকার মারকাজুল কুরআন মাদরাসার নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী তামিম ইসলাম (১০) বৃহস্পতিবার বিকেলে মাদরাসার সীমানার মধ্যে প্রবেশ করা একটি গরুকে তাড়িয়ে দেয়। এতে গরুর মালিক কাওছার মৃধা ক্ষিপ্ত হয়ে ওই শিশুকে গরুর রশি দিয়ে গরুর সঙ্গে বেঁধে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, পরে গরুটি দৌড় দিলে তামিমের গলায় রশি পেঁচিয়ে যায় এবং সে আহত হয়। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। রশির চাপে তার গলায় দাগ পড়ে যায়।

 

তামিম ইসলামের বাড়ি বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলায়। সে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার নওয়াপাড়া গ্রামে চেরাগ আলীর বাড়িতে থেকে স্থানীয় মাদরাসায় লেখাপড়া করে।

 

ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় কুচিয়াগ্রাম ও নওয়াপাড়া গ্রামের লোকজন বিষয়টি নিয়ে সালিশের উদ্যোগ নিলেও তা সফল হয়নি। পরে অভিযুক্তের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভের প্রস্তুতি নেন স্থানীয় যুবসমাজ। এরই মধ্যে পুলিশ কাওছার মৃধাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

 

স্থানীয় নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোমিনুল ইসলাম সোহাগ বলেন, “এ নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একজন কোমলমতি শিশুর ওপর এমন নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

 

নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও তামিমের আবাসস্থলের গৃহস্বামী চেরাগ আলী বলেন, “তামিম আমার সন্তানের মতো। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

 

মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আসাদুজ্জামান বলেন, “তামিম আমাদের মাদরাসার নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী। ঘটনাটির বিচার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে দেওয়া হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।”

 

অভিযুক্ত কাওছার মৃধার ছোট ভাই বিশ্ব মৃধা বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমি বিস্তারিত জানি না। পুলিশ আমার ভাইকে আটক করেছে। তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হোক।”

 

আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফকির তায়জুর রহমান বলেন, “শিশু নির্যাতনের ঘটনায় কাওছার মৃধা নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি। মামলা হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

হরিপুরে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শন করলেন ইউএনও

error: Content is protected !!

পুলিশের হাতে আটক অভিযুক্ত

আলফাডাঙ্গায় মাদরাসার শিশু শিক্ষার্থীকে গরুর রশিতে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০৪:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
মোঃ ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :

মোঃ ইকবাল হোসেন:

 

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় এক মাদরাসা শিক্ষার্থীকে গরুর রশি দিয়ে গরুর সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কাওছার মৃধাকে আটক করেছে পুলিশ।

 

শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফকির তায়জুর রহমান।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলফাডাঙ্গা পৌরসভার নওয়াপাড়া এলাকার মারকাজুল কুরআন মাদরাসার নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী তামিম ইসলাম (১০) বৃহস্পতিবার বিকেলে মাদরাসার সীমানার মধ্যে প্রবেশ করা একটি গরুকে তাড়িয়ে দেয়। এতে গরুর মালিক কাওছার মৃধা ক্ষিপ্ত হয়ে ওই শিশুকে গরুর রশি দিয়ে গরুর সঙ্গে বেঁধে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, পরে গরুটি দৌড় দিলে তামিমের গলায় রশি পেঁচিয়ে যায় এবং সে আহত হয়। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। রশির চাপে তার গলায় দাগ পড়ে যায়।

 

তামিম ইসলামের বাড়ি বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলায়। সে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার নওয়াপাড়া গ্রামে চেরাগ আলীর বাড়িতে থেকে স্থানীয় মাদরাসায় লেখাপড়া করে।

 

ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় কুচিয়াগ্রাম ও নওয়াপাড়া গ্রামের লোকজন বিষয়টি নিয়ে সালিশের উদ্যোগ নিলেও তা সফল হয়নি। পরে অভিযুক্তের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভের প্রস্তুতি নেন স্থানীয় যুবসমাজ। এরই মধ্যে পুলিশ কাওছার মৃধাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

 

স্থানীয় নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোমিনুল ইসলাম সোহাগ বলেন, “এ নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একজন কোমলমতি শিশুর ওপর এমন নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

 

নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও তামিমের আবাসস্থলের গৃহস্বামী চেরাগ আলী বলেন, “তামিম আমার সন্তানের মতো। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

 

মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আসাদুজ্জামান বলেন, “তামিম আমাদের মাদরাসার নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী। ঘটনাটির বিচার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে দেওয়া হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।”

 

অভিযুক্ত কাওছার মৃধার ছোট ভাই বিশ্ব মৃধা বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমি বিস্তারিত জানি না। পুলিশ আমার ভাইকে আটক করেছে। তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হোক।”

 

আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফকির তায়জুর রহমান বলেন, “শিশু নির্যাতনের ঘটনায় কাওছার মৃধা নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি। মামলা হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”