ঢাকা , বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলনে হুমকিতে কৃষিজমি, নাগরপুরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

এস এম সোহাগ কাজী:

 

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মামুদনগর ইউনিয়নের কলমাইদ গ্রামে ধলেশ্বরী নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। এতে করে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ধলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী কৃষিজমি ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। একই সঙ্গে জনজীবনে নেমে আসতে পারে চরম দুর্ভোগ।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাটুরিয়া উপজেলার রমজান নামের এক ব্যক্তি এই অবৈধ ড্রেজার ব্যবসার মূল হোতা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ধলেশ্বরী নদীর আশপাশের এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছেন বলে জানা গেছে। অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করলেও এখনো প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় একইভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

অভিযোগ রয়েছে, ড্রেজার পরিচালনার জন্য কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন বা বৈধ কাগজপত্র নেই। তবুও রাত-দিন চলে বালু উত্তোলনের কাজ। ফলে নদীর তীরবর্তী কৃষিজমি ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। প্রতিবছরই নতুন নতুন জমি ভাঙনের কবলে পড়ায় ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 

একাধিক কৃষক জানান, “আমাদের আবাদি জমি নদীতে চলে যাচ্ছে। ড্রেজার দিয়ে নদীর পার ঘেঁষে বালু উত্তোলন করার কারণে নদী ভাঙন তীব্র হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে উল্টো নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হতে হয়।”

 

স্থানীয়রা জানান, প্রভাবশালী মহলের কারণে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না।

 

এ বিষয়ে সচেতন মহল বলছে, অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন পরিবেশ ও কৃষি উভয় ক্ষেত্রেই মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পুরো এলাকার ভূ-প্রকৃতি ও মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।

 

এ বিষয়ে নাগরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপ ভৌমিক বলেন, “অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনোভাবেই অবৈধ কার্যক্রম চলতে দেওয়া হবে না।”

 

এলাকাবাসী অবিলম্বে এই অবৈধ ড্রেজার কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মুকসুদপুরে যুবদলের প্রতিবাদ মিছিল

error: Content is protected !!

অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলনে হুমকিতে কৃষিজমি, নাগরপুরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

আপডেট টাইম : ০৭:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
সোলায়মান, নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি :

এস এম সোহাগ কাজী:

 

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মামুদনগর ইউনিয়নের কলমাইদ গ্রামে ধলেশ্বরী নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। এতে করে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ধলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী কৃষিজমি ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। একই সঙ্গে জনজীবনে নেমে আসতে পারে চরম দুর্ভোগ।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাটুরিয়া উপজেলার রমজান নামের এক ব্যক্তি এই অবৈধ ড্রেজার ব্যবসার মূল হোতা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ধলেশ্বরী নদীর আশপাশের এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছেন বলে জানা গেছে। অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করলেও এখনো প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় একইভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

অভিযোগ রয়েছে, ড্রেজার পরিচালনার জন্য কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন বা বৈধ কাগজপত্র নেই। তবুও রাত-দিন চলে বালু উত্তোলনের কাজ। ফলে নদীর তীরবর্তী কৃষিজমি ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। প্রতিবছরই নতুন নতুন জমি ভাঙনের কবলে পড়ায় ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 

একাধিক কৃষক জানান, “আমাদের আবাদি জমি নদীতে চলে যাচ্ছে। ড্রেজার দিয়ে নদীর পার ঘেঁষে বালু উত্তোলন করার কারণে নদী ভাঙন তীব্র হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে উল্টো নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হতে হয়।”

 

স্থানীয়রা জানান, প্রভাবশালী মহলের কারণে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না।

 

এ বিষয়ে সচেতন মহল বলছে, অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন পরিবেশ ও কৃষি উভয় ক্ষেত্রেই মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পুরো এলাকার ভূ-প্রকৃতি ও মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।

 

এ বিষয়ে নাগরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপ ভৌমিক বলেন, “অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনোভাবেই অবৈধ কার্যক্রম চলতে দেওয়া হবে না।”

 

এলাকাবাসী অবিলম্বে এই অবৈধ ড্রেজার কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।