ঢাকা , শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

ফরিদপুরে কোতোয়ালি থানায় সংবাদ সম্মেলন

মা-মেয়ে হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ১

মানিক কুমার দাসঃ

 

ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানায় আজ রবিবার ‌ বেলা একটার ‌ এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ‌। সংবাদ সম্মেলনে ‌ সাংবাদিকদের ‌ বিভিন্ন তথ্য প্রদান করেন ‌‌ ফরিদপুরের অতিরিক্ত ‌ পুলিশ সুপার,(অর্থও প্রশাসন ) ফাতেমা ইসলাম‌ ইন্সপেক্টর মোঃ মোশারফ হোসেন ‌( ডি আই ওয়ান)
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ‌ ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত আব্দুল্লাহ বিশ্বাস। এসময় সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের জানানো হয় জাহানারা বেগম (৩০) রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ এলাকার বাসিন্দা এবং তার শিশু কন্যা সামিয়ার (৫) মরদেহ গত ১৪ মে কোতয়ালী থানাধীন চর মাধবদী ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার একটি পুকুরপাড় সংলগ্ন স্থান থেকে মাটি চাপা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের স্বজন মোঃ লালন মোল্লা কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার পান এসআই (নিঃ) মোঃ আবুল বাশার মোল্লা।

তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ থানার বকারটিলা এলাকা থেকে মোঃ উজ্জ্বল খান (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি জাহানারা বেগম ও তার মেয়ে সামিয়াকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

পুলিশ জানায়, ঢাকার আমিনবাজার এলাকায় একটি ইটভাটায় কাজ করার সময় জাহানারা বেগমের সঙ্গে উজ্জ্বল খানের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রলোভন দিয়ে উজ্জ্বল খান জাহানারাকে ফরিদপুরে ডেকে নেয়।

গত ৪ মার্চ রাতে কোতয়ালী থানার চর মাধবদী ইউনিয়নের কালিতলা এলাকায় একটি নির্জন ছাপড়া ঘরে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে উজ্জ্বল খান প্রথমে জাহানারাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে ঘটনাস্থলে থাকা শিশু সামিয়াকেও গলা টিপে হত্যা করা হয়।

পরে আসামী নিজ বাড়ি থেকে কোদাল এনে ছাপড়া ঘরের পাশে পৃথক গর্ত খুঁড়ে মা-মেয়ের মরদেহ মাটি চাপা দেয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের ব্যবহৃত বোরকা, ওড়না, নেকাব, শিশু সামিয়ার পোশাক, একটি মালা, আসামির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ও কোদাল উদ্ধার করেছে।

মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ সময় ফরিদপুরে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার ‌ সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ‌।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়া পুলিশের সফল অভিযানে অস্ত্র, গুলি ও ম্যাগজিনসহ যুবক আটক

error: Content is protected !!

ফরিদপুরে কোতোয়ালি থানায় সংবাদ সম্মেলন

মা-মেয়ে হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ১

আপডেট টাইম : ০২:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি :

মানিক কুমার দাসঃ

 

ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানায় আজ রবিবার ‌ বেলা একটার ‌ এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ‌। সংবাদ সম্মেলনে ‌ সাংবাদিকদের ‌ বিভিন্ন তথ্য প্রদান করেন ‌‌ ফরিদপুরের অতিরিক্ত ‌ পুলিশ সুপার,(অর্থও প্রশাসন ) ফাতেমা ইসলাম‌ ইন্সপেক্টর মোঃ মোশারফ হোসেন ‌( ডি আই ওয়ান)
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ‌ ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত আব্দুল্লাহ বিশ্বাস। এসময় সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের জানানো হয় জাহানারা বেগম (৩০) রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ এলাকার বাসিন্দা এবং তার শিশু কন্যা সামিয়ার (৫) মরদেহ গত ১৪ মে কোতয়ালী থানাধীন চর মাধবদী ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার একটি পুকুরপাড় সংলগ্ন স্থান থেকে মাটি চাপা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের স্বজন মোঃ লালন মোল্লা কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার পান এসআই (নিঃ) মোঃ আবুল বাশার মোল্লা।

তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ থানার বকারটিলা এলাকা থেকে মোঃ উজ্জ্বল খান (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি জাহানারা বেগম ও তার মেয়ে সামিয়াকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

পুলিশ জানায়, ঢাকার আমিনবাজার এলাকায় একটি ইটভাটায় কাজ করার সময় জাহানারা বেগমের সঙ্গে উজ্জ্বল খানের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রলোভন দিয়ে উজ্জ্বল খান জাহানারাকে ফরিদপুরে ডেকে নেয়।

গত ৪ মার্চ রাতে কোতয়ালী থানার চর মাধবদী ইউনিয়নের কালিতলা এলাকায় একটি নির্জন ছাপড়া ঘরে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে উজ্জ্বল খান প্রথমে জাহানারাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে ঘটনাস্থলে থাকা শিশু সামিয়াকেও গলা টিপে হত্যা করা হয়।

পরে আসামী নিজ বাড়ি থেকে কোদাল এনে ছাপড়া ঘরের পাশে পৃথক গর্ত খুঁড়ে মা-মেয়ের মরদেহ মাটি চাপা দেয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের ব্যবহৃত বোরকা, ওড়না, নেকাব, শিশু সামিয়ার পোশাক, একটি মালা, আসামির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ও কোদাল উদ্ধার করেছে।

মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ সময় ফরিদপুরে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার ‌ সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ‌।