ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

ফি খাতে কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ, নরসিংদী সরকারি কলেজ নিয়ে জনমনে প্রশ্নঃ নীরব কর্তৃপক্ষ

আলম মৃধাঃ

 

নরসিংদী সরকারি কলেজে বিভিন্ন ফি খাতে আদায়কৃত অর্থের ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে কলেজের প্রফেসর মোশতাক আহমেদের বিরুদ্ধে। কলেজের ব্যবস্থাপনা, বিবিধ, ছাত্র সংসদ, চিকিৎসা, অত্যাবশ্যকীয় কর্মচারী, পরিবহন ও উন্নয়ন—এই সাতটি খাত থেকে প্রতি বছর প্রায় ৩ কোটি ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা আদায় করা হলেও এর সঠিক হিসাব-নিকাশ পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

 

একাধিক সূত্রে জানা যায়, উল্লিখিত সাতটি খাত থেকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হলেও সেই অর্থ সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যয় করা হয় না। অভিযোগ রয়েছে, গত চার বছরে এসব খাত থেকে আদায়কৃত প্রায় ১২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এসব অর্থের সুনির্দিষ্ট হিসাব কলেজের কোনো রেকর্ডে পাওয়া যাচ্ছে না বলেও দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা।

 

এ ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোশতাক আহামেদ ভূঁইয়া ও হিসাবরক্ষক আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকা ও জাতীয় দৈনিকে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

 

অভিযোগকারীরা দাবি করেন, অধ্যক্ষের ভাই আওয়ামী লীগের আমলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় সেই প্রভাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

 

তবে এত অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশের পরও এখনো পর্যন্ত অধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজ নিজ পদে বহাল রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও কোনো কার্যকর তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

এ বিষয়ে জানতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-এর মহাপরিচালক প্রফেসর ড. এহতেশামুল হকের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

পরবর্তীতে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিব অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দীন আল মাহমুদ সোহেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনিও ফোন রিসিভ করেননি।

 

এদিকে কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, ফি বাবদ নেওয়া অর্থের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ এবং অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাঘায় বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্যানিটারি প্যাড ভেন্ডিং মেশিন উদ্বোধন, মেয়েদের লজ্জা কাটাতে

error: Content is protected !!

ফি খাতে কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ, নরসিংদী সরকারি কলেজ নিয়ে জনমনে প্রশ্নঃ নীরব কর্তৃপক্ষ

আপডেট টাইম : ০৭:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
আলম মৃধা, নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি :

আলম মৃধাঃ

 

নরসিংদী সরকারি কলেজে বিভিন্ন ফি খাতে আদায়কৃত অর্থের ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে কলেজের প্রফেসর মোশতাক আহমেদের বিরুদ্ধে। কলেজের ব্যবস্থাপনা, বিবিধ, ছাত্র সংসদ, চিকিৎসা, অত্যাবশ্যকীয় কর্মচারী, পরিবহন ও উন্নয়ন—এই সাতটি খাত থেকে প্রতি বছর প্রায় ৩ কোটি ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা আদায় করা হলেও এর সঠিক হিসাব-নিকাশ পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

 

একাধিক সূত্রে জানা যায়, উল্লিখিত সাতটি খাত থেকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হলেও সেই অর্থ সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যয় করা হয় না। অভিযোগ রয়েছে, গত চার বছরে এসব খাত থেকে আদায়কৃত প্রায় ১২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এসব অর্থের সুনির্দিষ্ট হিসাব কলেজের কোনো রেকর্ডে পাওয়া যাচ্ছে না বলেও দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা।

 

এ ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোশতাক আহামেদ ভূঁইয়া ও হিসাবরক্ষক আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকা ও জাতীয় দৈনিকে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

 

অভিযোগকারীরা দাবি করেন, অধ্যক্ষের ভাই আওয়ামী লীগের আমলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় সেই প্রভাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

 

তবে এত অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশের পরও এখনো পর্যন্ত অধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজ নিজ পদে বহাল রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও কোনো কার্যকর তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

এ বিষয়ে জানতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-এর মহাপরিচালক প্রফেসর ড. এহতেশামুল হকের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

পরবর্তীতে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিব অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দীন আল মাহমুদ সোহেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনিও ফোন রিসিভ করেননি।

 

এদিকে কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, ফি বাবদ নেওয়া অর্থের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ এবং অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।