আলিফ হোসেনঃ
রাজশাহীর তানোরের কামারগাঁ ইউনিয়নকে (ইউপি)বাল্যবিয়ে ও শিশুশ্রম মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (২২ জুন)সকালে কামারগাঁ ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ’শিশুদের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ি, গ্রাম থেকেই শুরু হোক বাল্যবিয়ে মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন’ এই প্রতিপাদ্যকে সমনে রেখে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এপির সহযোগিতায় ও কামারগাঁ ইউনিয়ন পরিষদ, শিশু যুব ফোরামের বাল্যবিয়ে ও শিশু শ্রমমুক্ত ঘোষণার আয়োজন করে।
এ সময় উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুফি কামাল মিন্টুর সভাপতিত্বে উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ওয়ার্ল্ড ভিশন প্রোগ্রাম অফিসার নিকোলাস ঢালী, ঝুনু বৈদ্য (লিমা), কামারগাঁ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রঞ্জন কুমার, সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা রুবেল হোসেন, ইউপি সদস্য তোফায়েল আহমেদ, সফিকুল ইসলাম রাজা, নারী ইউপি সদস্য জামেলা খাতুন, স্বপ্নচারী সমাজ উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি রুবেল হোসেন মিন্টু, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর ফ্যাসিলিটেটর হাফিজুর রহমান, শাহিন আলম, হাবিবুর রহমান, কিশোর কিশোরী, সাংবাদিক, ইমাম, কাজী ও পুরোহিত পালকসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গ্রাম উন্নয়ন কমিটির সদস্যবৃন্দ।
প্রধান অতিথি শহিদুল ইসলাম বলেন, বাল্যবিয়ে ও শিশুশ্রম শুধু একটি সামাজিক সমস্যা নয়, এটি শিশুদের অধিকার হরণের শামিল। এসব প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নেতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক শিশুর নিরাপদ শৈশব ও শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। কোনো শিশুকে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে যুক্ত করা কিংবা অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
চেয়ারম্যান সুফি কামাল মিন্টু বলেন, বাল্যবিয়ে একটি সামাজিক ব্যাধি। এর কারণে শিশুরা বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষা থেকে, ভোগ করতে হচ্ছে মানসিক ও শারীরিক অসুস্থতা। স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির নানা ধরণের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত হাজারো কিশোরী। বাল্যবিয়ের ফলে অল্প বয়সেই গর্ভধারণ করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হয় কিশোরীদের। বেশির ভাগ সময় পুষ্টিহীনতায় ভুগতে থাকে মা ও শিশু দুজনেই। এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে প্রয়োজন বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা আর প্রতিরোধে প্রয়োজন সবার সচেতনতা।
প্রোগ্রাম অফিসার ঝুনু লিমা বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন ২০১৭ এর মূল বিষয়সমূহ সকলের কাছে উপস্থাপন করে বলেন, বাল্যবিয়ে ও শিশুশ্রম আমাদের দেশের একটি প্রধান সমস্যা যা ইতিমধ্যে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বা প্রতিবেদনে আমরা দেখতে পাই। বাংলাদেশ সরকারও উক্ত বিষয়ে সর্তক অবস্থানে আছে এবং তা প্রতিরোধে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। তিনি সকলকে আহ্বান করে প্রত্যেকের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ প্রতিরোধ করার জন্য আহবান জানান।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি 
আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি 




















