এস. এম সালমান হৃদয়ঃ
জনগণের পাশে থাকা, দুঃসময়ে হাত বাড়িয়ে দেওয়া আর দায়িত্বকে নিছক পদ নয়—বরং আমানত হিসেবে ধারণ করাই একজন আদর্শ জনপ্রতিনিধির পরিচয়। যিনি শীত-গরম উপেক্ষা করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে থেকে কাজ তদারকি করেন, গরিব-অসহায় মানুষের কষ্ট বুঝে নিঃশব্দে পাশে দাঁড়ান এবং দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য সমানভাবে কাজ করেন—এমন নেতৃত্বই আজ এরুলিয়া ইউনিয়নের মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
এই মানবিক ও কর্মঠ নেতৃত্বের নাম মোঃ আতিকুর রহমান আতিক। তিনি বর্তমানে এরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-পল্লী বিষয়ক সম্পাদক, বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক।
২০২১ সালে অটো সিএনজি মার্কায় বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই চেয়ারম্যান আতিকুল রহমান আতিক নিরলসভাবে ইউনিয়নের প্রতিটি নাগরিকের দোরগোড়ায় নাগরিক সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন। তার রাজনীতির মূল দর্শন—জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করা।
এরুলিয়া ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের কাছে তিনি একজন ভরসার মানুষ। এমন একজন চেয়ারম্যান, যার কাছে নির্দ্বিধায় মনের কথা বলা যায়। গরিব, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দুঃখ-কষ্ট বুঝে তিনি সবসময় পাশে দাঁড়ান। ইউনিয়নের অনেক বাসিন্দা জানান, আজ পর্যন্ত কেউ তার কাছ থেকে খালি হাতে বা নিরাশ হয়ে ফেরেনি।
চেয়ারম্যান আতিকুল রহমান আতিক কাগুজে দায়িত্বে সীমাবদ্ধ নন। প্রতিটি উন্নয়নমূলক কাজে তিনি নিজে উপস্থিত থেকে তদারকি করেন। শীত কিংবা গরম—কোনো কিছুই তাকে মানুষের কাজ থেকে দূরে রাখতে পারেনি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি কাজের স্থানে অবস্থান করেন এবং কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই থাকেন। এই নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
শিক্ষা বিস্তারে তার অবদান উল্লেখযোগ্য। এরুলিয়া ইউনিয়নের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর রাখা এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে তিনি শিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে চেষ্টা করছেন।
শুধু ইউনিয়নের ভেতরেই নয়, ইউনিয়নের বাইরেও তার সামাজিক ও রাজনৈতিক ভূমিকা প্রশংসিত। এরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, তিনি কখনো ভেদাভেদ করেননি। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে, সমানভাবে কাজ করেছেন। দলীয় ঐক্য ও সম্মান বজায় রেখে কাজ করায় নেতাকর্মীরা তাকে নিয়ে গর্ববোধ করেন।
চেয়ারম্যান আতিকুল রহমান আতিক বলেন, “ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষের ভালোবাসাই আমার প্রতিদিনের কর্মময় জীবনের প্রেরণা। দীর্ঘ ১৭ বছরে বগুড়ার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। বিএনপির ঘাঁটি এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পিতৃভূমি হওয়ায় স্বৈরাচার সরকার বগুড়াকে অবহেলা করেছে। সীমিত বরাদ্দ নিয়েই আমাদের কাজ করতে হয়েছে।”
দুর্নীতির প্রশ্নে তিনি আপসহীন অবস্থানের কথা তুলে ধরে বলেন, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মাতৃকালীন ভাতাসহ সকল ধরনের ভাতা কার্ড প্রদানে কোনো অর্থ নেওয়া হয় না। প্রতিটি আবেদন তিনি নিজে যাচাই-বাছাই করেন। কেউ ঘুষ বা অর্থের বিনিময়ে কার্ড দেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি তা বাতিল করেছেন বলেও জানান।
তার ভাষায়, “আমি এই ইউনিয়নেরই সন্তান। প্রকৃত গরিব ও অসহায় মানুষের হক যেন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়—এটাই আমার একমাত্র লক্ষ্য।” তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখাও তার অন্যতম পরিকল্পনা। তিনি মনে করেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায় অভ্যস্ত হলে তরুণরা মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে থাকবে। খেলাধুলার মাধ্যমেই দেশ ও জাতির উন্নয়ন সম্ভব এবং এলাকার সুনাম বৃদ্ধি পাবে।
চেয়ারম্যান আতিকুল রহমান আতিক জানান, তিনি তার সাধ্যমতো বাকি জীবন এরুলিয়া ইউনিয়নের মানুষের সেবায় নিয়োজিত রাখতে চান। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনাই তার রাজনৈতিক পথচলার প্রধান প্রেরণা।
জনগণের ভালোবাসা, নিরলস পরিশ্রম ও মানবিক নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি আজ দল-মত নির্বিশেষে এরুলিয়া ইউনিয়নে মানুষের সেবায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
প্রিন্ট

সদরপুরে নিম্ম আয়ের মানুষের ভীড় বাড়ছে ফুটপাতের পুরানো শীতবস্ত্রের দোকানে 
এস. এম সালমান হৃদয়, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি 





















